সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করেন।
একই সঙ্গে চুরি-ছিনতাই, হলে মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে যাওয়া এবং রাতের বেলায় মাদকসেবন ও মাদক-সংক্রান্ত তৎপরতার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। অন্যদিকে, বিভিন্ন স্থানে ভাসমান দোকানের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। উৎসব বা বিশেষ দিবসে বহিরাগতদের অতিরিক্ত উপস্থিতি নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই এবং নিরাপত্তা তদারকি আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের কিছু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি দীর্ঘদিনের। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসি ও কার্জন হলসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল এবং পর্যাপ্ত নজরদারি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ ভাসমান দোকান অপসারণ এবং ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয় সবার কাছে উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার স্থান হলেও এর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাসের মর্যাদা রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।
আনিকা বিনতে আজিজ
ইসলামিক স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]