রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৬তম বার্ষিকী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে নগরীর পুরাতন বটতলী রেলস্টেশন চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরাম সদস্য ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, জেলা সদস্য স ম ইউনুস আহমদ জসীম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব মনির হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন কবির, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, বাসদ জেলা সদস্য মহিন উদ্দিন, নুরুল হুদা নিপু, শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম মাস্টার, ফিরোজ আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১০৭ বছর আগে রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণি সংঘটিত সর্বহারা বিপ্লব প্রথম মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র নির্মাণ করে। মহামতি কার্ল মার্ক্সের সেই মহান শিক্ষা নিয়ে কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি গড়ে তোলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। ব্যক্তি মালিকানার সমাজ পাল্টে নির্মাণ করতে হবে সামাজিক মালিকানার মানবিক বিশ্ব। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঘোষণা করে যে শ্রেণিবিভক্ত সমাজে শোষণের উচ্ছেদ ছাড়া বৈষম্য নিরসন ও মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। গণআন্দোলনকে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বাসদ তার জন্মলগ্ন থেকে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন ধারায় লড়াই করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি উপনিবেশিক শোষকদের জনগণ পরাজিত করেছিল কিন্তু সংগঠিত নেতৃত্বের অভাবে শোষিত শ্রেণি বিজয় ধরে রাখতে পারে নাই। ক্ষমতায় এসেছে বুর্জোয়া শ্রেণি ও এর সহযোগীরা। এরা দুর্নীতি ও লুটপাট করে দেশের সম্পদ পাচার করেছে, মেগা প্রকল্পের নামে বিদেশি ঋণের জালে দেশকে বেঁধে ফেলেছে, নিবর্তনমূলক কালো আইনে জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করেছে। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে সংবিধানকে সংশোধন করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সংকুচিত করেছে। তারা শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মুনাফার পণ্যে পরিণত করেছে, বেকারত্ব দূর না করে সস্তায় শ্রমিক পাওয়ার ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
শোষণমুক্তির আশায় ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান ও ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান দলটির নেতারা।
সমাবেশের পূর্বে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার লাইসেন্স ও নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন, সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য কমানোসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিরাজ উদ্দিন/মাহফুজ/