জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদে গরমিল, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চিফ মেডিকেল অফিসারকে (সিএমও) অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওষুধের অসংগতি খতিয়ে দেখতে ও জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে সিএমওকে নিজ কক্ষে তালাবদ্ধ করা হয়। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে ও চিকিৎসা কেন্দ্র উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
এর আগে, সকাল থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (জাকসু) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি দল মেডিকেল সেন্টারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
অবস্থানকালে জাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সিএমওর নিকট নানা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ব্যাখ্যা চাইতে এলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার অফিসের দরজায় কোনো নেমপ্লেট পর্যন্ত নেই, একটি গোপন কক্ষে বসে তিনি কার্যক্রম চালান যেন শিক্ষার্থীরা তার সেবা না পায়। এখানে লাখ লাখ টাকার ওষুধ চুরির প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’
তিনি আরও জানান, কেবল সিএমওর অপসারণ নয়, পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রের আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
চিকিৎসাকেন্দ্রের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া; ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ দেওয়া; অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অতিরিক্ত ১০টি কক্ষ বৃদ্ধি ও অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন করা; নতুন ২টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা; মেডিকেল সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে পদায়ন করা।
দাবি আদায় না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো মেডিকেল সেন্টার তালাবদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আমান/এএফ