বাংলাদেশ আজ শ্রমশক্তি রপ্তানি, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই বৈশ্বিক পরিসরে যুক্ত হচ্ছে। এ অগ্রযাত্রার পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ভিসা প্রসেসিং ব্যবস্থা। ভিসা আবেদন করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্যের অস্পষ্টতা, অনলাইন ও অফলাইন প্রক্রিয়ার সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা আবেদনকারীদের হতাশ করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে এক দেশের জন্য যে কাগজ প্রয়োজন, অন্য দেশের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন- কিন্তু সে বিষয়ে আগাম কোনো নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জটিল ও ব্যয়বহুল ভিসা প্রক্রিয়া অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ব্যক্তি ও রাষ্ট্র- উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। ভিসা প্রসেসিং সহজ করা গেলে এর সুফল সুদূর প্রসারী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভিসা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরও বাড়বে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ টেকসই হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, রোগী ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বৈধ পথে বিদেশে যাওয়া সহজ হবে, যা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জীবনমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের জন্যও বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]