দেশে হামের প্রকোপ রোধ এবং তা নির্মূলে রুটিন ইমিউনাইজেশন বা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (ইমিউনাইজেশন) ডা. চিরঞ্জিত দাস।
একই সঙ্গে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুর টিকা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান তিনি৷
দেশের চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও রুটিন টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৩ ও ২৪ সালে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডা. চিরঞ্জিত দাস জানান, বাংলাদেশে হাম কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের ভাইরোলজিস্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসটি আমাদের দেশের মধ্যেই সার্কুলেশনে ছিল। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ক্যাম্প থেকে এটি নতুন করে ছড়িয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি বা 'ইমিউনিটি গ্যাপ' থাকার কারণে এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, আমাদের রুটিন ইমিউনাইজেশনকে স্ট্রেনদেন (শক্তিশালী) করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমানে চলমান ক্যাম্পেইনগুলোতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কেবল সমালোচনা না করে, যার যার অবস্থান থেকে যোগ্য শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।
সঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, টিকা দেওয়া এবং সঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সময়মতো টিকা পাওয়া খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে কমিউনিটিকে মোটিভেট করতে হবে যাতে তারা সচেতনভাবে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করে।
সার্ভেইল্যান্স বা রোগ নজরদারি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে তথ্য পাওয়া এবং ডাটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও বেগবান করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের হাম নির্মূল পরিকল্পনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. চিরঞ্জিত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য হলো দেশকে হামমুক্ত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে ডব্লিউএইচও, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে কেস ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস বা জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
বৈঠকে অন্যান্য বক্তারাও দেশে টিকাদান কর্মসূচির সফলতা ধরে রাখতে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
জয়ন্ত সাহা/অন্তরা