বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য এখনো সবচেয়ে অবহেলিত ক্ষেত্রগুলোর একটি। সমাজে ‘মানুষ কী বলবে’– এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের ভেতরের অনুভূতিকে উপেক্ষা করতে শেখায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি সমাজের অগ্রগতি নির্ভর করে তার জনগণের মানসিক সুস্থতার ওপর। একজন মানুষের মানসিক সমস্যা পুরো পরিবার এবং পরোক্ষভাবে সমাজেও প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে গড়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর জনগোষ্ঠী।
২০২৫ সালে BMC Psychiatry-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক রোগে আক্রান্ত প্রায় ৯০% মানুষ কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। GAD-এ আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ৩.৯% পেশাদার সহায়তা নিয়েছেন। কুসংস্কার, লজ্জা ও সচেতনতার ঘাটতিই এর প্রধান কারণ। শিক্ষার্থীদের অবস্থাও চিন্তার কারণ। একটি মেডিক্যাল কলেজে ৮০.৮% উদ্বেগ, ৭৭.৯% বিষণ্নতা এবং ৬৯.৭% মানসিক চাপের লক্ষণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আত্মহত্যার প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাধি যুক্ত থাকে।
এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন-সাইট কাউন্সিলর নিয়োগ, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা অত্যন্ত জরুরি। মনোবিজ্ঞানীদের সেবা যাতে সাধারণ মানুষের নাগালে থাকে– সে জন্য সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থাও প্রয়োজন। একটি সুস্থ, মানবিক সমাজ গড়তে মানসিক স্বাস্থ্যকে বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক মানবিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এখনই সঠিক সময়।
রাফিয়া সুলতানা
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং
সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
[email protected]