আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের জন্য যেমন আনন্দ নিয়ে আসে, তেমনিভাবে আমাদের সবারই রয়েছে কিছু সামাজিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো পশুর চামড়ার মূল্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং বর্জ্য সঠিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা করা। দেখা যায়, অনেক সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারসাজি বা উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। সঠিক সময়ে লবণ না দেওয়ায় চামড়া পচে যায়। সরকার প্রতি বছর চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মধ্যে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ অন্যতম। তাই আমাদের উচিত সঠিক নিয়মে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা এবং এ বিষয়ে যাবতীয় অনিয়ম প্রশাসনকে অবগত করা। পশুর বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা জরুরি। পশুর বর্জ্য নিজেরা সচেতনতার সঙ্গে যত্রতত্র না ফেলে পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে হবে, অথবা বাসার সামনে বা রাস্তাঘাটের বদলে কোনো খোলা স্থানে কোরবানি করে বর্জ্য মাটিচাপা দিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে, এতে দুর্গন্ধ এবং জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা কমে যায়। বিভিন্ন পুকুর বা নদীতে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। পবিত্র ঈদুল আজহায় আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ধর্মীয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সুষ্ঠুভাবে পালন করি এবং সমাজ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করি।
বি এম হিশাম লাজ
আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]