২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বেলা ৩টা। চট্টগ্রামের বিজিএমইএ ভবন এলাকা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। প্রচারের শুরুতে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এরপর বলেন, ‘সবাইকে আমার পেছনে পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে আমার সালাম এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছে দিন। আমি হেঁটে হেঁটে মা-বোনদের ও ভোটারদের দোয়া নেব। যেমন কথা তেমন কাজ। নেতা-কর্মীদের পেছনে রেখে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করেন সাঈদ আল নোমান।
বিজিএমইএ ভবনের সামনে দক্ষিণ দিকে ঝাউতলা বিহারি কলোনি। এই কলোনির প্রতিটি গলিতে তিনি পা রাখেন। এলাকাবাসীও গলির মুখে দাঁড়িয়ে তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি সবার হাতে তুলে দেন একটি করে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল। যেখানে তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশের একটি গলিতে দেখা গেল কয়েকজন মা তাদের সন্তানদের কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে একটি করে হ্যান্ডবিল দিলেন এবং তাদের কোলের প্রত্যেক শিশুকে গাল টিপে আদর করে দিলেন। এরপর অন্য আরেকটি গলিতে গিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের কাছে গিয়ে দোয়া চাইলেন। তারা সাঈদ আল নোমানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই চলে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের প্রচার।
বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর খুলশী ওয়ার্ডের ঝাউতলা, খুলশীর আমতল ও বিজিএমইএ ভবন এলাকায় গণসংযোগ চালান নোমান।
তিনি ৩ ঘণ্টায় প্রায় ৬ কিলোমিটার জায়গা হেঁটেছেন। ঝাউতলা বাজারে প্রতিটি দোকানে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন।
বিহারি কলোনির বাসিন্দা মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানি বিহারি। স্বাধীনতার পর থেকেই এই এলাকায় বসবাস করছি। এখানে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার রয়েছে। আমাদের কোনো স্বীকৃতি নেই। এখানে আমরা সবাই ভোটার, আমাদের সন্তানরা স্থানীয় স্কুল কলেজে পড়ে। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাই না।’
মোহাম্মদ হাসান রাজু বলেন, ‘আমাদের পুনর্বাসন দরকার। আমরা বর্তমানে রেলের জায়গায় বসতি করে রয়েছি। সরকারি কোনো জায়গায় পুনর্বাসন করা হলে আমরা সেখানে ভালো থাকতাম। বর্তমানে আমরা একুল ওকুল দুটিই হারিয়েছি। পাকিস্তানে আমাদের কেউ নেই।’
আবুল হাসেম নামের চা-দোকানদার বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঝাউতলা বাজারে চা-দোকান করছি। আমাদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ এলাকায় বড় সমস্যা মাদক। প্রকাশ্যে চলে মাদকের কারবার। এ যেন দেখার কেউ নেই। এ এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন দরকার। আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে আমাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন। আমরা তাকে না চিনলেও তার বাবাকে চিনি। তার বাবার পরিচিতির কারণে তাকেই ভোট দেব। তাই আমাদের এলাকার সমস্যাগুলো লিখিতভাবে তার হাতে দিয়েছি। ভোটের পরে আমাদের খেয়াল রাখলেই আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।’
বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের আমূল পরিবর্তন হবে, যা তারেক রহমানের ওই ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের জন্য, যারা কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ। ৫ শতাংশ মানুষ ধনী। তাদের জন্য আমাদের রাজনীতি নয়। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানোর জন্য রাজনীতিতে এসেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি। আমার বাবা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন।’ তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে। এখানে আমি কিছু নই। মনে রাখতে হবে, এখানের প্রার্থী তারেক রহমান। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ত্যাগ করেছেন, আরাফাত রহমান কোকো ত্যাগ করেছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্যাগ করেছেন। তারেক রহমান ১৭ বছর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। বাংলাদেশের জন্য এ পরিবারের ত্যাগ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা। বিগত ৫৪ বছর এ দেশ অনেক পেছনে চলে গেছে। আমাদের সেবা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে, আমরা চাঁদাবাজির মানুষ না, দুর্নীতির মানুষ না, আমরা মেগা প্রকল্পের সুবিধাভোগী নেতা না। এ মেসেজ দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য আমরা ঘরে ঘরে যাচ্ছি। মানুষকে একটিই আহ্বান জানাচ্ছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন ভোটটি ধানের শীষে আসে।’