বাংলাদেশ এমন একটা দেশ,যেই দেশে শিক্ষকদের প্রায়ই তাদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় আন্দোলনরত অবস্থায় দেখা যায়। শিক্ষকরা যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, সেই আন্দোলনেও পুলিশ দ্বারা লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। যেই শিক্ষকদের খুশি মনে পাঠকক্ষে শিক্ষাদানরত অবস্থায় থাকার কথা, তারা ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে। এর চেয়ে বড় লজ্জা এ জাতির জন্য আর কিছু হতে পারে না। শিক্ষকরা একটা জাতি গড়ার কারিগর, তারা দেশের মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ডের ওপর লাঠিচার্জ মানে তো দেশের মেরুদণ্ডের ওপর লাঠিচার্জ করে মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। শিক্ষকরা তো একটা জাতির আলোকবর্তিকা। সেই আলোকবর্তিকার ওপর আক্রমণ হয় কোনো সাহসে! যে জাতি শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে, সে জাতি থাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যেই লাঠির বাড়ি দেওয়া হলো শিক্ষকদের, সেই লাঠির বাড়ি শুধু শিক্ষকদের ওপর পড়েনি, পড়েছে এ দেশের জাতির ওপর। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার কি সরকার বুঝতেছে না? নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছে। শিক্ষকরা চাওয়ার আগেই তাদের ন্যায্য অধিকারগুলো হাজির হওয়ার কথা, অথচ তারা আজ রাজপথে রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে। আমরা আগেও দেখেছি যখনই শিক্ষকরা দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে। সেই একই পথে এ সরকারও হাঁটল। আন্দোলন দমনের চেষ্টা না করে, সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজাটাই শ্রেয়। কারণ যেই দেশে শিক্ষকরা অবহেলিত, সেই দেশ কখনো মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে দাঁড়াতে পারবে না।
মো. তাসনিম হক রাফি
শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]