বর্তমানে চিনি মানুষের নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চা, কোমল পানীয়, মিষ্টি, বেকারি খাবার ও প্যাকেটজাত খাদ্যের মাধ্যমে অজান্তেই মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি চিনি গ্রহণ করছে। এই অতিরিক্ত চিনি ধীরে ধীরে শরীরের জন্য এক ভয়ংকর বিষে পরিণত হচ্ছে। যাকে অনেকেই হোয়াইট পয়জন নামে চিহ্নিত করছেন। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ হারালে কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বেশি চিনি ওজন বাড়িয়ে স্থূলতার সৃষ্টি করে, যা পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে এবং অল্প বয়সেই নানা জটিল রোগের আশঙ্কা তৈরি করে। চিনি দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত মিষ্টি খাবার দাঁত ক্ষয়, গর্ত ও মাড়ির রোগ বাড়ায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি লিভারে চর্বি জমিয়ে ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার জন্ম দেয়। মানসিক দিক থেকেও এর প্রভাব রয়েছে। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং মেজাজের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ত্বকের ক্ষতি, ব্রণ ও দ্রুত বার্ধক্যও এর অন্যতম ফল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ক্ষতি ধীরে ধীরে ঘটে, ফলে মানুষ বুঝে ওঠার আগেই অতিরিক্ত চিনি তার স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের সবার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে চিনির অতিরিক্ত ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।
আবিদ হাসান
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]