প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ভালোবাসা মানব জীবনের একটি পবিত্র ও ইতিবাচক অনুভূতি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এ দিবসটি কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক যুবক-যুবতী বিভিন্ন পার্ক, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিব্রতকর ও দৃষ্টিকটু পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞান ও নৈতিকতা গঠনের স্থান হলেও এ ধরনের আচরণ শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে এবং কিশোর-তরুণদের মাঝে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। অনেক সময় অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীরাও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এনিয়ে নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে, যা আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভালোবাসা মানে শুধু বাহ্যিক উদ্যাপন নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও শালীন আচরণের মধ্যেই প্রকৃত ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দিবসটি উপলক্ষে জনসমাগমস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন নাগরিকদেরও তরুণদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। পরিশেষে, আমরা চাই ভালোবাসা দিবস হোক সৌহার্দ্য, শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক সংস্কৃতির প্রতীক, অশালীনতা বা বিশৃঙ্খলার নয়।
মো. ফাহিম খান
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাইটার্স সোসাইটি
[email protected]