প্রতিবছর পৌষ-মাঘ মাসে শীতের তীব্রতায় জনজীবনে নেমে আসে নানা ভোগান্তি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, জানুয়ারির শুরু থেকেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহে নিম্নবিত্ত মানুষজন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দিকাশি, ডায়রিয়া, কোল্ড অ্যালার্জিসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা না নিয়ে ঘরেই কষ্ট পাচ্ছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে দুর্ভোগ দ্বিগুণ আকারে বেড়ে যাচ্ছে। যারা দিনমজুর আছেন, তাদের অধিকাংশকেই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। কিন্তু শীতের তীব্রতায় তারা ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। জীবিকার তাগিদে নিজের ওপর জুলুম করে কাজে নামলেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রতি বছর সীমিত পরিসরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি দেখা গেলেও, এ বছর সরকার থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য, ওষুধ, শীতবস্ত্র ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শীতের কঠিন সময় পার করা এখন সময়ের দাবি।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]