ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

সবার ইশতেহারেই জনকল্যাণের কথা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
সবার ইশতেহারেই জনকল্যাণের কথা
ছবি: খবরের কাগজ

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে ইশতেহার উপস্থাপন করেছে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। ইশতেহারে দলগুলো দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক সংস্কার, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানসহ নানা অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। তবে মোটাদাগে এবারের ইশতেহারগুলোয় ফুটে উঠছে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার।

বিএনপির ইশতেহার: ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয়ে নির্বাচনের ইশতেহার দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারের স্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’ ইশতেহারের পাঁচটি ভাগে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব এবং ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বিএনপি। ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের অঙ্গীকার করেছে দলটি। এবারের ইশতেহারে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি—এই তিন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে বিএনপি।  

৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু, ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতার জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপির ইশতেহারে চমক হলো—বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ আইন বাস্তবায়ন, প্রবাসী কার্ড, বেসরকারি খাতের ব্যক্তিদের জন্য ‘পেনশন ফান্ড গঠন’, সেনাবাহিনীর জন্য ‘ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পে’ নীতি চালু করা এবং স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান ও স্কুলে ফ্রি পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

৫১ দফায় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত, সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা, ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারভাতা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, মনোরেল, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদের প্রস্তাব, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং উচ্চকক্ষে ১০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন’, ন্যায়পাল নিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়রানি ও জটিলতা নিরসনে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪’ বাতিল, সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, ঘরে-বাইরে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক নগরী করা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহারকে কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

জামায়াতের ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি
একটি ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ইশতেহারে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন, শিক্ষা সংস্কার, সুশাসন, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারীর মর্যাদা রক্ষাসহ নানা বিষয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদ, শরীফ ওসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি) ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামের শহিদ অগ্রসৈনিক বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। 

৪১ দফায় শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লবের শহিদ এবং যোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ ও পুনর্বাসন করা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করা, সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসানো,  সরকারের আয়-ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ চালু, দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা, মন্ত্রী ও এমপিসহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ, জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস ও গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু, সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বাড়ানো, নারীর সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন, উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রকৃত হিজড়া শনাক্ত করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা প্রভৃতি।

২৬ প্রতিশ্রুতি হলো—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন; যুবকদের ক্ষমতায়ন; মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন; সরকারি চাকরিতে বিনামূল্য আবেদন ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ; আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও টেকসই স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ; তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর; কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহযোগিতা বাড়ানো; বিগত সময়ের খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত; জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়ন; আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত; শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনা;  নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্পমূল্য আবাসন নিশ্চিত; চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা প্রভৃতি।

ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’: ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। ইশতেহারকে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা—এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৩০টি প্রতিশ্রুতি ও ২৮টি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র ইসলামি শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

ইশতেহারে রয়েছে—জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর) প্রবর্তন, একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত হওয়ার অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা, দুর্নীতি দমনে ‘ন্যায়পাল’ প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর, অর্থনৈতিক ও খাতভিত্তিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে পার্লামেন্টারি স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা করা, ১৮-২৪ বছর বয়সীদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা এবং ‘ন্যাশনাল জব পোর্টাল’ চালু, কৃষকদের জন্য ‘কৃষিকার্ড’ এবং ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, হতদরিদ্রদের জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড চালু করা এবং নারী পোশাক কর্মীদের জন্য আবাসন এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন ‘পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

ইসলামী আন্দোলন ইশতেহারে দাবি করেছে, কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম চরমোনাই পীর বলেন, ক্ষমতায় গেলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে আদালত, ইনসাফ ও নাগরিকের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে।

এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার 
তারুণ্য ও মর্যাদার ৩৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রাধান্য পেয়েছে পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বয়স ১৬ বছর করা, সিংহভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, ডিজিটাল হেলথ কার্ড প্রবর্তন, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রিজার্ভ ফোর্স তৈরি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্বাধীন কমিশন গঠন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত, পে-স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি, ১ কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে ট্রাকে লাইনে দাঁড়িয়ে নয়; বরং নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী গড়ে তোলা, প্রতিটি জেলায় অত্যাধুনিক সুবিধা-সংবলিত আইসিইউ ও সিসিইউয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রভৃতি। 

জাপার ইশতেহারে ২২ দফা প্রতিশ্রুতি
‘সুশাসনের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ২২ দফার ইশতেহার দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বেকার ভাতা, বিচার বিভাগের সংস্কার এবং দেশের শাসন কাঠামো বদলে দিয়ে আটটি প্রদেশ গঠনের মতো বৈপ্লবিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে সেখানে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান আটটি বিভাগকে আটটি প্রদেশে রূপান্তর করা হবে। প্রদেশগুলোর নাম হবে—উত্তরবঙ্গ, বরেন্দ্র, জাহাঙ্গীর নগর, জালালাবাদ, জাহানাবাদ, চন্দ্রদীপ, ময়নামতি এবং চট্টলা প্রদেশ। কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ফেডারেল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করা হবে এবং ঢাকা থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সরকারি দপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভাতা প্রদান, প্রতিটি উপজেলায় ‘কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’-এর দপ্তর স্থাপন এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু, মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করা, মাদরাসা শিক্ষার মানকে সাধারণ শিক্ষার (এসএসসি, এইচএসসি, বিএ, এমএ) সমপর্যায়ে নিয়ে আসা, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা, নিবর্তনমূলক ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করা’, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, সব নাগরিকের জন্য ‘ইউনিভার্সেল হেলথ ডেটাবেজ’ তৈরি করা এবং কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপা। 

সিপিবির ১৮ দফা নির্বাচনি ইশতেহার  
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত পথে এগিয়ে নিতে সিপিবি ‘ব্যবস্থা বদলের নির্বাচনি ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে। ১৮ দফার এই ইশতেহারকে যুক্তফ্রন্টের ২৯ দফা ‘জনতার সনদ’-এর পরিপূরক এবং সমাজতন্ত্র অভিমুখী একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। 

১৮ দফার মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব দমনমূলক আইন বাতিল, ছয় মাসের মধ্যে সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মুক্ত করা, পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করা, দুর্নীতি উচ্ছেদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, সিপিবি নেতাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারক করতে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে।

শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১২ এএম
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন
ছবি: সংগৃহীত

আবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিমানবন্দরের কার্গো শেডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এছাড়াও প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও নিরূপন করা যায়নি।

এসএন/

শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০৪ এএম
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
শূন্যরেখায় নারী-পুরুষ-শিশু। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ৬ শিশুসহ ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার তীব্র চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও সতর্ক পাহারার মুখে বিএসএফের এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইনের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিএসএফ সীমান্ত থেকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিলেও দুদিন ধরে ৬ শিশুসহ ওই ২৮ জন অসহায় নারী-পুরুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর অবস্থায় দিন পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র রোদ, রাতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টি এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তাদের স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার চিত্র নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। বেশ কয়েক দিন ধরেই এই অপচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনের নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাভাষী মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

গত কয়েক দিনে ঝিনাইদহ, যশোর, কুড়িগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে আরও ৬০ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার ভোররাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) আওতাধীন বড়বাড়ি বিওপির সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষকে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে সরে যায়। বর্তমানে তারা শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন। ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে টহল জোরদার রয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন (৩ পুরুষ, ৮ নারী) এবং পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জনকে (৫ পুরুষ, ৫ নারী) বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি দ্রুত গিয়ে তা প্রতিরোধ করে। একই দিন ভোর সাড়ে ৫টায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২৫ এবং ৯২৭/৭-এস-এর কাছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি মাইকিং করে সতর্ক করলে তারা ভারতের ভেতরেই বিচরণ করতে থাকে। 

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৮ নম্বর পিলার এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা এই ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেন। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তবে পাশের হাঁপানীয়া বিওপির টহল দল তাদের শূন্যরেখায় আটকে দেয়। বর্তমানে তারা ৩৭ নম্বর পিলার এলাকার শূন্যরেখায় রয়েছেন। দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলা হলেও তারা এই ১৭ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিজিবি অধিনায়ক স্পষ্ট জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, সীমান্তে বিএসএফের সহায়তায় পুশইনের দুটি পৃথক চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, গত বুধবার বিএসএফ পুশইনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরের রাতেই সীমান্তে প্রত্যক্ষ পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়, যা বিজিবির কারণে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ গত রাতেও জিরো লাইনে সন্দেহভাজন চলাচল দেখায় বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী মিলে সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেয়। 

জানা গেছে, এর আগে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েক দফায় অর্ধশতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়, যাদের অধিকাংশকেই বিজিবির তৎপরতার কারণে বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একইভাবে যশোরের পুটখালী সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে নারী ও শিশুদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার সময় বিজিবি তাদের আটক করে। আটকা পড়া এই মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি বা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। 

এই পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বারবার দিল্লির কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, ভারত যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি সেখানে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তবে তাকে জোরপূর্বক সীমান্তে পুশইন করা যাবে না। শনাক্ত হওয়া যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত পার করে দেওয়ার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফেরত পাঠানো উচিত। বাংলাদেশ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সীমান্ত চুক্তি বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশুকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৫-আর পিলারের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই পুশইনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ওই ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেন। 

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বৃহস্পতিবার প্রথমে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পতাকা বৈঠকে তারা পুশইনের বিষয়টি স্বীকার করে নেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই ২৮ জনকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে ওই ২৮ জন শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সবাইকে ভিজতে দেখা গেছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিজিবির রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএসএফের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের জানানোর কথা ছিল। তারা আমাদের জানালে আমরাও আমাদের করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কিছু জানায়নি। এমন অবস্থায় সীমান্তে রাতদিন সার্বক্ষণিক নজরদারি ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইন বন্ধের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ঢাকা ভারতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেই তাকে সরাসরি সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি বিধি ‘ট্রাভেল পারমিট’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি বিধি অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে বা অবস্থান করলে তাকে ফেরত পাঠানোর একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমত, ভারতে কোনো ব্যক্তি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক হলে দেশটির প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। আদালতের প্রক্রিয়া চলাকালীন বা রায়ের পর ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ বা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ জানাতে হবে। এরপর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও জাতীয়তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই (ভেরিফিকেশন) করবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ওই ব্যক্তি প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের নাগরিক, কেবল তখনই বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে একটি আনুষ্ঠানিক ‘ট্রাভেল পারমিট’ বা বিশেষ ভ্রমণ অনুমতিপত্র ইস্যু করবে। এই ট্রাভেল পারমিট ইস্যু হওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট চেকপোস্ট বা ল্যান্ড পোর্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর মানব পাচার প্রতিরোধ চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো নারী বা শিশু পাচারের শিকার হয়ে ভারতে গিয়ে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের বিশেষ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভারতের ওপর বর্তায়।

কিন্তু বিএসএফ এসব আইনি বিধির তোয়াক্কা না করে আইনি চ্যানেলের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রাতের অন্ধকারে বা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জোরপূর্বক পুশইনের সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নিচ্ছে। এই একতরফা নীতির কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের কান্নায় জিরো লাইনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ৬টি শিশুর কান্না আর নারীদের আকুতি স্থানীয় সীমান্তবাসীকেও ব্যথিত করে তুলেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিচারহীনভাবে কোনো মানুষকে এভাবে জিরো লাইনে বন্দি করে রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।

মিডিয়া পার্টনার খবরের কাগজ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী
ছবি: খবরের কাগজ

উৎসবমুখর পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ফেসবুক-ভিত্তিক অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ‘SSC 2002 & HSC 2004 Bangladesh’-এর ঈদ-পরবর্তী জমকালো মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি রেস্তোরায় এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের আমেজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, গল্প আর স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানটি এক উপভোগ্য সন্ধ্যায় পরিণত হয়। 

ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপনে কেক কাটার পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিল বন্ধুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ গানের আসর এবং আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। আড্ডার মাঝে ছিল মৌসুমী ফল খাওয়ার আয়োজন! আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে চলে বন্ধুদের আড্ডা, খাওয়া, ফটোসেশন। আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল খবরের কাগজ।

১৪ বছর পূর্তির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মিলনমেলার মূল আকর্ষণ ছিল গ্রুপের আসন্ন পূর্তি উৎসবের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা। আগামী দিনের এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে সদস্যরা তাদের চমৎকার সব ভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রুপের অন্যতম দায়িত্বশীল মডারেটর চৌধুরী আদিব রহমানের কাছে তুলে ধরেন। গ্রুপকে ভালোবেসে এর অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

সামাজিক কল্যাণে অনন্য অবদান, শৈশবের বন্ধুদের পারস্পরিক যোগাযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি এই অনলাইন কমিউনিটিটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

গ্রুপটির উল্লেখযোগ্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে: শীতবস্ত্র বিতরণ: তীব্র শীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ। উৎসবের খুশি ভাগাভাগির কর্মসূচি হিসেবে ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ। চিকিৎসা সেবা কর্মসূচিতে দেশজুড়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিনামূল্যে হেলথ ক্যাম্প বা স্বাস্থ্যসেবা শিবিরের আয়োজন।

ব্যাচমেটদের মধ্যকার আজীবন বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি মানবিক কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে এই আনন্দঘন মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। এসএসসি ২০০২ এবং এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের ঢাকার, ঢাকার বাইরের এবং প্রবাসী কিছু সংখ্যক বন্ধুর উদ্যোগে এ আয়োজন হয়।

দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৪৭ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত এই জনপ্রিয় ও সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপ অনেক বছর থেকেই বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বিশেষ করে রক্তদান কর্মসূচি, খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সারা দেশে বিভিন্ন দিবসে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বন্ধুরা ঈদে দেশে আসায় এই আয়োজন করা হয়।

এসএন/

মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

খেলাধুলাকে পেশাগত স্বীকৃতি প্রদান, নতুন প্রজন্মকে মাদক ও প্রযুক্তি আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং একটি সুস্থ, মেধাবী ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনের লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। 

গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামী জুনের পর আরও ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যসেবা, বিমা সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম খেলাধুলা। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা যেমন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে, তেমনি মানসিক বিকাশও ঘটবে এবং মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েরা সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে।

ক্রীড়া কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে দুই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংস্থার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর বিকেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী শহীদ শাহজাহান মাঠে শহিদ জিয়া স্মৃতি উন্মুক্ত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এদিকে দুপুরে পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের ভায়ারদিঘিসংলগ্ন খরনা এলাকায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তান ও যুবসমাজ যদি খেলার মাঠে থাকে, তাহলে তাদের ডিভাইস আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। একটি সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পটিয়ায়ও সেই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ও বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন দৃশ্যমানভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে পটিয়া স্টেডিয়ামের জমি অধিগ্রহণ করেছি। স্টেডিয়াম নির্মাণের বাজেটও অনুমোদিত হয়েছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। তবে এটি শুধু সরকারের সম্পদ নয়, স্থানীয় জনগণেরও সম্পদ। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১২ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৮ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ৮৬১ টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড।

হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ এএম
হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি
ছবি: সংগৃহীত

হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৬৯৪ জন দেশে ফিরেছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত হজের ফিরতি ফ্লাইট এসেছে ৭১টি। এসব ফ্লাইটে সরকারি মাধ্যমের ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমের ২৬ হাজার ৩৬৬ জন দেশে ফিরেছেন।

এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৪টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৯৮১ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২৮টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৩৩১ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৯টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৭০০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৬৮২ জন হাজি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ মে। হজ শেষে ৩০ মে থেকে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। 

সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৬ বাংলাদেশি মারা গেছেন।