বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে ইশতেহার উপস্থাপন করেছে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। ইশতেহারে দলগুলো দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক সংস্কার, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানসহ নানা অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। তবে মোটাদাগে এবারের ইশতেহারগুলোয় ফুটে উঠছে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার।
বিএনপির ইশতেহার: ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয়ে নির্বাচনের ইশতেহার দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারের স্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’ ইশতেহারের পাঁচটি ভাগে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব এবং ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বিএনপি। ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের অঙ্গীকার করেছে দলটি। এবারের ইশতেহারে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি—এই তিন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে বিএনপি।
৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু, ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতার জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
বিএনপির ইশতেহারে চমক হলো—বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ আইন বাস্তবায়ন, প্রবাসী কার্ড, বেসরকারি খাতের ব্যক্তিদের জন্য ‘পেনশন ফান্ড গঠন’, সেনাবাহিনীর জন্য ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’ নীতি চালু করা এবং স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান ও স্কুলে ফ্রি পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
৫১ দফায় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত, সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা, ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারভাতা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, মনোরেল, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদের প্রস্তাব, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং উচ্চকক্ষে ১০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন’, ন্যায়পাল নিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়রানি ও জটিলতা নিরসনে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪’ বাতিল, সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, ঘরে-বাইরে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক নগরী করা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহারকে কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জামায়াতের ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি
একটি ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ইশতেহারে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন, শিক্ষা সংস্কার, সুশাসন, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারীর মর্যাদা রক্ষাসহ নানা বিষয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদ, শরীফ ওসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি) ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামের শহিদ অগ্রসৈনিক বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।
৪১ দফায় শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লবের শহিদ এবং যোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ ও পুনর্বাসন করা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করা, সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসানো, সরকারের আয়-ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ চালু, দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা, মন্ত্রী ও এমপিসহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ, জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস ও গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু, সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বাড়ানো, নারীর সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন, উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রকৃত হিজড়া শনাক্ত করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা প্রভৃতি।
২৬ প্রতিশ্রুতি হলো—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন; যুবকদের ক্ষমতায়ন; মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন; সরকারি চাকরিতে বিনামূল্য আবেদন ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ; আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও টেকসই স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ; তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর; কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহযোগিতা বাড়ানো; বিগত সময়ের খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত; জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়ন; আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত; শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনা; নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্পমূল্য আবাসন নিশ্চিত; চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা প্রভৃতি।
ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’: ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। ইশতেহারকে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা—এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৩০টি প্রতিশ্রুতি ও ২৮টি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র ইসলামি শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইশতেহারে রয়েছে—জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর) প্রবর্তন, একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত হওয়ার অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা, দুর্নীতি দমনে ‘ন্যায়পাল’ প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর, অর্থনৈতিক ও খাতভিত্তিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে পার্লামেন্টারি স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা করা, ১৮-২৪ বছর বয়সীদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা এবং ‘ন্যাশনাল জব পোর্টাল’ চালু, কৃষকদের জন্য ‘কৃষিকার্ড’ এবং ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, হতদরিদ্রদের জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড চালু করা এবং নারী পোশাক কর্মীদের জন্য আবাসন এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন ‘পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন ইশতেহারে দাবি করেছে, কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম চরমোনাই পীর বলেন, ক্ষমতায় গেলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে আদালত, ইনসাফ ও নাগরিকের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে।
এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার
তারুণ্য ও মর্যাদার ৩৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রাধান্য পেয়েছে পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বয়স ১৬ বছর করা, সিংহভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, ডিজিটাল হেলথ কার্ড প্রবর্তন, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রিজার্ভ ফোর্স তৈরি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্বাধীন কমিশন গঠন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত, পে-স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি, ১ কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে ট্রাকে লাইনে দাঁড়িয়ে নয়; বরং নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী গড়ে তোলা, প্রতিটি জেলায় অত্যাধুনিক সুবিধা-সংবলিত আইসিইউ ও সিসিইউয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রভৃতি।
জাপার ইশতেহারে ২২ দফা প্রতিশ্রুতি
‘সুশাসনের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ২২ দফার ইশতেহার দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বেকার ভাতা, বিচার বিভাগের সংস্কার এবং দেশের শাসন কাঠামো বদলে দিয়ে আটটি প্রদেশ গঠনের মতো বৈপ্লবিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে সেখানে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান আটটি বিভাগকে আটটি প্রদেশে রূপান্তর করা হবে। প্রদেশগুলোর নাম হবে—উত্তরবঙ্গ, বরেন্দ্র, জাহাঙ্গীর নগর, জালালাবাদ, জাহানাবাদ, চন্দ্রদীপ, ময়নামতি এবং চট্টলা প্রদেশ। কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ফেডারেল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করা হবে এবং ঢাকা থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সরকারি দপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর করা হবে।
এ ছাড়া আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভাতা প্রদান, প্রতিটি উপজেলায় ‘কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’-এর দপ্তর স্থাপন এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু, মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করা, মাদরাসা শিক্ষার মানকে সাধারণ শিক্ষার (এসএসসি, এইচএসসি, বিএ, এমএ) সমপর্যায়ে নিয়ে আসা, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা, নিবর্তনমূলক ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করা’, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, সব নাগরিকের জন্য ‘ইউনিভার্সেল হেলথ ডেটাবেজ’ তৈরি করা এবং কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপা।
সিপিবির ১৮ দফা নির্বাচনি ইশতেহার
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত পথে এগিয়ে নিতে সিপিবি ‘ব্যবস্থা বদলের নির্বাচনি ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে। ১৮ দফার এই ইশতেহারকে যুক্তফ্রন্টের ২৯ দফা ‘জনতার সনদ’-এর পরিপূরক এবং সমাজতন্ত্র অভিমুখী একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৮ দফার মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব দমনমূলক আইন বাতিল, ছয় মাসের মধ্যে সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মুক্ত করা, পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করা, দুর্নীতি উচ্ছেদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, সিপিবি নেতাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারক করতে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে।