বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমে বিলম্ব মানুষকে নিজেদের হাতে আইন তুলে নিতে প্ররোচিত করে। এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থা প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে না; বরং এটি সমাজে ভয়, বিভাজন ও সহিংসতার সংস্কৃতি তৈরি করে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ১১১ জন মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। গণপিটুনি শুধু অপরাধীর জীবন নয়, আক্রান্ত পরিবার ও সম্প্রদায়কেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, সামাজিক লজ্জা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে। শিশু ও কিশোররা এই পরিবেশে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সহিংসতার চক্রকে আরও দীর্ঘায়িত করে।
গণপিটুনির অন্তর্নিহিত কারণের মধ্যে রয়েছে সামাজিক প্রতিক্রিয়াশীলতা, বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং গুজব বা ভুল তথ্যের বিস্তার। অনেকেই ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেখানোর নামে এতে অংশ নেন, যা আইনের প্রতি আস্থা হ্রাস এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। প্রতিরোধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ন্যায়বিচার, সঠিক তথ্যের প্রচার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আইনসম্মত সমাধানের প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। সমাজ যখন আইনের প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠা করবে, তখনই আমরা একটি নিরাপদ, ন্যায়সংগত এবং মানবিক সমাজ গঠন করতে পারব।
মো. শামীম মিয়া
শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, জুমারবাড়ী, সাঘাটা, গাইবান্ধা
[email protected]