ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ
Nagad desktop

আসন্ন নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
আসন্ন নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসংক্রান্ত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গণি, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ধাপে ধাপে সরকারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু আর ফাইনাল হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ইসির নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসির নির্দেশ মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়ে কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নির্বাচনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় লক্ষ রেখে আসন্ন নির্বাচনে বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে; যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে। 

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের এখন মূল কাজ নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করা। জাতির জন্য এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এর দায়িত্ব সরকারের। বিশাল এই কাজ শেষ করে নির্বাচনকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।

তিনি বলেন, সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে তাদের পরস্পরের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

আসন্ন নির্বাচনে দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছে। সরকারকেও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব, বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। আশা করি, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।’

বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করবেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি উদ্ধার করা হয়েছে, যা লুটকৃত অস্ত্রের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ থাকায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের মাটির নিচে পর্যাপ্ত নিজস্ব জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও বিগত দেড় দশকের লুটেরা অর্থনীতির কারণে একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি তৈরি করা হয়েছিল। এই ভুল ও লুটেরা নীতির কারণেই দেশ এখন বড় ধরনের জ্বালানিসংকটের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক ইনকিলাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতকে সচল করার জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই মুহূর্তে চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।

এই প্রকল্পের পুরো অর্থায়নই রাশিয়ার ঋণ থেকে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংগত কারণেই জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে রাশিয়া আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলতে হয়। আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। আবার রেমিট্যান্স আয়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে আমাদের আমদানির প্রধান উৎ ভারত চীন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বড় সহযোগী জাপান।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের অর্থনীতিকে এমন বহু অংশীদারদের সঙ্গে পথ চলতে হয়, সেই দেশের রাজনীতিতেও অবশ্যই বহুমুখী চিন্তার সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন প্রযুক্তির এক নতুন অংশীদার হাজির হয়েছে, যা মানব সভ্যতা এর আগে কখনো দেখেনি। বর্তমানে বিশ্বনেতারা যখনই দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বৈঠকে বসেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ সেখানে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, ইতিহাসের বেশির ভাগ ভালো-মন্দ এতদিন মানুষ একাই করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে মানুষের পাশাপাশি ভালো ও মন্দের যৌথ দায়িত্ব পালন করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেট নিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সাম্য ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার এই নতুন অভিযাত্রায় দৈনিক ইনকিলাব অতীতে যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে মন্ত্রী বিশ্বাস করেন।

ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, সাবেক ধর্মমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এসএন/

ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের আটতলা থেকে আসমা ঝিলিক (৩৫) নামে এক অভিনেত্রীকে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী সাইফুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 শনিবার (১৩ জুন) ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসাইন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, অভিনেত্রী আসমা ঝিলিককে হত্যা করা হয়েছে, নাকি কোনো দুর্ঘটনাবশত পড়ে মারা গেছেন, সেটি তদন্তের পর বলা যাবে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা থেকে পড়ে মারা যান ঝিলিক। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছে তার স্বামী। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই মোজাম্মেল হক।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর রোগীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এই হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে আগে থেকে ভর্তি চার শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরাও চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগী স্থানান্তরের নির্দেশে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। কিন্তু আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। এটি সবার জন্য একটি শিক্ষা (পানিশমেন্ট) হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকেই হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসার আশায় এসে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হয়েছে। যারা ভর্তি আছেন, তাদের অনেকেই চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। তবে আইসিইউ, এনএসইউ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিল করা কোনো সমাধান নয়। সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা উচিত ছিল। তা না করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। আদ্-দ্বীনে যেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ডেলিভারি করানো যায়, অন্য হাসপাতালে সেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগে। আমরা সাধারণ মানুষ এ হাসপাতালের পক্ষে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের ঢাকার ছয়টি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে সেবা পাওয়া কঠিন। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার উচ্চমূল্য বহন করাও অনেক পরিবারের জন্য অসম্ভব।
বর্তমানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চার শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে শুধু এনএসইউতেই ৪৬ জন রয়েছেন। লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে এখন রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল সবার জন্য শিক্ষা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। এটি সবার জন্য একটি শিক্ষা (পানিশমেন্ট) হবে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আজ আদ্-দ্বীনের পক্ষে কথা বলেন।’

বিতর্ক জুড়েছেন শিশির মনির
এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা ও ধোঁয়াশা। সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেছেন, কর্তৃপক্ষ পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি, বরং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করেছে।

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স নম্বরসহ কাগজপত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স (এইচএসএম ৪৩১০০৫৮) বাতিল করেনি কর্তৃপক্ষ। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স (এইচএসএম ৪৫১০০৫৯)। এটি কি অবহেলা নাকি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত, তা কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’ তিনি জানান, আইসিইউ ও ডেলিভারি রোগীদের বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করা হবে।

পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টায় পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

পরে জনতার উদ্দেশ্য তিনি বলেন,  ২৫ বছর পূর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ তারই দল বিএনপি সরকার ফের এই পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে একটি কথা বারবার প্রমাণিত হয় যে বিএনপির যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তখন জনগণের জন্য কাজ করে দেশের কল্যাণে কাজ করে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে না তখনও দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। জনমানুষের কথা বলে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ক্ষমতায় থাকুক আর নাই থাকুক বিএনপির প্রধান বিষয় দেশ ও মানুষের স্বার্থ। আর এটিই বিএনপি একমাত্র লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞা।’ 

এই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

রিফাত/

রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস
ছবি: এআই

নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতিবছর ১৪ জুন সারা পৃথিবীতে পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এটি আসলে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মানবিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক বৈশ্বিক আন্দোলন। পৃথিবীর ছোট-বড় সব মহাদেশেই দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সাধারণত থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্তের প্রয়োজনে রক্তই দিতে হয়। দিবস উপলক্ষে নিরাপদ ও নিয়মিত রক্তদানের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রক্তগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে লাখো রোগীর মাঝে ছড়িয়ে যাক দাতার রক্তের মানবিক স্পর্শ- এমন প্রত্যাশা নিয়ে এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- One Drop of Humanity. Give Blood. Save Lives. যার সরল বাংলা করলে দাঁড়ায়: 'প্রতি ফোঁটায় মানবতা, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান' ।

দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছা রক্তদানের মানবিক আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল, রক্তদান সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্তদান ক্যাম্প, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে স্বেচ্ছা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। বিশেষভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম, রয়েছে নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং তরুণদের রক্তদানে সম্পৃক্তির উদ্যোগ। 

রক্তদানের জন্যে একজন দাতার ঐকান্তিক ইচ্ছাই যথেষ্ট। ধর্মীয়ভাবেও এ দান অত্যন্ত পূণ্যের কাজ। আর সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে রক্তচাহিদা পূরণে সঙ্ঘবদ্ধ সচেতনতাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। একটি জনগোষ্ঠীর অল্প কিছু অংশ সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন তাহলেই রক্তের অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু হয় না। নিয়মিত ছোট্ট এই দান নতুন করে হাসি ফোটাতে পারে লাখো মানুষের জীবনে। আমাদের দেশে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরতা দিন দিন কমছে, স্বজনদের দানের পরিমাণও বেড়েছে। বাড়ছে তরুণ রক্তদাতা। 

বাংলাদেশে বছরে রক্তের চাহিদা আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক ইউনিট। অথচ দেশের জনসংখ্যার তুলনায় রক্তের এ চাহিদা একেবারেই নগণ্য। তা হলেও এখনও আমরা স্বেচ্ছা রক্তদানে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। রক্তের প্রয়োজন মেটাতে যেহেতু কেবল রক্তই দিতে হয়; সেহেতু ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে স্বেচ্ছা রক্তদাতা বৃদ্ধিই রক্তের এ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

রক্তচাহিদা পূরণে আমাদের দেশে স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, বাঁধন, রেড ক্রিসেন্টসহ রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এককভাবে রক্তদানের চেয়ে ব্লাড ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে পারলে এক ইউনিট রক্তকে একাধিক উপাদানে ভাগ করে একাধিক রোগীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়। এ বিষয়ে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণ রক্তদাতা তৈরি ও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রক্তের চাহিদা পূরণের কাজটি সহজ হয়ে যাবে বলেই সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।   

রক্তদানের উপকারিতা :
শারীরিক মানসিকভাবে আপাত সুস্থ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। নিয়মিত রক্তদানে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি কমে যায়। এমনকি আত্মিক-আধ্যাত্মিকভাবেও এর উপকার লাভ করেন দাতা। এছাড়া ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমাসহ তারুণ্য ধরে রাখে। সামাজিকভাবে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরশীলতা কমানো, রক্ত নিয়ে ব্যবসা কমানো, সমাজে ঘাতক রোগের বিস্তার কমানোসহ, সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন বৃদ্ধি করতেও রক্তদানের ভূমিকা রয়েছে। রক্তদানের মাধ্যমে বিনা খরচে চার মাস পরপর ৫টি স্ক্রিনিং টেস্ট করে নিজের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অপার্থিব আনন্দের অনুভূতি উপভোগ করা যায়। 

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মহৎ সৎকর্ম :
সকল ধর্মেই মানব কল্যাণ একটি বড় এবাদত। রক্তদান উত্তম সৎকর্ম। স্রষ্টার সস্তুষ্টি অর্জনে এটি ভালো কাজের অন্যতম উদাহরণ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন কেউ নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যখন কেউ কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ বাইবেলে বলা হয়েছে, সৎকাজ সম্পর্কে জানার পরও তা থেকে বিরত থাকা পাপ। (যাকোব ৪:১৭)। ঋগবেদে বলা হয়েছে, নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব।

যারা রক্ত দিতে পারবেন না :
সাধারণত ৫ টিটিআই বাহক, থ্যালাসেমিয়ার রোগী, লিউকেমিয়ার রোগী, হাইপোপ্লাস্টিক এনিমিয়া, হিমোফিলিয়া, হৃদরোগ, স্নায়ুবিক রোগ, থাইরোটকসিকোসিস, এমফাইসেমা, ইনসুলিন নির্ভর (টাইপ-১) ডায়াবেটিস রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন না। 

এক ব্যাগ রক্তে একাধিক সেবা:
রোগভেদে একেক রোগীর জন্যে রক্তের একেক উপাদান লাগে। রক্তদানের পরপরই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে রক্ত উপাদানগুলো যথাযথভাবে পৃথক করা গেলে এটি সম্ভব। এক্ষেত্রে রক্তদাতাকে সরাসরি ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো উন্নত ল্যাবে নিরাপদ ও দ্রুত সেবাদানের নিমিত্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে একব্যাগ রক্তকে ৮টি উপাদানে আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন- ১. প্লাটিলেট কনসেনট্রেট ২. ফ্রেশ প্লাজমা ৩. ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ৪. প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা ৫. প্লাটিলেট পুওর প্লাজমা ৬. প্রোটিন সলিউশন ৭. রেড সেল কনসেনট্রেট এবং ৮. ক্রায়ো-প্রিসিপিটেট। তার মানে এক ব্যাগ রক্তকে উপাদানভেদে কয়েকজন রোগীকে দেয়া সম্ভব।   

রক্ত শুধু একটি জৈবিক উপাদান নয়। নিরাপদ রক্ত মানবিকতা, সমমর্মিতা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য প্রতীক। স্বেচ্ছা রক্তদানে মানবতার এই ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। 

এসএন/