রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরের গণপরিবহনগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর থাকলেও ছুটির দিন তা নেওয়া হয় না। অনেক সময় হাফ ভাড়া নেওয়ার জন্য জোর করা হলে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা ঈদ-পুজোর বন্ধের সময় গণপরিবহনগুলো শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাফ ভাড়া নিতে চায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দোহাই দিয়ে হেলপার-কন্ডাক্টর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক ও অযৌক্তিক আচরণ করে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের জীবন কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের কোচিং, লাইব্রেরি, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত শিক্ষামূলক কাজেও বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এসব কাজের বেশির ভাগই সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিনেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অনেক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় কমানো একটি বাস্তব প্রয়োজন। স্টুডেন্ট ভাড়া বা স্টুডেন্ট পাস মূলত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার একটি সামাজিক উদ্যোগ। শিক্ষার সুযোগকে আরও সমতা ও সহজলভ্য করার একটি মাধ্যম। সব শিক্ষার্থী যেন নির্ভয়ে ও স্বল্প খরচে যাতায়াত করতে পারে এবং তাদের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সহজ করতে ছুটির দিনসহ প্রতিদিন স্টুডেন্ট পাস কার্যকর করতে হবে। গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেন গণপরিবহনে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]