ফিলিস্তিন আজ এক নির্মম সত্যের প্রতিচ্ছবি, যেখানে রাষ্ট্রীয় শক্তি মানবাধিকারের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে প্রতিদিন। সর্বশেষ অভিযানে গাজা সিটি ঘিরে ফেলে ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে ‘শেষ সুযোগ’ দক্ষিণে সরে যাও। অথচ দক্ষিণও বোমার আঘাত থেকে নিরাপদ নয়। ভেঙে পড়া প্রতিটি স্কুল, হাসপাতাল ও মসজিদের ইট যেন মানবতার মৃত্যুর নীরব সাক্ষী।
মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। খাদ্য, ওষুধ, পানি এবং জীবনের ন্যূনতম চাহিদাগুলোও বন্দুকের নল ঠেকিয়ে আটকে রাখা হলো। এভাবে পুরো একটি জাতিকে ধীরে ধীরে ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর চিকিৎসাহীন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ডাক্তাররা বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে মোমবাতির আলোয় অস্ত্রোপচার করছেন। মেঝেতে শুয়ে আছে আহত শিশু, মায়ের কোল ভিজছে সন্তানের রক্তে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ, সমালোচনা, বিবৃতি চললেও যুদ্ধযন্ত্রের সামনে মানবিক আহ্বান বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এ যেন এক অনন্ত দ্বন্দ্ব- শক্তি কি সবকিছু, নাকি মানুষের মৌলিক অধিকারই আসল ভিত্তি? ফিলিস্তিনের গল্প সেই প্রশ্নটাই বারবার উত্থাপন করে। শক্তি সাময়িকভাবে বিজয়ী হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে মানবতার আর্তনাদকে কোনো অস্ত্রই চিরদিন চাপা দিতে পারে না।
মো. আসাদুজ্জামান
শিক্ষার্থী (পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ)
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]