বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর হরমোন পরিবর্তনের কারণে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত পুষ্টি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, যথেষ্ট সূর্যালোক না পাওয়া, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন ও শারীরিক অনুশীলনের অভাবও হাড় দুর্বল হওয়ার প্রধান কারণ। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অল্প আঘাতেও হাড় ভেঙে যেতে পারে, যা হাঁটা চলা, বসা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজকর্মকে কঠিন করে তোলে।
সুস্থ হাড় মানেই সুস্থ জীবন। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে প্রতিটি মানুষের উচিত কিছু মৌলিক অভ্যাস নিশ্চিত করা। প্রথমত, সুষম খাদ্য- যাতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত সূর্যের আলো গ্রহণ, যা হাড়কে শক্ত রাখতে সহায়ক। তৃতীয়ত, নিয়মিত ব্যায়াম- বিশেষ করে ওজন বহন ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির ব্যায়াম। চতুর্থত, সচেতন জীবনযাপন- যাতে ধূমপান, অ্যালকোহল ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা হয়। বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে হাড়ের যত্ন নেওয়া শুধু বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি সুস্থ ও শক্তিশালী জীবনের জন্য প্রয়োজন। সঠিক জীবনধারা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে আমরা হাড় দুর্বল হওয়া এবং ভাঙা থেকে রক্ষা পেতে পারি এবং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারি।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]