বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদরাসাগুলো শিক্ষাকার্যক্রম পরিদর্শন, আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে ১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট দুই ইসলামি স্কলার। 'মারকাযুল ফুরকান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ'-এর আমন্ত্রণে তারা এই সফরে আসছেন।
সফরকারী দুই বিশিষ্ট মেহমান হলেন, মাওলানা মাসুম উল হক নকশবন্দী মোজাদ্দেদী ও শাইখুল হাদিস আল্লামা হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ।
মারকাযুল ফুরকান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মাহমুদ জানান, মাওলানা মাসুম উল হক এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র 'দারুল উলুম হাক্কানিয়া আকোড়া খটক'-এর একজন ফারেগ বা গ্র্যাজুয়েট। তিনি পীর জুলফিকার নকশাবন্দী রহ. এর কাছ থেকে খেলাফত ও ইজাযত প্রাপ্ত। তার চার তরিকাতেই ইজাযত রয়েছে। এছাড়াও তিনি একজন প্রখ্যাত হাকিম (চিকিৎসক) এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপিকে) প্রদেশে তাসাওউফের খেদমতে নিয়োজিত আছেন।
অপরদিকে, হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশাবন্দী রহ-এর প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত উচ্চতর ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাহাদুল ফকীর আল-ইসলামীর শায়খুল হাদিস হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ অত্যন্ত উঁচু মাপের একজন আলেম ও সুবক্তা। সাধারণ জনগণ এবং আলেম সমাজ উভয় শ্রেণির শ্রোতাদের উপযোগী করে অত্যন্ত সাবলীল, মিষ্ট ভাষায় ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করায় তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
বাংলাদেশে সফরকালে তারা দেশের আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক মজলিস ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া-এর বর্তমান প্রধান মুফতি এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি শামসুদ্দিন জিয়ার আমন্ত্রণে মেহনরা চট্টগ্রামের মাদ্রাসাগুলোও ঘুরে দেখবেন।
এই সফরকে সামনে রেখে আগামী ১ জুলাই ১০ পর্যন্ত এক মাসের ভিজিট বা কালচারাল ভিসার জন্য ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন করা হয়েছে।
জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কালেমায়ে ‘শাহাদাত’ পাঠ করে মুসলিম হন।
সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (GEA) চেয়ারম্যান তুর্কি আলে শায়খ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তুর্কি আলে-শায়খ জানান, সৌদি আরবে সিনেমাটির শুটিংয়ের মাঝেই জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন এবং একটি স্থানীয় মসজিদে প্রযোজনা দলের অন্য মুসলিম সদস্যদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেন। তুর্কি আলে-শায়খ তাঁর পোস্টে এই মুহূর্তের একটি ভিডিও চিত্রও শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।
৬৮ বছর বয়সী এই হলিউড তারকা বর্তমানে সৌদি আরবে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘৭ ডগজ’ (7 Dogz)-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে অবস্থানকালে সেখানকার মানুষের আতিথেয়তা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা এসপোসিতোর মনে গভীর রেখাপাত করে। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন ও মুসলিমদের জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। জিয়ানকার্লো সৌদির জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং শুটিংয়ের এই অভিজ্ঞতাকে তার জীবনের অন্যতম ইতিবাচক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।
ইতালীয় ও আফ্রো-আমেরিকান বংশোদ্ভূত জিয়ানকার্লো এসপোসিতোর অভিনয় জীবন দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। মাত্র আট বছর বয়সে ব্রডওয়ে থিয়েটারের ‘ম্যাগি ফ্লিন’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হলিউডের অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে (যেমন: ব্রেকিং ব্যাড, দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান) অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, জিয়ানকার্লো এসপোসিতো যে ‘৭ ডগজ’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, তাতে মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ ইজ ও করিম আবদেল আজিজসহ আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা যুক্ত রয়েছেন।
এর আগেও বিশ্বের বহু নামি-দামি লেখক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ ও অভিনয়শিল্পী ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হলিউডের এই শক্তিমান অভিনেতার ইসলাম গ্রহণের খবরটি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ’। (বুখারি ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)
সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।
আজ ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো—
|
জোহর |
১২.০৪ মিনিট |
|
আসর |
৪.৪০ মিনিট |
|
মাগরিব |
৬.৫৩ মিনিট |
|
এশা |
৮.১৯ মিনিট
|
|
ফজর (২৫ জুন) |
৩.৪৫মিনিট
|
বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।
বিয়োগ—
চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট
সিলেট: ৬ মিনিট
যোগ—
খুলনা: ৩ মিনিট
রাজশাহী: ৭ মিনিট
রংপুর: ৮ মিনিট
বরিশাল: ১ মিনিট
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহতায়ালা সেই দোয়ার উত্তর দিয়েছেন, যা সুরা ফতিহার শেষ অংশে প্রার্থনা করা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে: এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতের শুরুতে জালিকা (সেটি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দূরবর্তী বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অথচ কোরআন আমাদের সামনেই রয়েছে। এখানে দূরবর্তী ইশারা ব্যবহারের রহস্য হলো–এই কিতাবটি আমাদের সেই প্রার্থিত ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।
আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, তোমরা যে হেদায়েত চেয়েছিলে, এই সেই উজ্জ্বল সূর্যসম কিতাব; যার জ্ঞান ও গাম্ভীর্য সাধারণের নাগালের অনেক ঊর্ধ্বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই–এই ঘোষণাটি এক অকাট্য সত্য। কারও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে মনে সংশয় জাগতে পারে, কিন্তু কিতাবের সত্যতায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই।
পবিত্র কোরআন যদিও গোটা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, তবুও আয়াতে বলা হয়েছে এটি ‘মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত’। এর কারণ হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এক স্তর সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু পরকালীন মুক্তি ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের যে উচ্চতর স্তর, তা কেবল তারাই পায় যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। হেদায়েত কেবল তথ্যের নাম নয়, বরং তা আমলের বিষয়। তাই যারা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে (মুত্তাকি), কোরআন তাদের জীবনকেই আমূল বদলে দেয়।
আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের বিশেষ তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের মূল ভিত্তি:
আল্লাহ, ফেরেশতা, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম–যা আমরা চর্মচক্ষে দেখি না, কিন্তু আল্লাহর বাণীর ওপর ভিত্তি করে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এটিই ঈমানের আসল পরীক্ষা।
কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের নিয়মকানুন ও একাগ্রতা বজায় রেখে তা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।
আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। এটি মানুষের মনে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
যাদের মধ্যে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা হলো: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। অর্থাৎ প্রকৃত সফলতা কেবল জাগতিক অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া পথে অবিচল থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার মধ্যেই নিহিত।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। গোসল হলো শরীরকে পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র করার একটি মাধ্যম। তবে অনেক সময় মুসল্লিদের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে— যদি কেউ একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে (যেমন- বাথরুমে) সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে গোসল করেন, তবে কি সেই গোসলের মাধ্যমে ওজু সম্পন্ন হবে? নাকি নামাজের জন্য তাকে পুনরায় নতুন করে ওজু করতে হবে? ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর একটি সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে।
ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, সতর বা শরীর উন্মুক্ত থাকা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক নয়। অর্থাৎ, নির্জনে বা গোসলখানায় কেউ যদি কাপড় ছাড়া গোসল করেন, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র বলে গণ্য হবেন।
বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৬৩) এবং ফাতাওয়া সিরাজিয়া (পৃষ্ঠা: ৭৩)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোসলের স্থানে প্রয়োজনবশত কাপড় সরানো বা বিবস্ত্র হওয়ায় কোনো বাধা নেই। সুতরাং কেউ যদি ফরজ বা সাধারণ গোসল সম্পন্ন করেন, তবে সেই গোসলের মাধ্যমেই তার ওজু সম্পন্ন হয়ে যায়।
গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে ওজু করা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ, গোসলের সময় ওজুর অঙ্গগুলো (মুখমণ্ডল, হাত, পা ইত্যাদি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোয়া হয়ে যায়। সতর খোলা থাকা ওজুকে বাতিল করে না। সুতরাং গোসলের পর ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ (যেমন- বায়ু ত্যাগ বা অন্য কোনো কারণ) না ঘটলে ওই গোসল দিয়েই নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সহিহ।
যদিও বিবস্ত্র হয়ে গোসল করলে পবিত্রতা অর্জিত হয়, তবুও শরিয়তের আদব হলো— নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা বা অন্তত একটি লুঙ্গি বা গামছা ব্যবহার করা উত্তম। তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে কাপড় ছাড়াই গোসল করেন, তবে তার ইবাদতে কোনো ত্রুটি হবে না।
দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত সহজ ও যুক্তিপূর্ণ। পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি পৌঁছানো। কাপড় থাকা বা না থাকা এখানে মুখ্য নয়। তাই গোসলের পর নতুন করে ওজু না করলেও আপনার নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক