ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
Nagad desktop

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

বাংলাদেশের ইতিহাসে লেখা হলো রাজসিক ও অবিস্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর অবসান হলো লন্ডনের নির্বাসিত জীবন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সহধমির্ণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে ঢাকার মাটিতে পা রাখেন তিনি। এরপর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাক বিমানবন্দর থেকে ১২টা ৪১ মিনিটে বের হয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান লেখা বাসে করে রাজধানীর পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওয়ানা হন। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর নেতা-কর্মীদের ভিড় পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে উপস্থিত হন। 

সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ তারেক রহমান বক্তব্যের প্রথমেই বলেছেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ। উপস্থিত প্রিয় মুরব্বিবর্গ, জাতীয় নেতৃবৃন্দ, প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাই-বোনেরা আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারও লাখো কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে।’

সবাই মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি, একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উঠেন তারেক রহমান। এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবদুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা। তাকে বহনকারী বিমানটি প্রথমে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বেরিয়ে এলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্ব স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। স্থায়ী কমিটির নেতাদের বুকে টেনে আলিঙ্গন করেন তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে পেয়ে সিনিয়র নেতারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি ছিল তাদের কাছে।

ভিআইপি লাউঞ্জে এলে তারেক রহমানকে গোলাপ ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে স্বাগত জানান শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। এরপর ভিআইপি লাউঞ্জে বসে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গেও কথা বলেন তারেক রহমান। 

বিমানের চাকা রানওয়ে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরে উপস্থিত হাজার হাজার নেতা-কর্মীর গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে রানওয়ে থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ পর্যন্ত তৈরি করা হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশের পাশাপাশি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)সহ নেতাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে বের হন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বেরিয়ে একটি বাগানে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন।

দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলে গণসংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার জন্য গাড়ির বহর নিয়ে রওয়ানা দেন তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বাসটির সামনে লেখা ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ। বিমানবন্দর, কাওলা, খিলক্ষেত, কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত তারেক রহমানকে একনজর দেখতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসা নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছিলেন। দলীয় পতাকা, তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে ভোর থেকেই তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। তারেক রহমানও বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়েছেন। এই সময় বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন পুরো এলাকা।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানাতে গত বুধবার রাত থেকেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থান নেন সারা দেশ থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী সেখানেই রাত যাপন করেন। সকালে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকা। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বিশ্বরোড– পুরো সড়কেই অবস্থান নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক ছাড়াও বনানী, কুড়িল, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর সড়কেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। এছাড়া যেসব সড়ক হয়ে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশানের বাসভবনে গেছেন, সেসব সড়কেও বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। অপর দিকে বনানী, চেয়ারম্যানবাড়ি ও কাকলী, বসুন্ধরা, নতুন বাজার এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা যায়। প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানান নেতা-কর্মীরা। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের জনসভাস্থল। দৃষ্টিনন্দন রূপে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়। ১৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ৯০০টি মাইক। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল এলইডি ডিসপ্লে স্থাপনের মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য দেখানো হয়েছে।

গণসংবর্ধনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছাতে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে ভিড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ৩০০ ফিটে যেতে দুই পাশে লাইন ধরে প্রিয় নেতাকে অভিবাদন জানান নেতা-কর্মীরা। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। গাড়ি আর সামনে অগ্রসর হতে না পারায় ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি হেঁটে সভামঞ্চে ওঠেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সংবর্ধনাস্থল। নেতা-কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারেক রহমান।

মঞ্চে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানান। একই সঙ্গে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতারাও মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। দলীয় নেতা-কর্মীরা নিচ থেকে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় হাত নেড়ে লাখ লাখ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন তারেক রহমান। 

গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিজেপি সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। 

গণসংবর্ধনাস্থলের মঞ্চে উঠে নিজের জন্য বরাদ্দ বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। 

বিকেল ৪টার দিকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। 

তিনি বলেন, ‘আমরা তারপর দেখেছি ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী, পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছেন। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ আশা করেন, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবেন।

ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কয়দিন আগে ২০২৪ সালের আন্দোলনের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহিদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। এ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাক। ২৪-এর আন্দোলনে ওসমান হাদিসহ যারা শহিদ হয়েছেন, ৭১-এ যারা শহিদ হয়েছেন এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন– তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশে একজন নারী-পুরুষ-শিশু যেই হোক না কেন, ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারবে, ইন্‌শাআল্লাহ। রাষ্ট্রের কাছে এ দেশের মানুষের এই প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা আছে। আজ আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই মানুষগুলোর সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারব। ১৯৭১ সালে আমাদের শহিদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই রকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। 

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন– অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।’ মায়ের সুস্থতার জন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। 

যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তি এখন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আজ আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ’ ইন্‌শাআল্লাহ।” যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতালে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমানও ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা মায়ের শয্যাপাশে কাটিয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি সেখানে পৌঁছান।

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাজেট ঘোষণার পর বাজারের অবস্থা এবং মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। মানুষের সন্তুষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুশি। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা সরকারের সাফল্য ও জবাবদিহির অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এই বাজেটকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়েই।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী ও তরুণদের কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, এই দুই কর্মসূচিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। সরকারের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বাজেটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্টার্টআপ ফান্ড, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে। বাজেটে তরুণদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতিকে সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এই বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। 

একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, খাল পুনর্খনন, স্থানীয় বাজার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ শহর ও গ্রামের আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে, যা নির্বাচনি ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন।

বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই বিএনপি তার ইশতেহারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসই ভিত্তি পাবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের বাজেট। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এই বাজেট সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।’

দলটির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

তার মানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষাও। আগামী মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে, এই বাজেট সত্যিই ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের’ সফল যাত্রা শুরু করতে পারে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আনন্দ মিছিলে জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদাত মানু, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান হোসেনসহ জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

নেতারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আনন্দ মিছিলে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুমন/রিফাত/