শীতের শুরু থেকেই বাজার ভরে ওঠে নানা রঙের ফল ও সবজিতে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, টমেটো, গাজর, শিম, লালশাক, কমলা, মাল্টা, আপেল, আঙুর- সব মিলিয়ে শীতকালকে বলা হয় পুষ্টির মৌসুম। দেশের মোট সবজি উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এ মৌসুমেই বাজারে আসে। দুঃখজনক কিছু অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ফল ও সবজিতে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা ফরমালডিহাইডকে মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আইনগতভাবে খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারছে না। উৎসব বা বিশেষ সময়কেন্দ্রিক অভিযানে বাজার কিছুটা সচেতন হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দুর্বল তদারকি, যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাব, সীমিত পরীক্ষাগার সুবিধা এবং জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করা যায়। আধুনিক কোল্ড চেইন ব্যবস্থার অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরা রাসায়নিক ব্যবহারে ঝুঁকে পড়ছেন। পাশাপাশি পরীক্ষাগারের সংখ্যা ও সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যাটি সমাধানে খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়মিত ও স্বচ্ছ বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষক থেকে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা- সব স্তরে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। সঙ্গে ভোক্তাদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ নীরব বিষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]