জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহকে চেনেন না বলে মন্তব্য করেছেন একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।
নির্বাচনী একটি প্রয়োজনীয় কাজে রবিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আসেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এ সময় তাকে রাজনৈতিক সমসাময়িক বিষয় ও মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহকে তো আমি চিনি না। এ পর্যন্ত কোনোদিন দেখা হয়নি। এই ছেলের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, কিছুই নেই। আগেও ছিল না, এখনো নেই; আমি তাকে কোনোদিন দেখিইনি। তার বিষয়ে আমি কিভাবে বলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি দ্বিমুখী বুঝি না; ত্রিমুখীও বুঝি না। আমি সব সময় এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচন করেছি। এবারও সেভাবেই নির্বাচনে কাজ করছি।’
ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ছোট নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। প্রতিবারই আমাকে কোনো না কোনো হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কে প্রার্থী হলেন, সেটি বড় বিষয় নয়; আমি আমার কর্মকাণ্ডের দিকেই ফোকাস করছি।’
আগামী নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে মানুষ ভোটের মাঠে যেতে পারেনি। এবার তারা ভোটের প্রতি আগ্রহী। তাই আমরা আশা রাখি, এবারের ভোটের মাঠের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে এবং মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভোট দিবে।’
প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রণী নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ আগামী সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪, দেবিদ্বার আসন থেকে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ওই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘বংশ পরিচয়’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। সেই আলোচনা কিছুদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও তা থামতে না থামতেই তিনি ফের বলেন, ‘আমি হাসনাত আব্দুল্লাহকে চিনি না।’
শান্ত/রিফাত/