ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ববিতার জন্মদিনে আসছে ‘আওয়ার ড্রিম গার্ল’ দেশজুড়ে গ্যাস বিপর্যয়: চুলায় আগুন নেই, সিএনজিতে দীর্ঘ লাইন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন, সরকারের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে ভ্রমণের সুবিধা পেলেন বাংলাদেশিরা শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা গেল শিক্ষিকার স্বামীর নম্বরে, তারপর... কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু ইউক্রেন-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৭ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক চুক্তি, বললেন ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন বিকাশ পার্টনার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল হুয়াওয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণ লুটপাটের নতুন কৌশল: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল এশিয়ান গেমসে কঠিন গ্রুপে ঋতুপর্ণারা সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কাজী কায়কোবাদ গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা, সোনারগাঁয় বন্ধ ১৮ ফিলিং স্টেশন শেষটা রঙিন হলো না বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, সিদ্ধান্ত শুক্রবার? দুটি গাছ থেকে বিশ্ববাজার—দিনাজপুরের আনছার আলীর অনন্য সাফল্য সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদযাপন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: গোলাম পরওয়ার কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন: সাংস্কৃতিক কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা ফ্যান্টাসি কিংডম-খবরের কাগজ অনলাইন কুইজের ড্র অনুষ্ঠিত জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-৩ হলেন মোবাইদুর ইসলাম গোপালগঞ্জের সেই বিচারককে প্রত্যাহার কেন রাজপথে জেন-জি? জানালেন পাঁচ আন্দোলনকারী প্রতারণা করে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ আসামি রিমান্ডে ইসরায়েল থেকে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কিনছে গ্রিস সিলেটে বিপৎসীমার ওপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় অগ্নিদগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মাহমুদুল হক (৪০)। এই পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত মাহমুদুল হক পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার মৃত খায়ের আহমদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারান। এখন স্বামীও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাদের দুই বছর বয়সি একটি শিশু রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদ উল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৬ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫) এবং ১৯ জুলাই বিকেলে নুর নবী হৃদয় (২৫) ও উজ্জ্বল দাশ (৫৩) মারা যান।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স লবণ কারখানায় একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কারখানাটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আহত বাকি পাঁচজনের চিকিৎসা চলছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/ এএফ

কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় অগ্নিদগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মাহমুদুল হক (৪০)। এই পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত মাহমুদুল হক পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার মৃত খায়ের আহমদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারান। এখন স্বামীও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাদের দুই বছর বয়সি একটি শিশু রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদ উল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৬ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫) এবং ১৯ জুলাই বিকেলে নুর নবী হৃদয় (২৫) ও উজ্জ্বল দাশ (৫৩) মারা যান।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স লবণ কারখানায় একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কারখানাটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আহত বাকি পাঁচজনের চিকিৎসা চলছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/ এএফ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন
গ্যাস নিতে আসা সিএনজিচালিত আটোরিকশার দীর্ঘ লাইন। ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট ও চরম নিম্নচাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকেই স্টেশনগুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই চিত্র দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এই স্টেশনগুলোর জন্য প্রতিদিন মোট ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস বরাদ্দ থাকলেও বাস্তব চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি।

গ্যাস সরবরাহে চাপের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সাধারণত ফিলিং স্টেশনগুলোতে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই (PSI) চাপে গ্যাস সরবরাহের নিয়ম থাকলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। কোনো কোনো সময় তা শূন্যে নেমে আসছে। ফলে যানবাহনগুলো পরিমিত গ্যাস নিতে পারছে না। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় দিনে বহুবার স্টেশনগুলোর রিফুয়েলিং মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ভোগান্তির বিবরণ দিয়ে ইয়াছিন নামে এক অটোরিকশা চালক জানান, ‘দুপুর ১২টার দিকে সোপান ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ৩টায় গ্যাস পেয়েছি। কিন্তু চাপ না থাকায় মাত্র ১৫৫ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছি, যা দিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়।’

আক্কাস মিয়া নামের এক চালক বলেন, ‘রাত বা ভোরের দিকে সামান্য গ্যাস মিললেও দিনের বেলায় একদম চাপ থাকে না। এক সপ্তাহ ধরে ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে দিন কেটে যাচ্ছে। যা গ্যাস পাই, তাতে দুটো ট্রিপ দিতেই শেষ। ইনকাম বলতে গেলে বন্ধ হওয়ার পথে।’

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাইলের সোপান ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী গোলাম রব্বানি জানান, ‘গ্যাসের চাপ শূন্য থেকে ২ পিএসআইয়ের মধ্যে ওঠানামা করায় চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সড়কগুলোতে দিন দিন যানবাহনের লাইন লম্বা হচ্ছে।’

গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা সরবরাহ বাড়াতে পারছি না। মূলত এলএনজি (LNG) আমদানিতে চলমান সংকটের কারণেই সারা দেশের মতো এখানেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

এলএনজি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে এ ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

আজিজুল সঞ্চয়/এএফ

গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা, সোনারগাঁয় বন্ধ ১৮ ফিলিং স্টেশন

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা, সোনারগাঁয় বন্ধ ১৮ ফিলিং স্টেশন
গ্যাস সংকটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধুমতি পাম্পের চিত্র এটি। ছবি: খবরের কাগজ

মহেশখালী গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির জেরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ গ্যাস সংকট। এর প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে থাকা ২০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৮টিই বন্ধ হয়ে পড়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত পরিসরে গ্যাস মেলায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। একই সাথে থমকে গেছে পরিবহন শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জানা গেছে, মাত্র দুটি পাম্প চালু থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে থেকে চালকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় একবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, যা দিয়ে পরিবার চালানোই এখন কষ্টকর।

অন্যদিকে পাম্পে গ্যাস না পেয়ে মহাসড়কে যানবাহন কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি সময় ও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

এ বিষয়ে স্থানীয় তিতাস গ্যাস কার্যালয় জানায়, মহেশখালী টার্মিনালে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সাময়িকভাবে সারা দেশেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

রতনদী এলাকায় মধুমতি ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। যে সব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও চাপ খুবই কম থাকায় দ্রুত গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একাধিক সিএনজি চালিত গাড়ির চালক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের বড় একটা সময় পাম্পেই কাটছে, যা তাদের স্বাভাবিক আয় ব্যাহত করছে।

পিরোজপুরে শুকতারা পাম্পে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক সালাম জানান, লাইনে দিয়া দাঁড়াতে গেলাম। দেখি বিশাল সিরিয়াল। কিছুক্ষণ পর পাম্প এমনিই বন্ধ হবে। বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়াই এখন বাড়িতে চলে গেলাম।

ইউসুফ আলী নামের এক চালক বলেন, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধাবেলা গাড়ি চালানো যাচ্ছে না।

সিএনজি পাম্পের কর্মী সোহেল রানা বলেন, পাম্পে সারাদিন কমপ্রেশার মেশিন চালিয়েও প্রেশার উঠছে না। এছাড়া লাইনে গ্যাসই নাই। এ কারণেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মেঘনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, সারা দেশে গ্যাস সংকট। আমাদের মহেশখালির একটি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ সংকট। কাজ চলছে, আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

ইমরান হোসেন/এএফ 

দুটি গাছ থেকে বিশ্ববাজার—দিনাজপুরের আনছার আলীর অনন্য সাফল্য

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
দুটি গাছ থেকে বিশ্ববাজার—দিনাজপুরের আনছার আলীর অনন্য সাফল্য
ছবি: খবরের কাগজ

এক কেজি আমের দাম ৭৫০ টাকা। দাম শুনে আম না কিনে উল্টো নিজেই আমবাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষক আনছার আলী। সেই সিদ্ধান্তই যেন বদলে দিয়েছে তার জীবনের গল্প। মাত্র দুটি গাছ দিয়ে শুরু করা সেই উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক আমবাগানে। দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ জাতের আম চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন তিনি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তার বাগানের আম রপ্তানি হয়েছে বিদেশেও। এখন তার লক্ষ্য—বিশ্ববাজারে দিনাজপুরের নিরাপদ ও মানসম্মত আমের পরিচিতি তৈরি করা।

বিরল উপজেলার রাজারামপুর ইউনিয়নে আনছার আলীর গড়ে তোলা আধুনিক আমবাগানটি এখন এলাকার কৃষি উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শে গড়ে ওঠা এ বাগান শুধু আনছার আলীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং নতুন উদ্যোক্তা ও কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ব্যানানা ম্যাংগো কিনতে গিয়ে প্রতি কেজি আমের দাম ৭৫০ টাকা শুনেছিলেন আনছার আলী। এত বেশি দাম দেখে আম না কিনে তিনি ভিন্নভাবে চিন্তা করেন। সিদ্ধান্ত নেন, বিদেশি জাতের এই আমের দুটি গাছ লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করবেন। ফলন ও স্বাদ ভালো হলে গড়ে তুলবেন বাণিজ্যিক বাগান।

সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় তার পথচলা। ২০২১ সালে গাছে প্রথম আম আসে। স্বাদ ও মিষ্টতায় মুগ্ধ হয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে বাগানে রোপণ করেন ৬৫০টি গাছ। ২০২৩ সালে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। আর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তাঁর বাগানের উৎপাদিত আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়।

বর্তমানে আনছার আলীর বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, আর টু ইটু, ক্যাচু ইউ, সূর্যের ডিম, থ্রি টেস্ট, বারি-৪, বারি-৮, বারি-১৩, পালমার, উষা ও নীমসহ প্রায় ৪০ জাতের উচ্চফলনশীল ও সুস্বাদু আম রয়েছে।

বাগানের বিশেষ আকর্ষণ হলো আধুনিক ব্যাগিং পদ্ধতি। গাছ থেকে আম সংগ্রহের আগেই নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রতিটি আম ব্যাগে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমার পাশাপাশি আমের গুণগত মানও ভালো থাকে। নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাগান দেখতে আসা লিটন কুমার রায় বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি আমগুলো ব্যাগের মধ্যে ঝুলছে। বিষয়টি আমার কাছে বেশ ব্যতিক্রম মনে হয়। কৌতূহল থেকে বাগানে ঢুকে আমগুলো দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমারও একটি জমি আছে, সেখানে আমবাগান করার সুযোগ রয়েছে। তাই আনছার আলীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আগামী বছর আমবাগান করার পরিকল্পনা করছি।

স্থানীয় কৃষক বিমল বলেন, “এই বাগানে আম চাষের আধুনিক পদ্ধতি দেখে আমি মুগ্ধ। বিশেষ করে ব্যাগিং পদ্ধতিটি বেশ আকর্ষণীয়। এতে আমের গুণগত মান ভালো থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে। আনছার আলীর উদ্যোগ আমাদের মতো কৃষকদের নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করছে।

কৃষক আনছার আলী বলেন, “২০২০ সালে ব্যানানা ম্যাংগো আম কিনতে গিয়ে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দাম শুনেছিলাম। আমগুলো থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এত বেশি দামে আম না কিনে ভাবলাম, দুটি গাছ লাগিয়ে দেখি। আমের স্বাদ ভালো হলে ভবিষ্যতে নিজেই বাগান করব। সেখান থেকেই আমার ব্যানানা ম্যাংগো চাষের যাত্রা শুরু।

তিনি বলেন, “২০২১ সালে গাছে প্রথম আম আসে। আমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় আমার মনে হয়, আমাদের দেশেও যদি এই জাতের আম উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, তাহলে দেশের জন্যও ভালো হবে। সেই চিন্তা থেকেই ২০২২ সালে ৬৫০টি গাছ রোপণ করি। ২০২৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন শুরু হয়। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আমার বাগানের আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

আনছার আলী আরও বলেন, “বিদেশে রপ্তানির উপযোগী আম উৎপাদনের জন্য আমরা গ্যাপ প্রটোকল অনুসরণ করে চাষাবাদ করছি। রাসায়নিক বালাইনাশক ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়েছি। বাগানে কর্মরত শ্রমিকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি, এ বছরও আমার বাগানের আম দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারব।

বিরল উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজালুর রহমান বলেন, “আনছার আলীর বাগান থেকে প্রতিবছরই বিদেশে আম রপ্তানি করা হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এবারও শুরু থেকেই বাগানের মাটি পরীক্ষা, সারের সঠিক ব্যবহার ও পানির মান পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং গ্যাপ প্রটোকলের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাগানের এমআরএল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়মিত আগাছা দমন ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করা হয়েছে। ফ্রুট ফ্লাই দমনে ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনছার আলীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, তাঁর মতো আরও কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে নিরাপদ আম উৎপাদনে এগিয়ে আসুন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছর দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আম উৎপাদনের আশা করছি। এখনো বিভিন্ন বাগানে আম রয়েছে। চূড়ান্ত উৎপাদনের হিসাব পরে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, “আম উৎপাদনের শুরু থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরই আমচাষির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর দিনাজপুর থেকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি হয়েছে। এতে আমচাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সুলতান মাহমুদ/এসএন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত
নিহত- তানিয়া তাহমিনা রিনা, ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে রিয়াদ থেকে মক্কায় হজে যাওয়া পথে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি একই পরিবারের তিনজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটার দিকে রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫),ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে জারা (১৫)। আহতরা হলেন, স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল। তারা সবাই কিশোরগঞ্জের ভৌরব এলাকার বাসিন্দা।

নিহত তানিয়া তাহমিনা তার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, ‘আমার ফুফাতো বোন, দুলাভাই এবং তাদের তিন ছেলে মেয়েসহ বৃহস্পতিবার সকালে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কা যাচ্ছিল। রিয়াদ থেকে রওনা হয়ে ৩০০ কিলোমিটার যাওয়ার পরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছেন। দুইজন মারাত্মক আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, আমার বোন, দুলাভাই তাদের ছেলে মেয়েসহ পাঁচজন ওমরাহ পালনের জন্য রিয়াদ থেকে মক্কা যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারের পিছন থেকে বড় কোন গাড়ী সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে আমার বোন, ছোট ভাগ্নে ও ভাগ্নি নিহত হয়েছেন। 

আমার ভগ্নিপতি ও আরেক ভাগ্নে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এন কে বি নয়ন /এএফ