ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ববিতার জন্মদিনে আসছে ‘আওয়ার ড্রিম গার্ল’ দেশজুড়ে গ্যাস বিপর্যয়: চুলায় আগুন নেই, সিএনজিতে দীর্ঘ লাইন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন, সরকারের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে ভ্রমণের সুবিধা পেলেন বাংলাদেশিরা শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা গেল শিক্ষিকার স্বামীর নম্বরে, তারপর... কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু ইউক্রেন-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৭ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক চুক্তি, বললেন ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন বিকাশ পার্টনার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল হুয়াওয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণ লুটপাটের নতুন কৌশল: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল এশিয়ান গেমসে কঠিন গ্রুপে ঋতুপর্ণারা সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কাজী কায়কোবাদ গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা, সোনারগাঁয় বন্ধ ১৮ ফিলিং স্টেশন শেষটা রঙিন হলো না বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, সিদ্ধান্ত শুক্রবার? দুটি গাছ থেকে বিশ্ববাজার—দিনাজপুরের আনছার আলীর অনন্য সাফল্য সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদযাপন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: গোলাম পরওয়ার কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন: সাংস্কৃতিক কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা ফ্যান্টাসি কিংডম-খবরের কাগজ অনলাইন কুইজের ড্র অনুষ্ঠিত জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-৩ হলেন মোবাইদুর ইসলাম গোপালগঞ্জের সেই বিচারককে প্রত্যাহার কেন রাজপথে জেন-জি? জানালেন পাঁচ আন্দোলনকারী প্রতারণা করে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ আসামি রিমান্ডে ইসরায়েল থেকে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কিনছে গ্রিস সিলেটে বিপৎসীমার ওপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

জাবিতে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ মজুদে গরমিল, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
জাবিতে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ মজুদে গরমিল, তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদে গরমিল, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চিফ মেডিকেল অফিসারকে (সিএমও) অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওষুধের অসংগতি খতিয়ে দেখতে ও জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে সিএমওকে নিজ কক্ষে তালাবদ্ধ করা হয়। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে ও চিকিৎসা কেন্দ্র উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।

এর আগে, সকাল থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (জাকসু) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি দল মেডিকেল সেন্টারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

অবস্থানকালে জাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সিএমওর নিকট নানা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ব্যাখ্যা চাইতে এলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার অফিসের দরজায় কোনো নেমপ্লেট পর্যন্ত নেই, একটি গোপন কক্ষে বসে তিনি কার্যক্রম চালান যেন শিক্ষার্থীরা তার সেবা না পায়। এখানে লাখ লাখ টাকার ওষুধ চুরির প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’

তিনি আরও জানান, কেবল সিএমওর অপসারণ নয়, পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রের আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

চিকিৎসাকেন্দ্রের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া; ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ দেওয়া; অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অতিরিক্ত ১০টি কক্ষ বৃদ্ধি ও অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন করা; নতুন ২টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা; মেডিকেল সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে পদায়ন করা।

দাবি আদায় না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো মেডিকেল সেন্টার তালাবদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আমান/এএফ

জবিতে শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগে বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
জবিতে শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগে বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. শের আলী। ছবি: সংগৃহীত

এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও তার হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা মো. শের আলীর বিরুেদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য মো. শের আলীকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এর আগে জগন্নাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসানান আল আবিত (সাবায়েত) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে তার ছোট ভাই, হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে অবস্থানকালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শের আলী ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বাঁধন মোটরসাইকেলে এসে কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব বলে মারধর শুরু করেন।

এসময় শের আলী পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। হামলার সময় তার হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাকেও আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় শের আলীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক তরুণ ও এক তরুণীকে দেখে পরিচয় জানতে চাইলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তিনিই হামলার শিকার হন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। উভয় পক্ষের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে বহিষ্কৃত শের আলী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মুজাহিদ বিল্লাহ/এএফ

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিএমও দায়িত্ব থেকে বিরত, শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিএমও দায়িত্ব থেকে বিরত, শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে চিফ মেডিকেল অফিসারকে (সিএমও) অবরুদ্ধ করার পর প্রশাসনের সাথে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওষুধের হিসাবের অনিয়ম, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিএমও ড. শামসুর রহমান তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে মেডিকেল সেন্টারে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন বৈঠকে বসলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রব।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রধান মেডিকেল অফিসারকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল তিনটার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

অবরোধ তুলে নেওয়ার পর জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, "প্রধান মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ওষুধের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।"

তিনি আরও বলেন, "মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।”

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-আগামী সাত দিনের মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ; ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ; মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ১০টি নতুন কক্ষ নির্মাণ, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন; নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু এবং একজন শিক্ষককে মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। 

প্রশাসন দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছে, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান হোসনে মোবারক। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে মেডিকেল সেন্টারের ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা। এ ছাড়া সিএমওর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারেরও অভিযোগ আনেন তাঁরা।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব জানান, "ওষুধের হিসাবে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিএমওর বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।" 

তিনি আরও জানান, শূন্যপদে নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন পদ অনুমোদনের বিষয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, একই দিনে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। একটি আদেশের মাধ্যমে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপর আদেশে চিকিৎসা কেন্দ্র উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশক্রমে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়।

আমানউল্লাহ খান/এসএন

জাবিতে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ মজুদে গরমিল, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
জাবিতে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ মজুদে গরমিল, তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদে গরমিল, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চিফ মেডিকেল অফিসারকে (সিএমও) অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওষুধের অসংগতি খতিয়ে দেখতে ও জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে সিএমওকে নিজ কক্ষে তালাবদ্ধ করা হয়। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে ও চিকিৎসা কেন্দ্র উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।

এর আগে, সকাল থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (জাকসু) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি দল মেডিকেল সেন্টারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

অবস্থানকালে জাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সিএমওর নিকট নানা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ব্যাখ্যা চাইতে এলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার অফিসের দরজায় কোনো নেমপ্লেট পর্যন্ত নেই, একটি গোপন কক্ষে বসে তিনি কার্যক্রম চালান যেন শিক্ষার্থীরা তার সেবা না পায়। এখানে লাখ লাখ টাকার ওষুধ চুরির প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’

তিনি আরও জানান, কেবল সিএমওর অপসারণ নয়, পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রের আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

চিকিৎসাকেন্দ্রের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া; ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ দেওয়া; অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অতিরিক্ত ১০টি কক্ষ বৃদ্ধি ও অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন করা; নতুন ২টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা; মেডিকেল সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে পদায়ন করা।

দাবি আদায় না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো মেডিকেল সেন্টার তালাবদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আমান/এএফ

চাঁবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
চাঁবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন (ভিসি) অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‌‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০'-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমানের নিয়োগের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তার অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত— যেটি আগে ঘটবে।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। তবে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য) হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসির নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফয়েজ আহমেদ/এএফ

খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণ, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণ, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিক আসাদুজ্জামানের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনাটি জানতেন তার স্ত্রীও। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।

বুধবার রাতেই যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ছাড়াও তারা যৌন হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।’

অমিয়/