ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খোকসায় বন্ধুজন এর বর্ষাবরণ ও ফল উৎসব আইসিইউতে নতুন আতঙ্ক: ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে: উপদেষ্টা তিতুমীর ঢাকার বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ, ৩২ রুটে সমঝোতা ইউরেনিয়ামকে নিরাপদ রাসায়নিক যৌগে রূপান্তর ব্যাকটেরিয়ার মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় পঞ্চগড়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে আব্দুল হাই ও সুলতান মাহমুদ আশুলিয়ায় জিম্মি উদ্ধার অভিযানে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি সিরিয়ায় দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৩৫ কুষ্টিয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নীরব, বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়েই পোস্ট মোদির সফল অস্ত্রোপচার করল হিউম্যানয়েড রোবট জয়পুরহাটে বন্দুক ও শর্ট গানের কার্তুজ উদ্ধার পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে কর্ণফুলীতে র‍্যালি শিক্ষামন্ত্রী গেছেন, এবার সরকার যাবে: রাহুল গান্ধী কক্সবাজারে ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতা আটক সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে: পিআইবি মহাপরিচালক চট্টগ্রামে লরিচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বাগমারায় বিএনপি নেতার বাড়িতে ককটেল হামলা চট্টগ্রামে নালায় ১৩২০ গুলির খোসা উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে হরিরামপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৩৯ অরবিটাল বুস্টার পুনরুদ্ধারে চীনের বড় সাফল্য আসছে রেঞ্জ রোভারের নতুন ইলেকট্রিক জিটি কুবিতে প্রবেশে ফয়জুল করিম অনুমতি পেলেও বাধার মুখে নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় আমেরিকার তৈরি অস্ত্র উদ্ধার স্যামসাংয়ের নতুন গ্যালাক্সি ওয়াচ দ্বিতীয় দিনে আরও ১টি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ জমা ২৭ জুলাই: চিফ প্রসিকিউটর

অমুসলিমকে বিয়ে করার বিধান

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৬ এএম
অমুসলিমকে বিয়ে করার বিধান
বর-কনের কার্টুন ছবি। ইন্টারনেট

বিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক পবিত্র বন্ধন। বিয়েতে আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। এ ব্যাপারে ধর্মীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত (আদর্শ)। আর যে আমার সুন্নতের অনুসরণ করে না, সে আমার দলভুক্ত (মুসলমান) নয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৯৪৬)

কাদের বিয়ে করা যাবে আর কাদের যাবে না—এ নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। পাঁচ প্রকার সম্পর্কের কারণে অনেক নারীকে বিয়ে করা যায় না। যেমন- বংশীয় সম্পর্ক, শ্বশুরালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, দুধ সম্পর্কীয়, রক্তের কারণে দুজন একই সম্পর্কে যুক্ত হওয়া ও ধর্মের ভিন্নতার কারণে। 

ইসলামে ধর্মের ভিন্নতার কারণে বিয়ে শুদ্ধ হয় না। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একই ধর্মের হওয়া জরুরি। সে হিসেবে যেকোনো বিধর্মী নারীকে বিয়ে করা ইসলামে নিষেধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ইমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক (বহু স্রষ্টায় বিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করো না, যদিও মুশরিক নারী তোমাদের মুগ্ধ করে...। ইমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক পুরুষের সঙ্গে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিয়ো না, যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করে...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২১)। আরেক আয়াতে আছে, ‘তোমরা কাফের নারীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না...।’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ১০)

মুসলিম নারীর জন্য অন্য ধর্মাবলম্বী পুরুষকে স্বামী হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমাদের কাছে মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করে নাও, তাদের ইমান সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর যদি তাদের মুমিন বলে জানতে পারো, তাহলে তাদের কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিও না। মুমিন নারীরা কাফেরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফেররাও তাদের জন্য হালাল নয়...।’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ১০)। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে আহলে কিতাবদের বিয়ের সুযোগ দিয়েছে ইসলাম। কোরআনে আছে, ‘মুমিন সতীসাধ্বী নারী ও আহলে কিতাবের সতীসাধ্বী নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো...।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৫)

আহলে কিতাবি বলতে সেসব ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বোঝায়, যারা প্রকৃতপক্ষে আসমানি কিতাবে বিশ্বাসী। কখনো প্রয়োজন পড়লে তাদের বিয়ে করা যাবে। তবে দুটি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এক. প্রচলিত ইহুদি-খ্রিষ্টানদের মতো নামসর্বস্ব হলে হবে না। পরিপূর্ণভাবে সব আসমানি কিতাবের ওপর বিশ্বাসী হতে হবে। দুই. প্রকৃতই ইহুদি-খ্রিষ্টান হতে হবে। ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে ইহুদি-খ্রিষ্টান হলে হবে না। এ দুই শর্ত কোনো আহলে কিতাবি নারীর মধ্যে পাওয়া গেলে তাদের একান্ত প্রয়োজনসাপেক্ষে বিয়ের অবকাশ রয়েছে। তবে বর্তমানে এমন আহলে কিতাব নেই। কোনো প্রয়োজন ছাড়া বিয়ে করলে তা মাকরুহ ও অনেক দ্বীনি ক্ষতির কারণ হবে। উমর (রা.) তার সময়ে আহলে কিতাব নারীদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। 

কেন এমন বিধান? কেন মুসলিম নারীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি?
 
এর জবাবে উপমহাদেশের আলেম মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরি (রহ.) বলেন, ‘এ বিধানের ভিত্তি দুটি মূলনীতির ওপর। এক. নারীরা পুরুষের অধীনে হয়ে থাকে। ফলে কোনো মুসলিম নারী কোনো কাফের বা আহলে কিতাবি পুরুষের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হলে তার ধর্ম ঠিক থাকবে না। দুই. আহলে কিতাবিদের কুফরি মুশরিক ও অগ্নিপূজকদের কুফরি থেকে বেশি সূক্ষ্ম।’ এ প্রসঙ্গে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভি (রহ.) লিখেছেন, ‘বিয়ের মাধ্যমে জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে কুফর (ইসলামবিরোধী বিশ্বাস ও রীতিনীতি) অন্তরে প্রবেশ করে (তাই আহলে কিতাব ছাড়া অন্যদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়)। কিন্তু আহলে কিতাব বা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আসমানি শরিয়তে (ধর্মীয় বিধান) বিশ্বাসী। তারা শরিয়তের মৌলিক বিষয় (একত্ববাদ, নবুওয়াত ও আখেরাত) স্বীকার করে। ফলে তাদের সংস্পর্শে ধর্মীয় মূল্যবোধ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অন্য ধর্মের তুলনায় কম ক্ষতিকর। কিন্তু অগ্নিপূজারি, মূর্তিপূজারি ও মুশরিকদের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম (মৌলিক, শাখাগত ও সংস্কৃতিগত সব বিষয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ থাকায় তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেননা এটি জীবনাচারে আমূল প্রভাব বিস্তার করতে পারে)।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা, ২/১৩৩, তাফসিরে হেদায়েতুল কোরআন, ১/২৬৬)

কুয়েতের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ইসলামি আইন বিশ্বকোষে আছে, ‘মুসলমানের জন্য এমন নারীকে বিয়ে করা হারাম, যার কোনো কিতাব নেই (যেকোনো আসমানি গ্রন্থে বিশ্বাসী নয়)।’ (আল মাওসুআতুল ফিকহিইয়া আল কুয়েতিইয়া, ৩৫/২৬)

প্রচলিত হিন্দু, বৌদ্ধ, বাহায়ি, শিখ ও কনফুসীয় ধর্মের অনুসারীরাদের কারও সঙ্গে কোনো মুসলিমের বিয়ে বৈধ নয়। কেউ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে গেলে, তার বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। মুসলমানদের জন্য কোনো মুরতাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়। চার মাজহাবের ওপর লিখিত গ্রন্থ আল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআয় রয়েছে, ‘মুরতাদের পাঁচটি বিষয় সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল। তার প্রধান ও প্রথম বিধান হলো, মুরতাদের বিয়ে নিঃশর্তভাবে বাতিল।’ 

কোনো মুসলিম নারীর বিধর্মী স্বামী থাকলে তাকে মুসলমান বানিয়ে নতুনভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। সম্ভব না হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে। ইসলাম অনুমোদিত নয়, এমন বিয়ের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নিলে, সন্তান যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলেই সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৫৭; হেদায়া, ২/৩৪৬; ফতোয়া মাহমুদিয়া, ১৭/৮২)
 

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাসেম নানুতবী, ঢাকা

 

আলোর পথে যাত্রা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আলোর পথে যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

হেদায়েতের অর্থ হচ্ছে মানুষকে সৎপথে দৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। উক্ত অনুগ্রহ আল্লাহ চাইলে ইসলামের চরম দুশমনকেও দিতে পারেন। আবার বান্দার কর্মফলের জন্য সেই অনুগ্রহ ফিরিয়েও নিতে পারেন। ইসলামের সঙ্গে চরম দুশমনি করেও হেদায়েতের অমিয় সুধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যারা তাদের মধ্যে অন্যতম হজরত উমর (রা.)। তৎকালীন আরবে উগ্র মেজাজ, রূঢ় প্রকৃতি এবং বীরত্বের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত ছিলেন খাত্তাবের ছেলে উমর।

ইসলামপূর্ব জীবনে তার দ্বারা নবমুসলিমরা অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হতো। একদা তিনি রাসুল (সা.)-কে হত্যার উদ্দেশে খোলা তরবারি হাতে বের হন। পথিমধ্যে নিজ বোন এবং ভগ্নিপতি মুসলিম হওয়ার খবর শুনে তাদের নির্মমভাবে প্রহার করেন। এত অত্যাচারের পরও ইসলামের প্রতি তাদের মনোভাব দৃঢ় এবং অটুট রইল। এ ঘটনা থেকে উমর (রা.)-এর ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব তার অন্তরাত্মাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করতে থাকল এবং সর্বশেষে তিনি ইসলামের হেদায়েতপ্রাপ্ত হলেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে আমিরুল মোমিনিন উমর (রা.)-কে রাসুল (সা.) ফারুক উপাধি দেন এবং তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন সাহাবির একজন ছিলেন।

হেদায়েতের আলোক রশ্মিতে আলোকিত অন্য সাহাবি হলেন আবু সুফিয়ান। তিনি মক্কার কুরাইশ বংশের বনু আব্দে সামস গোত্রের সন্তান। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ছিলেন কুরাইশদের শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বদর, ওহুদ এবং খন্দকের মতো যুদ্ধে তিনি কুরাইশদের নেতৃত্ব দেন। আবু সুফিয়ান রাসুল (সা.)-এর ২৩ বছর নবুওয়াতের প্রায় ২১ বছর ইসলামের বিরোধিতা করেছিলেন। মক্কা বিজয়ের আগে অষ্টম হিজরিতে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা লাভ করেন এবং বাকি জীবন ইসলামের বিস্তৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) ছিলেন মহিলা সাহাবিদের মধ্যে হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্যতম নারী। উতবা ইবনে রাবিয়ার কন্যা বা আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা। বদর যুদ্ধে কুরাইশদের অনুপ্রেরণা দিতে বহু কবিতা রচনা করেন। যুদ্ধে তার বাবা, চাচা, ভাই নিহতের প্রতিশোধ না নিয়ে তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর চাচা হামজা (রা.) শহিদ হওয়ার পর লাশ বিকৃত করে কলিজা খুলে ভক্ষণ করার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটান। পরবর্তী সময়ে মক্কা বিজয়ের পর অষ্টম হিজরিতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মহিলা সাহাবির সম্মান লাভ করেন।

ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে নবি করিম (সা.) এবং মুসলমানদের ঘোর বিরোধী ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ। উহুদ যুদ্ধে কুরাইশদের অশ্বারোহী দলের নেতৃত্ব দিয়ে পেছন থেকে আক্রমণ করে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে অষ্টম হিজরিতে তিনি হেদায়েতপ্রাপ্ত হন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অসামান্য সামরিক মেধার অধিকারী এই সেনাপতি ছোট-বড় ১০০টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মহানবি (সা.) তার ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে সাইফুল্লাহ উপাধি দেন।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, যাকে আল্লাহ হেদায়েত দেন, সেই সঠিক পথে আসে; আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করেন তুমি তার জন্য কখনো সাহায্যকারী পাবে না (সুরা কাহাফ, আয়াত ১৭)

লেখক: শিক্ষার্থী
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ

২৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার । ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৯ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (২৬ জুলাই)

৪.০২মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সব মানুষের জন্য নাজিল হওয়া সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
সব মানুষের জন্য নাজিল হওয়া সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ
ছবি: সংগৃহীত

মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মানবজাতির মুক্তির সনদ। এটি সর্বকালের, সর্বযুগের এবং সর্বমানুষের জন্য নাজিল হওয়া সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ। এতে মানবজীবনের মৌলিক সব সমস্যার প্রকৃত সমাধান পেশ করা হয়েছে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। এ কারণেই কোরআন পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত ও গবেষণার গ্রন্থ।

শাব্দিক অর্থ–কোরআন শব্দটির অর্থ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কয়েকটি মত রয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো–কোরআন শব্দটি ক্বারউন থেকে নির্গত, যার অর্থ পঠিত। যেহেতু এটি পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ, তাই এর নাম কোরআন। অন্য একটি মত হলো–এর অর্থ একত্র করা বা জমা করা। কোরআনের এক আয়াত অপর আয়াতের সঙ্গে মিলিত বলে এটিকে কোরআন বলা হয়।

পারিভাষিক সংজ্ঞা–ইমাম জারকাশি (রহ.) ও ইমাম সুয়ুতি (রহ.) লিখেছেন, কোরআন হলো আল্লাহর সেই বাণী–যা মুজিজা (অলৌকিক), যা শেষ নবি ও রাসুলের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, বিশ্বস্ত ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে; যা মুসহাফগুলো লিখিত, যা আমাদের কাছে তাওয়াতুর (অসংখ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র) দ্বারা পৌঁছেছে, কোনো প্রকারের কোনো সন্দেহ ছাড়া; যার তিলাওয়াত করা ইবাদত; যা সুরা ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সুরা নাস দিয়ে শেষ। (আল-বুরহান ফি উলুমিল কোরআন, ১/২৭৮; আল-ইতকান ফি উলুমিল কোরআন, ১/৪৫)

কোরআনের নামসমূহ: আল্লামা সুয়ুতি (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-ইতকান ফি উলুমিল কোরআন’-এ কোরআনের ৫৫টি নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো আল-কিতাব–সব জ্ঞান একত্রিত করা হয়েছে বলে। আল-কোরআন সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ হিসেবে এই নাম। আল-ফুরকান–সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। আন-নুর–হালাল-হারামের অন্ধকার দূরকারী আলো। আশ-শিফা–শারীরিক ও আত্মিক রোগের নিরাময়কারী। আল-হুদা–মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। আর-রহমত–মুমিনদের জন্য রহমত। আল-হাকিম–গভীর অর্থ ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ গ্রন্থ। আল-মুবারাক–মানবজাতির জন্য বরকতময় গ্রন্থ। হাবলুল্লাহ–আল্লাহর রশি; যে আঁকড়ে ধরবে সে জান্নাতে যাবে।

কোরআন নাজিলের পেছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল। সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো–মানবতার সব সমস্যার সমাধান দেওয়া। বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদের ঘোষণা দেওয়া। আত্মার পরিশুদ্ধি সাধন করা। তৎকালীন আরব সমাজের ভ্রান্ত আকিদা ও কুসংস্কার দূর করা। ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তব রূপরেখা প্রদান করা। পূর্ববর্তী নবি-রাসুল ও তাদের কিতাবের সত্যতা প্রমাণ করা।

শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ দেখানো। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক তৈরি করা। অতীত জাতিগুলোর শোচনীয় পরিণামের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা। (ইবনু কাসির, আবুল ফিদা ইসমাইল। তাফসিরুল কোরআনিল আজিম। বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৯ হি./১৯৯৯ খ্রি.। প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭-৮২, মুকাদ্দামায়ে তাফসির অধ্যায়)

কোরআন নাজিলের সময়কাল: মাক্কি পর্ব–১৩ বছর (৬১০-৬২২ খ্রি.) তাওহিদ, আখিরাত, নবুওয়াত ও চরিত্র গঠনের আয়াত। মাদানি পর্ব–১০ বছর (৬২২-৬৩২ খ্রি.) আইন, বিধিবিধান, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার আয়াত।
কেন ধীরে ধীরে নাজিল হলো? আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, আমি কোরআনকে বিভক্ত করেছি, যাতে তুমি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পড়তে পারো; আমি তা পর্যায়ক্রমে নাজিল করেছি। (সুরা বনি ইসরাইল: ১০৬)

ধীরে নাজিলের পেছনে কয়েকটি গভীর হিকমত রয়েছে–মানুষের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যাওয়ার জন্য–মুখস্থ ও অনুশীলনের সুবিধার্থে। বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাধান দেওয়ার জন্য। মুমিনদের অন্তর মজবুত করার জন্য–ধাপে ধাপে আমলের অভ্যাস গড়তে। নাসিখ ও মানসুখের হিকমত–পর্যায়ক্রমে বিধান পরিবর্তনের সুযোগ রাখা। (দ্রষ্টব্য: সুরা বনি ইসরাইল: ৯, সুরা আলে ইমরান: ১৬৪, সুরা হাদিদ: ২৫; তাফসিরে ইবনু কাসির, প্রথম খণ্ড)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

যেভাবে নাজিল হয়েছে কোরআন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
যেভাবে নাজিল হয়েছে কোরআন
ছবি: সংগৃহীত

রাসুল (সা.)-এর কাছে ওহি নাজিলের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ছিল–

১. ঘণ্টার আওয়াজের মতো: এ পদ্ধতিতে ওহি আসার সময় রাসুল (সা.)-এর অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেত। প্রচণ্ড শীতের দিনেও তার কপাল থেকে ঘাম ঝরত। উটের পিঠে থাকলে উট বসে পড়ত। কখনো রাসুল (সা.)-এর ঊরু কারও ঊরুর ওপর থাকলে সে অসহ্য ভার অনুভব করত। হারিস ইবনে হিশাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে ওহি কীভাবে আসে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, কখনো কখনো আমার কাছে ঘণ্টার (জারাস) শব্দের মতো আসে–এটি আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন। তারপর তা শেষ হলে সে কথা আমার মনে গেঁথে যায়। (বুখারি, ২; মুসলিম, ২৩৩৩)

২. অন্তরে সরাসরি ঢেলে দেওয়া: এ পদ্ধতিতে কোনো শব্দ বা আওয়াজ ছাড়াই সরাসরি রাসুল (সা.)-এর অন্তরে কথা ঢেলে দেওয়া হতো। এটিকে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন নাফসিল ওহি বা ইলহাম ফিল কালব। রাসুল (সা.) বলেছেন, রুহুল কুদুস [জিবরাইল (আ.)] আমার অন্তরে ঢেলে দিয়েছেন যে, কোনো আত্মা তার রিজিক পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং সুন্দরভাবে রিজিক অন্বেষণ করো। (ইবনে মাজাহ, ২১৪৪)

৩. মানব আকৃতিতে জিবরাইল (আ.)-এর আগমন: জিবরাইল (আ.) অধিকাংশ সময় মানুষের রূপ ধারণ করে আসতেন। সাহাবায়ে কেরামও তখন তাকে দেখতে পেতেন। তিনি সাধারণত সুন্দর চেহারার সাদা পোশাকধারী যুবকের আকৃতিতে আসতেন এবং অধিকাংশ সময় সাহাবি দিহইয়া আল-কালবি (রা.)-এর আকৃতিতে। হাদিসে এসেছে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসেছিলাম, হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে এলেন–অত্যন্ত সাদা পোশাক, অত্যন্ত কালো চুল, সফরের কোনো চিহ্ন নেই, আমাদের কেউ তাকে চেনে না... তারপর নবি (সা.) বললেন, ইনি জিবরাইল—তিনি তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছেন। (মুসলিম, ৮) দিহইয়া কালবির আকৃতিতে আসার হাদিস–জিবরাইল নবি (সা.)-এর কাছে দিহইয়া কালবির আকৃতিতে আসতেন। (বুখারি, ৩৬৩৪; মুসলিম, ২৪৫১)

৪. জিবরাইল (আ.)-এর নিজস্ব আকৃতিতে আগমন: জিবরাইল (আ.)-এর আসল আকৃতি অকল্পনীয়। তার ৬০০ ডানা আছে। রাসুল (সা.) তাকে এই আসল রূপে মাত্র দুবার দেখেছেন–একবার মক্কায় (হেরা গুহার কাছে), একবার মিরাজের রাতে। রাসুল (সা.) জিবরাইলকে দেখলেন—তার ৬০০ ডানা, প্রতিটি ডানা দিগন্ত ঢেকে ফেলছে। (বুখারি, ৩২৩২)

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সেটা জিবরাইল–আমি তাকে তার আসল সৃষ্টির আকৃতিতে মাত্র দুবার দেখেছি। (মুসলিম, ১৭৭; মুসনাদে আহমদ, ২৫৭৫৬)

৫. নিদ্রাবস্থায় ওহি: নবিদের স্বপ্ন সত্য এবং ওহির একটি বিশেষ মাধ্যম। রাসুল (সা.) নবুওয়াতের শুরুতে ছয় মাস সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওহির প্রস্তুতি পেয়েছিলেন।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ওহির সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মতো সত্য হয়ে যেত। (বুখারি, ৩; মুসলিম, ১৬০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নবিদের স্বপ্ন ওহি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২৯৯০৮)

৬. আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি বাক্যালাপ: এটি সব পদ্ধতির মধ্যে সর্বোচ্চ এবং অতুলনীয়। মিরাজের রাতে রাসুল (সা.) সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, পবিত্র সেই সত্তা যিনি তার বান্দাকে রাতের বেলা মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন–যার চারপাশ আমি বরকতময় করেছি–যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাই। (সুরা বনি ইসরাইল, ১)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

কোরআন লিপিবদ্ধকরণের ইতিহাস

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
কোরআন লিপিবদ্ধকরণের ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম পর্যায়–রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ: কোরআন সংকলনের ইতিহাস শুরু হয় স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই। অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত–কোরআনের যেকোনো অংশ নাজিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাসুল (সা.) তা লিখিয়ে রাখতেন। এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সাহাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন–তাদের বলা হতো কাতিবুল ওহি বা ওহির লেখক। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.), যার উপাধি ছিল কাতিবুন নাবি। 

ইমাম বুখারি (রহ.) ফাজাইলুল কোরআন অধ্যায়ে এ বিষয়ে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। প্রথম হাদিসে–আবু বকর (রা.) জায়েদকে (রা.) বলছেন–তুমি তো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে ওহি লিপিবদ্ধ করতে। দ্বিতীয় হাদিসে–সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নাজিলের সময় রাসুল (সা.) নিজে বলছেন–আমার কাছে জায়েদকে ডাকো, সে যেন লওহ (ফলক), দোয়াত ও কাঁধের হাড় (কাতিফ) ও দোয়াত নিয়ে আসে। (বুখারি, ৪৯৯০)

শুধু মাদানি জীবনেই নয়, মাক্কি জীবনেও ওহি লেখানোর ব্যবস্থা ছিল। মক্কার ওহি লেখকদের একজন ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ এবং চার খলিফাও এই কাজ করতেন। এর একটি বড় প্রমাণ হলো–উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের দিন তার বোনের কাছে সুরা ত্বহার আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছিলেন।

মাক্কি ও মাদানি উভয় জীবনে যারা ওহি লিখতেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন–১. জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.), ২. খালিদ ইবনে সাইদ (রা.), ৩. হানজালাহ ইবনুর রাবি (রা.), ৪. মুআইকিব ইবনে আবি ফাতিমা (রা.), ৫. আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম (রা.), ৬. শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ (রা.), ৭. আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.), ৮. মুআবিয়া ইবনে আবি সুফইয়ান (রা.), ৯. উবাই ইবনে কাব (রা.), ১০. খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) ও ১১. সাবিত ইবনে কায়স (রা.) প্রমুখ। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮৩)

যারা হাফেজ ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চার খলিফা, তালহা (রা.), সালেম (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.), হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), মুআবিয়া (রা.), হজরত আয়েশা (রা.), হাফসা (রা.) ও উম্মু সালামা (রা.)-সহ আরও অনেকে।

কাতিবরা রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনায় আয়াতগুলোকে বিভিন্ন সুরার আওতায় বিন্যস্তও করতেন। আয়াতের ধারাবাহিকতা নির্ধারিত হতো আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জিবরাইল (আ.)-এর পরামর্শের ভিত্তিতে।

উসমান ইবনে আবিল আস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসে ছিলাম। হঠাৎ তিনি দৃষ্টি ওপরে তুললেন, তারপর তা নামিয়ে আনলেন–এমনকি প্রায় মাটির সঙ্গে লাগিয়ে ফেলার উপক্রম হলো। এরপর আবার দৃষ্টি তুলে বললেন, আমার কাছে জিবরাইল এসেছিলেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, এই আয়াতটি (নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান ও আত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন... (সুরা আন-নাহল, ৯০) যেন এই সুরার এই জায়গায় স্থাপন করি। (মুসনাদ আহমাদ, ১৭৯১৮)

সব আলেম একমত, আয়াতের ধারাবাহিকতা এবং সুরাগুলোর ধারাবাহিকতাও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার আলোকে সম্পূর্ণ ওহির নির্দেশনায় নির্ধারিত। (মাবাহিস ফি উলুমিল কোরআন, ৭০)

অনেক কাতিবে অহি নিজেদের জন্য আলাদা কোরআনের কপি তৈরি করতেন। সাহাবিরাও পঠন-পাঠনের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত অনুলিপি রাখতেন, তবে এগুলো পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তখন ওহি লেখা হতো খেজুরের ডাল, হাড়, কাঠফলক, চামড়া, কাপড় ও স্বচ্ছ পাথরে। পাশাপাশি বহু হাফিজের স্মৃতিতেও পুরো কোরআন সংরক্ষিত ছিল। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ফাতিমা (রা.) হেঁটে এলেন। তার চলার ভঙ্গি যেন রাসুল (সা.)-এরই চলার ভঙ্গি। রাসুল (সা.) বললেন, স্বাগতম, আমার কন্যা! তারপর তাকে নিজের ডানে বা বামে বসালেন এবং চুপিচুপি কিছু বললেন, ফাতিমা কেঁদে ফেললেন। এরপর আবার চুপিচুপি কিছু বললেন, এবার তিনি হেসে উঠলেন...

রাসুলের ইন্তেকালের পর আমি জিজ্ঞেস করলে ফাতিমা (রা.) বললেন, তিনি (রাসুল) আমাকে গোপনে বলেছিলেন, জিবরাইল (আ.) প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে কোরআনের মুআরাদা (পারস্পরিক পাঠ-পুনরাবৃত্তি) করতেন; কিন্তু এ বছর তিনি দুবার করেছেন। আমার মনে হয়, আমার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। এ কথা বলার পর আমি কাঁদলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তুমি জান্নাতের নারীদের অথবা মুমিন নারীদের নেত্রী হবে? এ কথা শুনে আমি হাসলাম। (বুখারি, ৩৬২৪; মুসলিম, ২৪৫০)

তবে রাসুল (সা.) জীবদ্দশায় কোরআন এক জায়গায় একত্র করেননি–কারণ তখনো কোনো আয়াত বা বিধান রহিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তার ওফাতের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যায়, ফলে সংকলনের পথে আর কোনো বাধা রইল না। (মাবাহিস ফি উলুমিল কোরআন, পৃষ্ঠা ৭৩)

 

দ্বিতীয় পর্যায়–আবু বকর (রা.)-এর যুগ: আবু বকর (রা.)-এর যুগে আরবের অনেক গোত্র মুরতাদ হয়ে যায়; অনেকে জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়; কেউ কেউ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল মুসাইলামাতুল কাজ্জাব। আবু বকর (রা.) একবার খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নেতৃত্বে বাহিনী পাঠান। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসাইলামাহ পরাজিত ও নিহত হয়–কিন্তু এই যুদ্ধে ৭০০-এরও বেশি সাহাবি শহিদ হন, যাদের অনেকেই ছিলেন হাফিজুল কোরআন ও ক্বারী। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭১-৭২)

এ পরিস্থিতি দেখে উমর (রা.) আবু বকর (রা.)-এর কাছে কোরআন একত্রীকরণের প্রস্তাব দেন। আবু বকর (রা.) প্রথমে ইতস্তত করলেন—কারণ রাসুল (সা.) এই কাজ করেননি। কিন্তু উমর (রা.)-এর বারংবার বলাতে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তার অন্তর প্রশস্ত করে দিলেন এবং তিনি এই উদ্যোগে রাজি হলেন। পুরো ঘটনাটি স্বয়ং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন। বুখারির ৪৯৮৬ ন‍ম্বর হাদিসে বর্ণনাটি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হলো জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে। আবু বকর (রা.) নিজেই কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন–তুমি বুদ্ধিমান যুবক, তোমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তুমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলেই ওহি লিপিবদ্ধ করতে। সংকলনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করে দেওয়া হলো। উমর (রা.) ও জায়েদ (রা.)-কে বলা হলো, তোমরা মসজিদের দরজায় বসো। কেউ আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশ দুজন সাক্ষীসহ নিয়ে এলে তোমরা তা লিপিবদ্ধ করবে। (আল-ইতকান ফি উলুমিল কোরআন, ১/১০০)

এই নির্দেশনার আলোকে জায়েদ (রা.) পুরো এক বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংকলনের কাজ সম্পন্ন করলেন। তার সংকলনপদ্ধতির মূল ভিত্তি ছিল দুটি–শুধু লিখিত রূপে থাকলেই তা গ্রহণ করা হবে না, হাফিজদের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া; আবার শুধু মুখস্থের ওপরও নির্ভর না করে কমপক্ষে দুজনের কাছে লিখিত অবস্থায় পাওয়া না গেলে গ্রহণ না করা। রাসুল (সা.)-এর আমলে কোরআন লিপিবদ্ধ হয়েছিল–ফলক, হাড়, খেজুরের ডাল, কাপড় ও পাথরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে এক জায়গায় সংরক্ষিত ছিল না। আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুসারে লিখিত কোরআনকে সাজিয়ে সেই একত্রে গেঁথে দিলেন। একত্রিতকরণ করা হলো পবিত্র কোরআন।

সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একমত–এই সংকলন হলো সেটিই, যা জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-এর জীবনের শেষ বছরে তার সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।

সংকলিত একত্রিত কোরআনের কপি আবু বকর (রা.)-এর কাছে ছিল। তার মৃত্যুর পর তা উমর (রা.)-এর কাছে, আর উমর (রা.) মৃত্যুর পর তা উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর কাছে সংরক্ষিত থাকে। (বুখারি, ৪৯৮৬)

 তৃতীয় পর্যায়–উসমান (রা.)-এর যুগ: বিশিষ্ট সাহাবি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়াভিযানে অংশ নিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন–সিরিয়াবাসী কোরআন তেলাওয়াত করছে উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর কিরাত অনুযায়ী, ইরাকবাসী তেলাওয়াত করছে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কিরাত অনুযায়ী এবং এক দল অন্য দলকে ভুল বলছে। তিনি বললেন, কুফাবাসী বলে ইবনে মাসউদের কিরাত সঠিক, বাসরাবাসী বলে আবু মুসার কিরাত সঠিক। আল্লাহর শপথ! আমি আমিরুল মুমিনিনের কাছে এগুলো জানাব। মদিনায় ফিরে তিনি উসমানকে (রা.) বললেন, ইয়াহুদ ও নাসারাদের মতো নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদে পড়ার আগেই আপনি এই উম্মাহকে সামলান। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭৮)। শুধু বাইরে নয়, মদিনায়ও উসমান (রা.) নিজে এই মতভেদ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। একবার মসজিদে খুতবা দিতে গিয়ে তিনি বললেন–তোমরা আমার সামনেই মতভেদ করো, না জানি দূরে যারা আছে তারা কী করে! (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭৯)। উসমান (রা.) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিলেন। মুহাজির ও আনসারি সাহাবিদের একত্রিত করলেন–যাদের অন্যতম ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো–হাফসা (রা.)-এর কাছে থাকা কোরআনের কপিটির অনুলিপি তৈরি করে বিশুদ্ধ কপি সারা খিলাফতে ছড়িয়ে দিতে হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাফসা (রা.)-এর কাছে দূত পাঠিয়ে জানানো হলো–অনুলিপি তৈরি করার পর মূল কপি আপনার কাছে আবার ফেরত পাঠানো হবে। হাফসা (রা.) রাজি হলেন। এরপর উসমান (রা.) চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেন–জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন–আনসারি আর আবদুল্লাহ ইবনুজ জুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস ও আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম (রা.) তিনজনই ছিলেন কুরাইশি। নির্দেশনা দেওয়া হলো–কোনো শব্দের আরবিত্বে মতভেদ হলে কুরাইশি উচ্চারণকে প্রাধান্য দিতে হবে, কারণ কোরআন তাদের ভাষায় নাজিল হয়েছে। (বুখারি, ৪৯৮৭)। ২৫ হিজরিতে কমিটির কাজ শুরু হলো। চারজনই ছিলেন হাফেজে কোরআন। তারা হাফসা (রা.)-এর কাছে থাকা কোরআনের মূল কপির ভিত্তিতে কয়েকটি অনুলিপি প্রস্তুত করলেন। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮০-৮১)

উসমান (রা.)-এর সংকলনে আয়াত বা সুরার ধারাবাহিকতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ইবনে জুবায়ের (রা.) জিজ্ঞেস করলেন–সুরা বাকারার ২৪০ নম্বর আয়াত তো ২৩৪ নম্বর আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়ে গেছে—তবু কেন রাখছেন? উসমান (রা.) বললেন, ভাতিজা, আমি কোরআনের কোনো কিছু তার স্থান থেকে পরিবর্তন করতে পারি না। (বুখারি, ৪৫৩০)। এই জবাব থেকে স্পষ্ট–কোনো আয়াত বাদ দেওয়া তো দূরের কথা, কোনো আয়াতের স্থানও পরিবর্তন করা হয়নি।

কাজ শেষে মূল নুসখা হাফসা (রা.)-এর কাছে ফেরত পাঠানো হলো। আর অনুলিপিকৃত মুসহাফগুলো পাঠানো হলো বিভিন্ন প্রদেশে। প্রেরিত মুসহাফের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের মতে চারটি অনুলিপি তৈরি করা হয়েছিল, আর সেগুলো যথাক্রমে মদিনা, সিরিয়া, কুফা ও বাসরায় পাঠানো হয়েছিল। কারও মতে পাঁচটি–ওপরের চারটির সঙ্গে মক্কায় আরেকটি। কারও মতে ছয়টি–পঞ্চমটির সঙ্গে বাহরাইনেও একটি পাঠানো হয়েছিল। কারও মতে সাতটি–ষষ্ঠটির সঙ্গে ইয়ামানেও একটি পাঠানোর হয়েছিল। আবার কারও মতে আটটি এবং অষ্টম কপিটি উসমান (রা.) নিজের কাছে রেখেছিলেন, শাহাদাতের সময় তিনি সেটিই তেলাওয়াত করছিলেন। (আদওয়াউল বায়ান ফী তারীখিল কোরআন, ৭৭)

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রতিটি মুসহাফের সঙ্গে একজন করে কারীও পাঠানো হলো–আবদুল্লাহ ইবনে সাইবকে মক্কায়, আল-মুগিরা ইবনু শিহাবকে সিরিয়ায়, আবু আবদিল্লাহ আস-সুলামি কুফায়, আমির ইবনু কায়স বাসরায় এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন মদিনায়।

রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশুদ্ধতম কপি তৈরির পর ব্যক্তিগত কপিগুলো বহাল রাখলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কার কথা চিন্তা করে উসমান (রা.) নির্দেশ দিলেন–মদিনা থেকে প্রেরিত মুসহাফ ছাড়া বাকি সব কপি সম্মানের সঙ্গে জ্বালিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। (বুখারি, ৪৯৮৭)

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) লিখেছেন, কোরআনের বিক্ষিপ্ত কপিগুলো জ্বালানোর আগে কপিগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়েছিল। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮২) এই পুরো সিদ্ধান্ত সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। (আত-তারিখুস সগির, ১/৯৪)

আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর সংকলনের মাঝে কোনো পার্থক্য ছিল না। আবু বকর (রা.) সংকলন করেছিলেন–কারণ হাফেজদের তিরোধানে কোরআনের অংশবিশেষ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর উসমান (রা.) সংকলন করলেন–কারণ বিভিন্ন উপভাষায় তেলাওয়াতের কারণে পাঠপদ্ধতিতে মতভেদ তৈরি হচ্ছিল এবং উম্মাহর মাঝে বিভেদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। (ফাতহুল বারী, ৯/১৮)। আবু বকর (রা.)-এর সংকলন বোঝাতে সহিফা এবং উসমান (রা.)-এর সংকলন বোঝাতে মুসহাফ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সহিফা অর্থ ক্ষুদ্র পুস্তিকা, একত্রিত। আর মুসহাফ অর্থ দুই মলাটের মাঝে বাঁধাইকৃত পুস্তক। 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক