ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত টাঙ্গুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল: বেলার উদ্বেগ প্রকাশ পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন দিল স্থানীয়রা পদ্মায় আবারও বাসডুবি, আগেই নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা
Nagad desktop

তালাবদ্ধ জামায়াতের কার্যালয় এখন সরগরম

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৫, ০১:১৬ পিএম
তালাবদ্ধ জামায়াতের কার্যালয় এখন সরগরম
ফাইল ছবি, খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ১৪ বছর ধরে ছিল তালাবদ্ধ। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ের ধারেকাছে যাওয়ারও সাহস পেতেন না। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সেই কার্যালয়টিই এখন নেতা-কর্মীদের পদচারণে গম গম করছে। 

কয়েক দিন ধরে ওই কার্যালয়ে গিয়ে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের আনাগোনা দেখা গেছে। এ ছাড়া দলীয় কর্মসূচির দিনে নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগেই থাকে। 

একই চিত্র পুরানা পল্টনে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামী মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে। ৪৮/১-এ পুরানা পল্টনের এই কার্যালয়টিও গত ১৪ বছর ছিল তালাবদ্ধ। গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিল এ কার্যালয়টি। কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতা-কর্মী এলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হতো। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন আর কোনো বাধা নেই। নেতা-কর্মীর ভিড়ে জমজমাট থাকছে এখন এই কার্যালয়।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের মতে, ‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলে আওয়ামী লীগের আজকের এই পরিণতি হতো না। তাদের বোঝা উচিত ছিল যে অত্যাচার-নির্যাতন করে কোনো আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না।’ 

তিনি বলেন, ‘তালাবদ্ধ করে জামায়াতের অফিসে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে জনতার রোষে সেই বাঁধ ছুটে যাওয়ায় আমরা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’ 

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির অন্যতম মিত্র জামায়াতের কেন্দ্রীয় এবং মহানগর দুই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। এরপর ১৪ বছর ধরে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। এই দুই কার্যালয় ছাড়াও গত ১৪ বছর ধরে সারা দেশে জামায়াতের কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ ছিল। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেন আদালত। পরে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১ জুন দলটির নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার জন্য আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের দিনেও জামায়াতের সব কার্যালয় বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। সেদিনও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি দলটির নেতা-কর্মীরা। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপির সঙ্গে জামায়াতও বর্জন করে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলটি প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারেনি। আত্মগোপনে থেকেই কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি নিয়ে মিডিয়া কাভারেজ দেওয়ার সাহস বেশির ভাগ গণমাধ্যমেরই ছিল না। হাতে গোনো দু-একটি পত্রিকার ভেতরের পাতায় দলটির খবর কালেভদ্রে ছাপা হতো।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, বিএনপি যখনই বড় কোনো সমাবেশ বা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদেরও পাইকারি হারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ কারণে দলটির নেতা-কর্মীদের ভেতর সব সময়ই ছিল অজানা ভয় ও আতঙ্ক। অনেকের বাড়িঘরে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর সারা দেশে জামায়াতের কার্যালয়ের চিত্র বদলে গেছে। 

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট পার হয়ে একটু সামনে গেলেই ব্যাপারী গলি। ওই গলিতে ঢুকেই হাতের বামে হোল্ডিং নং-৫০৫, চারতলাবিশিষ্ট ভবন। ৫ আগস্টের পর ভবনটি মেরামত করা হয়েছে। মূল গেট এবং দেওয়ালে লেগেছে নতুন রং। ভবনটি সংস্কার করে পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিচতলায় ঢুকতেই অভ্যর্থনা কক্ষ, তার পাশেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সেলের রুম। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসার কক্ষ। এ ছাড়া দোতলায় একটি সেমিনার কক্ষ রয়েছে। এখানে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে দলটি। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মিটিং হয়। তৃতীয় তলায় জামায়াতের নায়েবে আমির, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলদের জন্য কক্ষ রয়েছে। চতুর্থ তলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বসার কক্ষ। এ ছাড়া ৬০-৭০ জনের মিটিং করার জন্য একটি মিলনায়তন রয়েছে।

কার্যালয়ে ঢুকে অভ্যর্থনাকারীর কাছে দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মসূচি না থাকলেও নিয়মিত আসছেন। 

ভবনটির সামনে ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস দোকানের স্বত্বাধিকারী স্বপন জানান, তিনি গত এক যুগে এখানে কাউকে আসতে দেখেননি। তবে গত ৫ আগস্টের পর লোকজনের আসা-যাওয়া বেড়েছে। সন্ধ্যার পর লোকসমাগম বেশি হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের খবরের কাগজকে বলেন, ‘মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেতা-কর্মীদের আগ্রহের জায়গা ছিল। কিন্তু গত ১৪ বছর আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও দেয়নি। কোথাও আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে দেয়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দায়িত্বশীল নেতাদের পাশাপাশি কার্যালয়ে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা আসছেন। কার্যালয়টি মেরামত করতেও প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। এখন দলীয় ইনডোর মিটিং ও মতবিনিময় সবই এখানেই করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত জামায়াতের কার্যালয়ে এসে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এখন কার্যালয়ে হয়।’ 

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের খবরের কাগজকে বলেন, ‘১৪ বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকা কার্যালয়টি পুরোপুরিভাবে চালু করেছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা আসা-যাওয়া করছেন। আমিরে জামায়াত, নায়েবে আমিরসহ সবার জন্য আলাদা আলাদা অফিস রয়েছে এবং আমরা নিয়মিত বসছি। এখন সবাই নরমালি অফিস করছি, আমরা সবকিছু ওভারকাম করার চেষ্টা করছি। ভয়ডরহীনভাবেই নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে আসছেন, তারা সবাই উৎফুল্ল।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা ছয় থেকে সাত লাখ। এসব মামলা প্রত্যাহারে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমরা সহযোগিতা করছি। অনেকগুলো মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে, অনেকগুলো মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।

মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার বহন করেন। ব্যানারে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি ঝটিকা কর্মসূচির পর এটি আরও একটি আলোচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রিফাত/

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম
ছবি: খবরের কাগজ

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাজেট ঘোষণার পূর্বে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও বেশি। ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৭ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছানোয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট ও ডালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম ও আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজি এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষিতে উৎপাদন খরচ এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা সৃষ্টি করবে। এর প্রভাব হিসেবে চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামাল খান প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান এলাহী, আমির হোসাইন, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুর, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ প্রমুখ। 

এসএন/

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর গুলশানে একটি কনভেনশন হলে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা ও ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

জিএম কাদের বলেন, ‘জাতি আজ এক চরম বিপদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এটি কতটুকু বুঝতে পারছে জানি না, তবে তারা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারছে না। দেশ এখন সুস্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দুই পক্ষ এখন মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে।’

জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ স্বাধীনতাবিরোধী ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা ৭১ ও ২৪-এর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। দেশের তরুণ সমাজকে অর্থ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা কোনো অবস্থাতেই এই অপরাজনীতি সফল হতে দেব না।’

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আর কোনো সুবিধাবাদী বা আপসের রাজনীতি করবে না। ৮-১০টি সিট বা মন্ত্রী হওয়ার রাজনীতি করার দিন শেষ। এখন থেকে আমরা দেশের ৩০০ আসনেই লড়াই করার প্রস্তুতি নেব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে মাঠে দাঁড়াতে হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে নিজের এক বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ এই নির্বাচন বর্জন করেছে। জনগণ বর্তমান সরকার বা কোনো দলের ওপরই আস্থা রাখেনি।’

জাপাকে ‘ফিনিক্স পাখি’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘৯১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনের আগে বলা হয়েছে জাতীয় পার্টি শেষ। কিন্তু জাপা ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার পুনর্জন্ম নিয়ে ফিরে এসেছে। এবারও আমাদের শেষ করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু জাতীয় পার্টি শেষ হয়নি।’

ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার আহ্বায়ক এ এন এম রফিকুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, শেরীফা কাদের ও নুরুন নাহার বেগম।

জয়ন্ত/সালমান/

দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর
ছবি: খবরের কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের লড়াইয়ের বিভেদ ভুলে, পদত্যাগ করা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে  পুনর্বহাল দাবি করেছেন তার সাবেক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

প্রার্থী পহেল চাকমা ও আবুল বাশার অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দলের কারণেই দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই দাবি জানান পহেল চাকমা ও আবুল বাশার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে পহেল চাকমা পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আবুল বাশার গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পহেল চাকমা বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে পার্বত্য মন্ত্রী হয়েছিলেন। ওনাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা চাই সসম্মানে উনাকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হোক।’

আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের আবেদন থাকবে দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় তার মন্ত্রীত্ব ফিরিয়ে দিক। সুষম বণ্টনের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সবার মাঝে উন্নয়নের জোয়ার হিসেবে আমরা রাঙামাটিবাসী তাকে ফিরে পেতে চাই।’

জিয়াউর রহমান/খাদিজা রুমি/

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংর্ঘষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সাত জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদরকে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এসময় দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

মাহফুজুর/আমান