রোজা অবস্থায়ও মানুষকে নানা রোগ-বালাই নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট ও ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। কখনো বড় ধরনের পরীক্ষা করাতে হয়। ফলে রোজাদার রোগীর দেহের ভেতর পাইপ ইত্যাদি যন্ত্র প্রবেশ করাতে হয়। এর মধ্যে এন্ডোস্কপি করানোর সময় গলার ভেতর দিয়ে পাইপ প্রবেশ করাতে হয়। রোজা রেখে এন্ডোস্কপি করা যাবে কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ দ্বিধায় ভোগেন।
ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়টি হলো রোজা। ইসলামি বিধান অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের মানুষের ওপর। যেন তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাওয়া, পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা হলো রোজা। মৌলিক এ তিনটি কাজ কারও দ্বারা সংঘটিত হলে রোজা ভেঙে যাবে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এন্ডোস্কপি হলো, পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার জন্য চিকন লম্বা একটি পাইপ রোগীর মুখ দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করানো। যার মাথায় থাকে একটি বাল্ব। এই পাইপের সঙ্গে কম্পিউটার মনিটরের সংযোগ থাকে। এর সাহায্যে চিকিৎসকরা রোগীর পেটের অবস্থা ও রোগ নির্ণয় করে থাকেন। এন্ডোস্কপির পাইপের সঙ্গে কোনো প্রকার মেডিসিন লাগানো থাকে না, তাই স্বাভাবিক অবস্থায় এর কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে এন্ডোস্কপি করার সময় পাইপে তরল ওষুধ ব্যবহার করলে, আর সেটি যদি পেটে থেকে যায়, তা হলে রোজা ভেঙে যাবে। (আলমুহিতুল বুরহানি, ৩/৩৪৮; জাদিদ ফিকহি মাসায়েল, ১/১২৬)
ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে আছে, ‘যদি কেউ কোনো গোশতের টুকরা সুতা দ্বারা বেঁধে গিলে ফেলে, অতঃপর টান দিয়ে বের করে নিয়ে আসে তা হলে রোজা ভাঙবে না।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, ২/২০৪)
লেখক: শাইখুল হাদিস, সিরাজনগর মাদরাসা নরসিংদী; সদস্য, তানযীম ফতোয়া বোর্ড নরসিংদী