ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বর্ষার প্রথম প্রেম মেঘেদের সাথে আর গল্প হলো না ছাই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন সাভারে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক শেরপুরে শহীদ পরিবারের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎ ট্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছো তুমি মেঘবন্দি কুলাউড়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার লাল সবুজের দেশ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে আছে যারা? উত্তরখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল  চালকের বেদনা বৃষ্টি হয়ে ঝরে ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, মামা-ভাগ্নির মৃত্যু আষাঢ় আকাশ ছোঁয়া বর্ষামুখ জনবল নেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সাদা কালো সময় পোকার টুর্নামেন্ট নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন নেইমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানে অস্ত্র ও কার্তুজসহ ডাকাত গ্রেপ্তার অধ্যাপক আবদুল করিম: অনন্য মনীষা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান দেবেন না: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতার জন্য মানুষই বেশি দায়ী নিরাপদ ও বহিরাগতমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ দিল্লির রাজপথ থেকে লোকসভায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

কোরআন লিপিবদ্ধকরণের ইতিহাস

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
কোরআন লিপিবদ্ধকরণের ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম পর্যায়–রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ: কোরআন সংকলনের ইতিহাস শুরু হয় স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই। অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত–কোরআনের যেকোনো অংশ নাজিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাসুল (সা.) তা লিখিয়ে রাখতেন। এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সাহাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন–তাদের বলা হতো কাতিবুল ওহি বা ওহির লেখক। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.), যার উপাধি ছিল কাতিবুন নাবি। 

ইমাম বুখারি (রহ.) ফাজাইলুল কোরআন অধ্যায়ে এ বিষয়ে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। প্রথম হাদিসে–আবু বকর (রা.) জায়েদকে (রা.) বলছেন–তুমি তো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে ওহি লিপিবদ্ধ করতে। দ্বিতীয় হাদিসে–সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নাজিলের সময় রাসুল (সা.) নিজে বলছেন–আমার কাছে জায়েদকে ডাকো, সে যেন লওহ (ফলক), দোয়াত ও কাঁধের হাড় (কাতিফ) ও দোয়াত নিয়ে আসে। (বুখারি, ৪৯৯০)

শুধু মাদানি জীবনেই নয়, মাক্কি জীবনেও ওহি লেখানোর ব্যবস্থা ছিল। মক্কার ওহি লেখকদের একজন ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ এবং চার খলিফাও এই কাজ করতেন। এর একটি বড় প্রমাণ হলো–উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের দিন তার বোনের কাছে সুরা ত্বহার আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছিলেন।

মাক্কি ও মাদানি উভয় জীবনে যারা ওহি লিখতেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন–১. জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.), ২. খালিদ ইবনে সাইদ (রা.), ৩. হানজালাহ ইবনুর রাবি (রা.), ৪. মুআইকিব ইবনে আবি ফাতিমা (রা.), ৫. আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম (রা.), ৬. শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ (রা.), ৭. আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.), ৮. মুআবিয়া ইবনে আবি সুফইয়ান (রা.), ৯. উবাই ইবনে কাব (রা.), ১০. খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) ও ১১. সাবিত ইবনে কায়স (রা.) প্রমুখ। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮৩)

যারা হাফেজ ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চার খলিফা, তালহা (রা.), সালেম (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.), হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), মুআবিয়া (রা.), হজরত আয়েশা (রা.), হাফসা (রা.) ও উম্মু সালামা (রা.)-সহ আরও অনেকে।

কাতিবরা রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনায় আয়াতগুলোকে বিভিন্ন সুরার আওতায় বিন্যস্তও করতেন। আয়াতের ধারাবাহিকতা নির্ধারিত হতো আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জিবরাইল (আ.)-এর পরামর্শের ভিত্তিতে।

উসমান ইবনে আবিল আস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসে ছিলাম। হঠাৎ তিনি দৃষ্টি ওপরে তুললেন, তারপর তা নামিয়ে আনলেন–এমনকি প্রায় মাটির সঙ্গে লাগিয়ে ফেলার উপক্রম হলো। এরপর আবার দৃষ্টি তুলে বললেন, আমার কাছে জিবরাইল এসেছিলেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, এই আয়াতটি (নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান ও আত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন... (সুরা আন-নাহল, ৯০) যেন এই সুরার এই জায়গায় স্থাপন করি। (মুসনাদ আহমাদ, ১৭৯১৮)

সব আলেম একমত, আয়াতের ধারাবাহিকতা এবং সুরাগুলোর ধারাবাহিকতাও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার আলোকে সম্পূর্ণ ওহির নির্দেশনায় নির্ধারিত। (মাবাহিস ফি উলুমিল কোরআন, ৭০)

অনেক কাতিবে অহি নিজেদের জন্য আলাদা কোরআনের কপি তৈরি করতেন। সাহাবিরাও পঠন-পাঠনের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত অনুলিপি রাখতেন, তবে এগুলো পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তখন ওহি লেখা হতো খেজুরের ডাল, হাড়, কাঠফলক, চামড়া, কাপড় ও স্বচ্ছ পাথরে। পাশাপাশি বহু হাফিজের স্মৃতিতেও পুরো কোরআন সংরক্ষিত ছিল। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ফাতিমা (রা.) হেঁটে এলেন। তার চলার ভঙ্গি যেন রাসুল (সা.)-এরই চলার ভঙ্গি। রাসুল (সা.) বললেন, স্বাগতম, আমার কন্যা! তারপর তাকে নিজের ডানে বা বামে বসালেন এবং চুপিচুপি কিছু বললেন, ফাতিমা কেঁদে ফেললেন। এরপর আবার চুপিচুপি কিছু বললেন, এবার তিনি হেসে উঠলেন...

রাসুলের ইন্তেকালের পর আমি জিজ্ঞেস করলে ফাতিমা (রা.) বললেন, তিনি (রাসুল) আমাকে গোপনে বলেছিলেন, জিবরাইল (আ.) প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে কোরআনের মুআরাদা (পারস্পরিক পাঠ-পুনরাবৃত্তি) করতেন; কিন্তু এ বছর তিনি দুবার করেছেন। আমার মনে হয়, আমার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। এ কথা বলার পর আমি কাঁদলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তুমি জান্নাতের নারীদের অথবা মুমিন নারীদের নেত্রী হবে? এ কথা শুনে আমি হাসলাম। (বুখারি, ৩৬২৪; মুসলিম, ২৪৫০)

তবে রাসুল (সা.) জীবদ্দশায় কোরআন এক জায়গায় একত্র করেননি–কারণ তখনো কোনো আয়াত বা বিধান রহিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তার ওফাতের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যায়, ফলে সংকলনের পথে আর কোনো বাধা রইল না। (মাবাহিস ফি উলুমিল কোরআন, পৃষ্ঠা ৭৩)

 

দ্বিতীয় পর্যায়–আবু বকর (রা.)-এর যুগ: আবু বকর (রা.)-এর যুগে আরবের অনেক গোত্র মুরতাদ হয়ে যায়; অনেকে জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়; কেউ কেউ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল মুসাইলামাতুল কাজ্জাব। আবু বকর (রা.) একবার খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নেতৃত্বে বাহিনী পাঠান। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসাইলামাহ পরাজিত ও নিহত হয়–কিন্তু এই যুদ্ধে ৭০০-এরও বেশি সাহাবি শহিদ হন, যাদের অনেকেই ছিলেন হাফিজুল কোরআন ও ক্বারী। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭১-৭২)

এ পরিস্থিতি দেখে উমর (রা.) আবু বকর (রা.)-এর কাছে কোরআন একত্রীকরণের প্রস্তাব দেন। আবু বকর (রা.) প্রথমে ইতস্তত করলেন—কারণ রাসুল (সা.) এই কাজ করেননি। কিন্তু উমর (রা.)-এর বারংবার বলাতে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তার অন্তর প্রশস্ত করে দিলেন এবং তিনি এই উদ্যোগে রাজি হলেন। পুরো ঘটনাটি স্বয়ং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন। বুখারির ৪৯৮৬ ন‍ম্বর হাদিসে বর্ণনাটি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হলো জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে। আবু বকর (রা.) নিজেই কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন–তুমি বুদ্ধিমান যুবক, তোমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তুমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলেই ওহি লিপিবদ্ধ করতে। সংকলনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করে দেওয়া হলো। উমর (রা.) ও জায়েদ (রা.)-কে বলা হলো, তোমরা মসজিদের দরজায় বসো। কেউ আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশ দুজন সাক্ষীসহ নিয়ে এলে তোমরা তা লিপিবদ্ধ করবে। (আল-ইতকান ফি উলুমিল কোরআন, ১/১০০)

এই নির্দেশনার আলোকে জায়েদ (রা.) পুরো এক বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংকলনের কাজ সম্পন্ন করলেন। তার সংকলনপদ্ধতির মূল ভিত্তি ছিল দুটি–শুধু লিখিত রূপে থাকলেই তা গ্রহণ করা হবে না, হাফিজদের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া; আবার শুধু মুখস্থের ওপরও নির্ভর না করে কমপক্ষে দুজনের কাছে লিখিত অবস্থায় পাওয়া না গেলে গ্রহণ না করা। রাসুল (সা.)-এর আমলে কোরআন লিপিবদ্ধ হয়েছিল–ফলক, হাড়, খেজুরের ডাল, কাপড় ও পাথরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে এক জায়গায় সংরক্ষিত ছিল না। আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুসারে লিখিত কোরআনকে সাজিয়ে সেই একত্রে গেঁথে দিলেন। একত্রিতকরণ করা হলো পবিত্র কোরআন।

সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একমত–এই সংকলন হলো সেটিই, যা জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-এর জীবনের শেষ বছরে তার সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।

সংকলিত একত্রিত কোরআনের কপি আবু বকর (রা.)-এর কাছে ছিল। তার মৃত্যুর পর তা উমর (রা.)-এর কাছে, আর উমর (রা.) মৃত্যুর পর তা উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-এর কাছে সংরক্ষিত থাকে। (বুখারি, ৪৯৮৬)

 তৃতীয় পর্যায়–উসমান (রা.)-এর যুগ: বিশিষ্ট সাহাবি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়াভিযানে অংশ নিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন–সিরিয়াবাসী কোরআন তেলাওয়াত করছে উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর কিরাত অনুযায়ী, ইরাকবাসী তেলাওয়াত করছে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কিরাত অনুযায়ী এবং এক দল অন্য দলকে ভুল বলছে। তিনি বললেন, কুফাবাসী বলে ইবনে মাসউদের কিরাত সঠিক, বাসরাবাসী বলে আবু মুসার কিরাত সঠিক। আল্লাহর শপথ! আমি আমিরুল মুমিনিনের কাছে এগুলো জানাব। মদিনায় ফিরে তিনি উসমানকে (রা.) বললেন, ইয়াহুদ ও নাসারাদের মতো নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদে পড়ার আগেই আপনি এই উম্মাহকে সামলান। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭৮)। শুধু বাইরে নয়, মদিনায়ও উসমান (রা.) নিজে এই মতভেদ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। একবার মসজিদে খুতবা দিতে গিয়ে তিনি বললেন–তোমরা আমার সামনেই মতভেদ করো, না জানি দূরে যারা আছে তারা কী করে! (ফাতহুল বারী, ৮/৬৭৯)। উসমান (রা.) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিলেন। মুহাজির ও আনসারি সাহাবিদের একত্রিত করলেন–যাদের অন্যতম ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো–হাফসা (রা.)-এর কাছে থাকা কোরআনের কপিটির অনুলিপি তৈরি করে বিশুদ্ধ কপি সারা খিলাফতে ছড়িয়ে দিতে হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাফসা (রা.)-এর কাছে দূত পাঠিয়ে জানানো হলো–অনুলিপি তৈরি করার পর মূল কপি আপনার কাছে আবার ফেরত পাঠানো হবে। হাফসা (রা.) রাজি হলেন। এরপর উসমান (রা.) চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেন–জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন–আনসারি আর আবদুল্লাহ ইবনুজ জুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস ও আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম (রা.) তিনজনই ছিলেন কুরাইশি। নির্দেশনা দেওয়া হলো–কোনো শব্দের আরবিত্বে মতভেদ হলে কুরাইশি উচ্চারণকে প্রাধান্য দিতে হবে, কারণ কোরআন তাদের ভাষায় নাজিল হয়েছে। (বুখারি, ৪৯৮৭)। ২৫ হিজরিতে কমিটির কাজ শুরু হলো। চারজনই ছিলেন হাফেজে কোরআন। তারা হাফসা (রা.)-এর কাছে থাকা কোরআনের মূল কপির ভিত্তিতে কয়েকটি অনুলিপি প্রস্তুত করলেন। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮০-৮১)

উসমান (রা.)-এর সংকলনে আয়াত বা সুরার ধারাবাহিকতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ইবনে জুবায়ের (রা.) জিজ্ঞেস করলেন–সুরা বাকারার ২৪০ নম্বর আয়াত তো ২৩৪ নম্বর আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়ে গেছে—তবু কেন রাখছেন? উসমান (রা.) বললেন, ভাতিজা, আমি কোরআনের কোনো কিছু তার স্থান থেকে পরিবর্তন করতে পারি না। (বুখারি, ৪৫৩০)। এই জবাব থেকে স্পষ্ট–কোনো আয়াত বাদ দেওয়া তো দূরের কথা, কোনো আয়াতের স্থানও পরিবর্তন করা হয়নি।

কাজ শেষে মূল নুসখা হাফসা (রা.)-এর কাছে ফেরত পাঠানো হলো। আর অনুলিপিকৃত মুসহাফগুলো পাঠানো হলো বিভিন্ন প্রদেশে। প্রেরিত মুসহাফের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের মতে চারটি অনুলিপি তৈরি করা হয়েছিল, আর সেগুলো যথাক্রমে মদিনা, সিরিয়া, কুফা ও বাসরায় পাঠানো হয়েছিল। কারও মতে পাঁচটি–ওপরের চারটির সঙ্গে মক্কায় আরেকটি। কারও মতে ছয়টি–পঞ্চমটির সঙ্গে বাহরাইনেও একটি পাঠানো হয়েছিল। কারও মতে সাতটি–ষষ্ঠটির সঙ্গে ইয়ামানেও একটি পাঠানোর হয়েছিল। আবার কারও মতে আটটি এবং অষ্টম কপিটি উসমান (রা.) নিজের কাছে রেখেছিলেন, শাহাদাতের সময় তিনি সেটিই তেলাওয়াত করছিলেন। (আদওয়াউল বায়ান ফী তারীখিল কোরআন, ৭৭)

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রতিটি মুসহাফের সঙ্গে একজন করে কারীও পাঠানো হলো–আবদুল্লাহ ইবনে সাইবকে মক্কায়, আল-মুগিরা ইবনু শিহাবকে সিরিয়ায়, আবু আবদিল্লাহ আস-সুলামি কুফায়, আমির ইবনু কায়স বাসরায় এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন মদিনায়।

রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশুদ্ধতম কপি তৈরির পর ব্যক্তিগত কপিগুলো বহাল রাখলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কার কথা চিন্তা করে উসমান (রা.) নির্দেশ দিলেন–মদিনা থেকে প্রেরিত মুসহাফ ছাড়া বাকি সব কপি সম্মানের সঙ্গে জ্বালিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। (বুখারি, ৪৯৮৭)

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) লিখেছেন, কোরআনের বিক্ষিপ্ত কপিগুলো জ্বালানোর আগে কপিগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়েছিল। (ফাতহুল বারী, ৮/৬৮২) এই পুরো সিদ্ধান্ত সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। (আত-তারিখুস সগির, ১/৯৪)

আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর সংকলনের মাঝে কোনো পার্থক্য ছিল না। আবু বকর (রা.) সংকলন করেছিলেন–কারণ হাফেজদের তিরোধানে কোরআনের অংশবিশেষ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর উসমান (রা.) সংকলন করলেন–কারণ বিভিন্ন উপভাষায় তেলাওয়াতের কারণে পাঠপদ্ধতিতে মতভেদ তৈরি হচ্ছিল এবং উম্মাহর মাঝে বিভেদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। (ফাতহুল বারী, ৯/১৮)। আবু বকর (রা.)-এর সংকলন বোঝাতে সহিফা এবং উসমান (রা.)-এর সংকলন বোঝাতে মুসহাফ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সহিফা অর্থ ক্ষুদ্র পুস্তিকা, একত্রিত। আর মুসহাফ অর্থ দুই মলাটের মাঝে বাঁধাইকৃত পুস্তক। 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

২৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪৯ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (২৫ জুলাই):

.০১ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

টাকা বাড়ছে, কিন্তু শান্তি কেন বাড়ছে না?

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
টাকা বাড়ছে, কিন্তু শান্তি কেন বাড়ছে না?
ছবি: সংগৃহীত

একই শহরে বসবাস করেন দুই ব্যক্তি একজনের মাসিক আয় লাখ টাকার ওপরে, তবু মাস শেষে ঋণ, দুশ্চিন্তা আর অশান্তি তার নিত্যসঙ্গী অন্যদিকে আরেকজনের আয় তুলনামূলক কম, কিন্তু তার সংসারে আছে তৃপ্তি, সন্তানের মুখে হাসি আর হৃদয়ে প্রশান্তি প্রশ্ন হলো–দুজনের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?

ইসলাম এই রহস্যের উত্তর দিয়েছে মাত্র দুটি শব্দে–রিজিক এবং বারাকাহ

রিজিক হলো আল্লাহর দেওয়া দৃশ্যমান নিয়ামত এটি হতে পারে অর্থ-সম্পদ, খাদ্য, সন্তান, স্বাস্থ্য কিংবা জ্ঞান পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিসাবের বাইরে রিজিক দান করেন (সুরা আলে ইমরান: ২৭)

অন্যদিকে বারাকাহ হলো সেই রিজিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য কল্যাণ, যা অল্প জিনিসকেও অনেক উপকারী স্থায়ী করে তোলে অর্থাৎ রিজিক হলো সম্পদের পরিমাণ, আর বারাকাহ হলো তার গুণগত মান

কারণেই দেখা যায়, কেউ লাখ টাকা আয় করেও মাস শেষে শূন্য হাতে থাকেন চিকিৎসা, অশান্তি কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচে সব শেষ হয়ে যায় আবার কেউ অল্প আয়ে সংসার চালান, সঞ্চয়ও করেন, দান-সদকা করেন এবং সুখে-শান্তিতে জীবন কাটান প্রথম জনের রিজিক বেশি, কিন্তু বারাকাহ কম দ্বিতীয় জনের রিজিক কম হলেও তাতে আল্লাহর বারাকাহ রয়েছে

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শুধু রিজিক বৃদ্ধির নয়, বরং বারাকাহ লাভেরও এক অপূর্ব সুন্নাহ শিখিয়েছেন মৌসুমের প্রথম ফল হাতে পেলে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের ফলে বরকত দান করুন, আমাদের শহরে বরকত দান করুন এর পর সেই ফল উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুটির হাতে তুলে দিতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৭৩)

আসলে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় চাওয়া হওয়া উচিত শুধু বেশি পাওয়া নয়, বরং যা পেয়েছে তাতে আল্লাহর বরকত লাভ করা কারণ, রিজিক মানুষকে ধনী বানায়, কিন্তু বারাকাহ মানুষকে সুখী বানায় আর যে হৃদয়ে তৃপ্তি আছে, সেই মানুষই প্রকৃত অর্থে সবচেয়ে বড় ধনী

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

গোপনে বিয়ে কি আদৌ বৈধ? জানুন শরিয়তের স্পষ্ট বার্তা

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
গোপনে বিয়ে কি আদৌ বৈধ? জানুন শরিয়তের স্পষ্ট বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে সিক্রেট ম্যারিজ যেন এক অদ্ভুত ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা সাময়িক ঝামেলার অজুহাতে অনেকেই আজকাল পরিবার ও সমাজকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে পা বাড়াচ্ছেন বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু এই গোপনীয়তা কি সম্পর্কের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করছে, নাকি টেনে আনছে জটিল সামাজিক ও ধর্মীয় সংশয়? আধুনিক সমাজের এই চরম বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে—ইসলামের দৃষ্টিতে গোপনে বিয়ে কি আদৌ বৈধ, নাকি অপছন্দনীয়?

ইসলামি আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদি কোনো বিয়েতে দুজন যোগ্য সাক্ষী না থাকে এবং বর-কনে গোপনে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করেন, তবে সেই বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল ও অবৈধ। এটিকে ইসলামে বিয়ে নয়, বরং অনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (সম্পূর্ণ) হয় না। (বায়হাকি, ১৪৭৩৯)

যদি দুইজন উপযুক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে আকদ সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে তা প্রকাশে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে তা বৈধ। তবে বিয়ের সময় সাক্ষীদের যদি ‘কাউকে না জানানোর শর্ত’ দেওয়া হয়, তবে সেটির বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মাঝে দুটি শক্তিশালী মত রয়েছে-

অধিকাংশ ফকীহের মত: সাক্ষী থাকলে বিয়ে মূলত আদায় হয়ে যায়, তবে গোপন রাখার শর্ত দেওয়া অত্যন্ত অপছন্দনীয় তথা মাকরুহ।

ইমাম মালিক (রহ.) ও একদল আলেমের মত: গোপন রাখার শর্ত দেওয়ার মাধ্যমে সাক্ষী রাখার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। তাই এমন বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়।

কেন বিয়ের খবর প্রচার আবশ্যক?

ইসলাম বিয়েকে শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত চুক্তি হিসেবে দেখে না, বরং একে সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যম মনে করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা এই বিয়ে প্রকাশ করো। (মুসনাদ আহমদ)

পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রূমে বিয়েকে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার প্রতীক বলা হয়েছে। যে সম্পর্কে সারাক্ষণ সমাজে প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয় থাকে, তা কখনো দম্পতিকে প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে না।

গোপন বিয়ে পরবর্তীতে নানা পারিবারিক কলহ, দেনমোহর ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং সামাজিক অপবাদের জন্ম দেয়।

পরিশেষে, সাক্ষী ছাড়া গোপন বিয়ে ইসলামে পুরোপুরি অবৈধ। আর সাক্ষী রেখে গোপন করা হলেও তা সংশয়পূর্ণ ও নিরুৎসাহিত। নিজের সম্মান, দ্বীনের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক স্থায়িত্বের জন্য বিয়েকে আনন্দের সাথে সামাজিকভাবে প্রচার করাই মুমিনের আসল পরিচয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

দুই গোপন বিয়ে নিয়ে উমর (রা.)-এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
দুই গোপন বিয়ে নিয়ে উমর (রা.)-এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুট করে সিক্রেট ম্যারিজ বা গোপন বিয়ের খবর যেন এক নিয়মিত ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার অজুহাতে অনেকেই আজকাল পরিবার ও সমাজকে না জানিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। কিন্তু এই গোপনীয়তা কি সত্যিই জীবনকে সহজ করছে, নাকি টেনে আনছে অপবাদ, আইনি জটিলতা আর সামাজিক অস্থিরতা?

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগেই এই গোপন বিয়ের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে কঠোর বার্তা দিয়ে গেছেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.)। ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় বন্ধন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখা এবং সম্মানজনক করার জন্য অন্যতম পূর্বশর্ত হলো—যথাযথ সাক্ষী এবং বিয়ের সামাজিক প্রচার বা ঘোষণা।

হযরত উমর (রা.)-এর শাসনকালের দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, গোপন বিয়ে কীভাবে মানুষের সম্মান হানি করে এবং সমাজের চোখে অপরাধের সুযোগ তৈরি করে।

১. অপবাদ থেকে বাঁচতে বিয়ের সার্বজনীন প্রচার জরুরি

ইসলামি ইতিহাসের প্রখ্যাত তাবেয়ী হাসান আল বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়—এক ব্যক্তি গোপনে এক নারীকে বিয়ে করেন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টির সামাজিক কোনো ঘোষণা না থাকায় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একদিন এক ব্যক্তি তাকে ওই নারীর ঘর থেকে বের হতে দেখে সরাসরি ব্যভিচারের অপবাদ দেয়।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে খলিফা হযরত উমর (রা.) ওই পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। লোকটির উত্তর ছিল, আমি সামান্য কিছু মোহরের বিনিময়ে এই নারীকে বিয়ে করেছি এবং বিষয়টি গোপন রেখেছি। খলিফা যখন সাক্ষীর কথা জানতে চাইলেন, তখন তিনি জানান যে কনের পরিবারের কিছু লোক এই বিয়েতে সাক্ষী ছিলেন। অর্থাৎ, শরীয়তের দৃষ্টিতে বিয়েটি বাতিল না হলেও, তা গোপন রাখার কারণে সমাজের চোখে অনৈতিক কাজের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হযরত উমর (রা.) অপবাদদাতার শাস্তি মওকুফ করেন এবং ওই পুরুষকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তোমরা এই বিয়ের ঘোষণা ও প্রকাশ প্রচার করো; এবং এর মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করো। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ)। বিয়ে গোপন রাখলে নিজের চরিত্র ও সম্মান দুটোই হুমকির মুখে পড়ে। বিয়ের প্রচার মূলত একজন দম্পতির সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।

২. অস্বচ্ছ ও গোপন বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

দ্বিতীয় ঘটনাটি আরও সতর্কতামূলক। ইমাম মালেক (রহ.)-এর সূত্রে জানা যায়, হযরত উমর (রা.)-এর কাছে এমন একটি বিয়ের খবর আসে, যেখানে সাক্ষী ছিলেন মাত্র একজন পুরুষ ও একজন নারী! বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল এবং এতে শরীয়তসম্মত পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্যও ছিল না। (ইসলামি বিধান অনুযায়ী বিয়ের আকদ সম্পন্ন হতে অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী থাকা বাধ্যতামূলক)। এই ঘটনাটি জানার পর খলিফা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ গোপন বিয়ে এবং আমি এর কোনো অনুমতি দিই না। আমি যদি এই বিয়ের বিষয়ে আগে জানতে পারতাম (বা কার্যকর অবস্থায় পেতাম), তবে অবশ্যই তাদের ওপর কঠোর আইনি শাস্তি প্রয়োগ করতাম। (মুয়াত্তা মালেক)

আজকের যুগেও যেসব বিয়ে গোপন রাখা হয়, পরবর্তীতে দেখা যায়, সামাজিকভাবে প্রকাশ না থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ ও কটু কথা শুনতে হয়। দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার আদায়ে আইনি বাধা তৈরি হয়। ধরা পড়ার ভয় এবং মিথ্যা লুকোচুরির কারণে সম্পর্কে স্থায়ী টানাপোড়েন তৈরি হয়।

হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালের এই দুটি ঘটনা প্রমাণ করে—পবিত্র সম্পর্ককে গোপনে রেখে কলঙ্কিত করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বিয়ে কোনো আড়ালের বিষয় নয়, বরং এটি আনন্দ ও উৎসবের মাধ্যমে সমাজকে জানিয়ে দেওয়ার বিষয়। সম্পর্কের স্বচ্ছতা, আত্মসম্মান রক্ষা এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে বিয়ের প্রকাশ ও প্রচারের বিকল্প নেই।

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (২৪ জুলাই)

৪.০১ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন