লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। হামলায় ১৬টি মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রামগতি উপজেলার রামদয়াল বাজার, আজাদনগর ও রামগতি বাজারসহ কয়েকটি স্থানে এসব পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে।
জেএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের জেএসডির নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহ-সভাপতি তানিয়া রব। জনসভায় যোগ দিতে দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা যানবাহনে করে আসতে থাকেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পড়ে তারা।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন লোকমান হোসেন সম্রাট, মোরশেদ, আরাফাত, আপেল, সম্রাট, কালা, আলমগীর কসাই, ফয়সাল হোসেন, ইবনে হাসান, বিদন, তারেকসহ মোট ১৫ জন। তারা সবাই রামগতি উপজেলার বাসিন্দা এবং জেএসডির নেতাকর্মী। আহতদের নোয়াখালী ও রামগতির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রামগতি উপজেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বাবলু অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের অনুসারীরাই পরিকল্পিত এই হামলা চালিয়েছে। গুলিবিদ্ধ আব্দুল মান্নানকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমাদের ১৬টি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।’
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলা নেতাদের নির্দেশে আমরা নীরব অবস্থানে ছিলাম। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও তানিয়া রবের সহযোগী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা রামদয়াল বাজারে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব—যিনি দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী। একই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রফিকুল/মাহফুজ