সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘লাল সন্ত্রাসের ডাক’ দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু। তার এমন ঘোষণার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাবির একদল শিক্ষার্থী। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহিন সরকার।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এলাকায় সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং গ্রাফিতি মুছে ফেলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, ‘৮০ ও ৯০-এর দশকের মতো তারা আবারও সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। তারা ডাকসুকে এভাবেই ভণ্ডুল করেছিল ৯০-এর দশকে। আজও সেই সন্ত্রাসীরা আবারও সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা দিচ্ছে। এই সন্ত্রাসীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
স্বাধীনতার পরে প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘লাল সন্ত্রাসের হাত ছিল’ মন্তব্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহিন সরকার বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে ছাত্রলীগ তাদের অনুগতদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। সে জন্য এই বামরা এখনো আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ প্রচার করে যাচ্ছে। মেঘমল্লার বসুদের অপতৎপরতার চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।’
মেঘমল্লারকে গ্রেপ্তার দাবি: গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে মেঘমল্লারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এতে লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী এ বি জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একটি সংঘাতের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাদের রেড টেররের পরিকল্পনা এবং প্রকাশ্যে দেওয়া ঘোষণা এই বার্তাই দেয়।’
শাহবাগ থানায় জিডি: গতকাল মেঘমল্লারের এমন ঘোষণার জেরে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী যুবাইর বিন মেছারী। জিডিতে লাল সন্ত্রাসের ভিকটিম হয়ে খুন ও গুম হওয়ার আশঙ্কা এবং ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার স্ট্যাটাসে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই। বর্তমানে নানা ভায়োলেন্স ঘটছে, আমার স্ট্যাটাসটি নিজেদের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার দিকে ইঙ্গিত দেয়, যা ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে। তাই এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না।’