ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার শেরপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির টহল ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজিবাইকের যাত্রীর অপেক্ষা ফুরোচ্ছে নেইমারের নোয়াখালীতে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ বন্ধু নিহত সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গ্রুপ এল: যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া নকআউটের টিকিট পেতে কার সমীকরণ কেমন? পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় স্কটল্যান্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড পাবনায় ১৩ মাসে ৫৯ খুন, ৭১ ধর্ষণ নদীবন্দরে সতর্কতা, দেশের ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে ইমাম বদলে গেল গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকার নিয়ম! ভাগ্য নির্ধারণ হবে যেভাবে মেম্বার থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আবদুল গফুর বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: এক চেয়ারে নজর ৭ নেতার বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিতে চিঠি টানা জয়েও মেক্সিকোর পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট কোচ আগুয়েরে যুদ্ধের পর প্রথম বিদেশ সফরে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট সিন্ডিকেটের কবলে চট্টগ্রাম বন্দর: প্রতিযোগিতা রুখতে সুপরিকল্পিত ‘খেলা’ ২৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ছেলেকে ত্যাগের ঘোষণা বাবার পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে উ. কোরিয়া: কিম সৌন্দর্যে অনন্য গোলাপি অলকানন্দা ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি দুদকের সুইস-কানাডা মহারণ, বাঁচা-মরার ম্যাচ বসনিয়া-কাতারের

কমরেড খালেকুজ্জামান নতুন বন্দোবস্তের নামে টোটকা দিয়ে সমাধান হবে না

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৭ এএম
নতুন বন্দোবস্তের নামে টোটকা দিয়ে সমাধান হবে না
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রধান উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় রাজনীতিকরা কীভাবে দেখছেন এ নির্বাচনকে? এ নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রধান উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জয়ন্ত সাহা। 

খবরের কাগজ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? কেমন নির্বাচন হবে বলে ভাবছেন।
খালেকুজ্জামান: আমরা বলছি নির্বাচন হলো একটা দুর্ভাবনা কিংবা দুর্ঘটনা। আগামী নির্বাচন ঘিরে এই দুই বিষয় চলতে থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আয়োজন এখনো সম্পন্ন হয়নি। আয়োজনের শতভাগ তো দূরের কথা, আংশিকও বাস্তবায়ন করা যায়নি। যে কাজটি আমরা ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি, তা শুধু আকাঙ্ক্ষায় থাকলে চলবে? নাকি তার পরিপূরক হিসেবে আয়োজনগুলো সম্পন্ন করতে হবে? নির্বাচনের কোনো পরিবেশ দেখছি না। ভোট নিয়ে জনগণের মধ্যেও আস্থার অভাব আছে। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল মানুষের মধ্যে, তা বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখছি না।

খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে অনেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছেন। আপনি কি মনে করেন এখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠা হয়েছে? পরিস্থিতি আসলে কেমন মনে করছেন?
খালেকুজ্জামান: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটাই তো ত্রুটিযুক্ত। নির্বাচন কোনো খেলার মাঠ না যে একদল লোক খেলবে আর বাকি জনগণ তামাশা দেখবে। এখানে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর খেলা দেখার জন্য মানুষ গ্যালারিতে বসে থাকবে না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ একটা নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে, সেই প্রক্রিয়াও তো গোলমেলে হয়ে গেছে। নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে, জনগণ কোন শক্তির ওপর বেশি আস্থাশীল থাকবে, তা যেন দূরে সরে গিয়েছে। এখন কথাবার্তা চলছে টাকার খেলা আর পেশিশক্তি নিয়ে, চলছে প্রশাসনিক কারচুপি নিয়ে আলোচনা।

খবরের কাগজ: অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তাদের এই পদত্যাগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
খালেকুজ্জামান: ওরা সরকারি চাকরিতে ঢুকেছিল, চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। এটা আলোচনার কোনো বিষয় না। কিংস পার্টির সদস্য হিসেবে তারা সরকারি আনুকূল্যে, নানা পৃষ্ঠপোষকতায় উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। এখন আবার সেই চাকরি থেকে তারা ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে তাদের অংশগ্রহণটাও কিন্তু যথার্থ ছিল না। আর এখন তারা বেরিয়ে আসায় তা আলোচনার কোনো বিষয়বস্তু হতে পারে বলে আমি মনে করি না।

খবরের কাগজ: জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটা কথা খুব আলোচনায় এসেছিল, তা হলো- নতুন বন্দোবস্ত। বাম দলের নেতারাও অনেকবার বলেছেন নতুন বন্দোবস্তের কথা। নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি কেমন দেখছেন?
খালেকুজ্জামান: এটা বন্দোবস্তের ব্যাপার না। একটা ব্যবস্থা ছিল, অর্থাৎ যেখানে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলছিল, তা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চলে আসে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন মানেই হলো- বৈষম্য যদি দূর করতে হয় তাহলে সমাজের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। সমাজে শোষণমূলক অবস্থা বহাল রেখে বৈষম্যবিরোধী চেতনা বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব না। এবার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন না। তবে এবারও জনগণের শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং শোষণের যে ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থাটাই বহাল থাকছে। তাহলে নতুন বন্দোবস্তের নামে শুধু টোটকা কবিরাজি দিয়ে সমাধান হবে না। রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে। 

খবরের কাগজ: গণভোটের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। গণভোটের মাধ্যমে কি লক্ষ্য পূরণ হবে? আপনি কী মনে করছেন?
খালেকুজ্জামান: এর আগে দেশে তিনটি গণভোট হয়েছে। দুটি ছিল সামরিক শাসকদের অধীনে, অপরটি ছিল পার্লামেন্টারি ফর্ম না প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম হবে, সে বিষয়ে। শেষটিতে মাত্র ৩৫ ভাগ ভোট পড়েছিল। ৩০ লাখের মতো ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছিল। ফলে অতীতের গণভোটের অভিজ্ঞতা ভালো না। এখন গণভোটের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই; যৌক্তিকতাও নেই।

খবরের কাগজ: জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আপনি একাধিকবার বলেছেন, দেশে দক্ষিণপন্থি রাজনীতির বিকাশ হচ্ছে। এখন সেই রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিয়েছে?
খালেকুজ্জামান: বামপন্থা দুর্বল হলে দক্ষিণপন্থা শক্তিশালী হবে, এটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণপন্থার বিপরীতে বামপন্থা যতখানি শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে, তত দ্রুত এর অবসান ঘটবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। আমি বলব, ধর্মভিত্তিক দল হয় না। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি ধর্ম যুক্ত করা হয় সুবিধা আদায়ের জন্য। আর্থিক, রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা অর্জন করার জন্য রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। ধর্মকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসার মানে হলো এর পিছনে একটা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনার উদ্দেশ্য মানুষের অর্জন, গণতান্ত্রিক-সাংস্কৃতিক চেতনা ও মূল্যবোধ নষ্ট করে দেওয়া। ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনার কুফল অতীতে আমরা অনেকবার দেখেছি। তাই এর পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হবে, এটা মানুষ আশা করে না। তার পরও যখন উগ্র দক্ষিণপন্থার কথা আসছেই, এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই এখন দরকার।

খবরের কাগজ: এ সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
খালেকুজ্জামান: গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই বলেন যে তারা লিখতে পারেন না, বলতে পারেন না। তাদের কলম চলে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যখন শাসন চলে তখন গণমাধ্যম মুক্ত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না।

মেম্বার থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আবদুল গফুর

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
মেম্বার থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আবদুল গফুর
জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল গফুর

ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার গল্প শোনালেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল গফুর। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্থান, নির্বাচনি এলাকার বাস্তবতা এবং বাজেটের নানা দিক নিয়ে আবেগ ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।

জামায়াত নেতা আবদুল গফুর বলেন, তিনি সবচেয়ে নিচু স্তর থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জানান, ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক পথচলায় কোনো দীর্ঘ বিরতি ছিল না।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে এটিকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন। তার মতে, বাজেটে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে এবং এটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর, বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো জরাজীর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, শিক্ষার্থীরা ওয়েল পেপার বা প্লাস্টিক ব্যবহার করে ক্লাস চালায়। কিন্তু বাজেটে এসব সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, এসব হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী ভর্তি থাকলেও অবকাঠামো ও জনবলসংকটে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া পদ্মা নদীর ভাঙন সমস্যার কথা উল্লেখ করে আবদুল গফুর বলেন, ভেড়ামারা ও মিরপুর এলাকায় নদীভাঙনে চারটি ইউনিয়ন বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ছেলেকে ত্যাগের ঘোষণা বাবার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ছেলেকে ত্যাগের ঘোষণা বাবার
আব্দুল ওহাব শেখ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় নিজের ছেলেকে ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাবা আব্দুল ওহাব শেখ। উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গী এলাকার রাজীব ফার্নিচার নামের একটি দোকানের অফিস কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আব্দুল ওহাব শেখ (৬৫) উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে সজীব শেখের ছাত্রলীগে কোনো পদ-পদবি না থাকলেও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল ওহাব শেখ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। আমার বড় ছেলে টুঙ্গিপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। কিন্তু আমার ছোট ছেলে সজীব শেখ সঙ্গদোষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে তার কোনো পদ-পদবি নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জানতে পারি সে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও সে কিছুতেই বুঝতে চায় না। তাই আমরা সপরিবারে ছেলে সজীব শেখকে ত্যাগ করলাম। এখন থেকে সজীবের কোনো কার্যক্রমে আমাদের কোনো দায়ভার থাকবে না। তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের।’

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ
লক্ষ্মীপুর শহরে  যুবদলের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা যুবদল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাশিদুল হাসান লিংকনের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবেনা, সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবেনা, তারেক রহমানের বাংলায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুবদলের নেতারা বলেন, আমরা রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্ব রাজপথে রয়েছি। আমরা আওয়ামী লীগের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেব। সকাল থেকে আওয়ামী লীগের কেউ রাজপথে নামার সাহস পায়নি। ১৭ বছরের অপকর্মের কারণে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে সর্বস্তরের জনগণ। কর্মসূচিতে জেলা-উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নাশকতার আশংকায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ ‍সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও বা তাদের সহযোগি সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে ঘিরে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে, সেদিকে কঠোর অবস্থানে আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।

 ‎মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রতিবাদ মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মালখানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন বের করা হয়। 

শোডাউনটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল আহমেদ রানা। এ সময় যুবদল, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

পরে দুপুরে সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা অপপ্রচার, গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সর্বশেষ ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সারা দেশে একযোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অপপ্রচার, গুজব ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।

সুমন/রিফাত/

ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

স্থানীয় যুবদল সুত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে আশঙ্কায় যুবদল এ প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, রেলগেট, বাজার এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয় এবং বেলা ১১টায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে।

যুবদল নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে প্রতিবাদ মিছিলটি রেলগেট ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয় এবং বাজারের ১নং গেটে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম ‌আহ্বায়ক হিরক সরদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আউয়াল কবির, ছাত্রদল নেতা তৌফিক আলম সোহেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান জুয়েল প্রমুখ। 

বক্তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনীতি করতে চাইলে আইনি বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেন, কিন্তু নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজপথে আসার চেষ্টা করবেন না, করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। আপনাদের প্রতিহত করার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীর ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যে নিপীড়নমূলক হামলা চালিয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভুলে নাই। এখন তারাই ঘরে বসে দেশের অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীর হোসেন/থিওটোনিয়াস