প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের গান নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং ঐতিহাসিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স মিউজিক। তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’কে।
গত মঙ্গলবার ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ সারুবিন কর্তৃক এ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক কার্যালয়ে উপস্থিত হন চিরকুট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগীতশিল্পী শারমিন সুলতানা সুমী। এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গান আড্ডায় মেতে ওঠে চিরকুট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স।
সুমী জানান, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয়, সৃজনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চিরকুটের ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই আমন্ত্রণ। গান-আড্ডায় সম্ভাব্য যৌথ কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রতিনিধিরা সুমীর সামনেই চিরকুটের পাঁচ থেকে ছয়টি গান শোনেন এবং ব্যান্ডটির সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। যদিও আগে থেকেই তারা চিরকুটেপ গান নিয়ে নিরীক্ষা করেছিল। তাদের মন্তব্য ছিল, ‘অল অব ইয়োর সংস আর ইউনিক, ইউ আর ভেরি ইউনিক!’
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ সারুবিন চিরকুটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত অঙ্গনের অন্যতম অভিজ্ঞ এঅ্যান্ডআর (আর্টিস্টস অ্যান্ড রিপার্টোয়ার) নির্বাহী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কলাম্বিয়া রেকর্ডস, অ্যারিস্তা রেকর্ডস, আইল্যান্ড ডেফ জ্যাম, ভার্জিন রেকর্ডস এবং সনি/এটিভি মিউজিক পাবলিশিংয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যালবামের বিশ্বব্যাপী বিক্রি ৪ কোটিরও বেশি কপি। লেডি গাগাকে সাইন করার পাশাপাশি লিওনেল রিচি, কার্লোস স্যান্টানা, পিংক, এভরিল ল্যাভিন, জন ম্যাকলাফলিন ও পিক্সি লটসহ বহু আন্তর্জাতিক তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বকীয়তা ও সৃষ্টিশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন জশ সারুবিন। এবার বাংলাদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা চিরকুটের সঙ্গে সম্ভাব্য কোলাবোরেশনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই আমন্ত্রণকে চিরকুটের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সৃষ্টিশীলতা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সুমি। তার বিশ্বাস, এটি আমাদের গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
সুমী বলেন, সারা পৃথিবীর কিংবদন্তি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা এমন মানুষেরা যখন আমন্ত্রণ জানান, তখন সেটি ভীষণ অনুপ্রেরণার এবং সম্মানের। ওই ঐতিহাসিক অফিসে ঢোকার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, সেই খুলনা থেকে, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে আজ আবার বিশ্বসংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা ম্যানহাটনে, শতবর্ষী ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অফিসে দাঁড়িয়ে আছি। ব্যান্ড মেম্বারদের মিস করছিলাম। আমি এবং চিরকুট স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, আমাদের জীবনে এমন আরেকটি সুন্দর দিন দেওয়ার জন্য। আশা করি সামনে ভালো এবং নতুন কিছু অপেক্ষা করছে।
বহু বছর ধরেই ২৪ বছরে পা রাখা চিরকুট তাদের আহারে জীবন, মরে যাব, যাদুর শহর, দুনিয়া, কানামাছি, উধাও, দামির মতো মৌলিক গান নিয়ে ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনসার্ট, আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব, কনফারেন্সসহ সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। নরওয়ে, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের ব্যান্ডদের সঙ্গে কোলাবোরেশনও রয়েছে অনেকগুলো।
বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম, ফুটবল টিমের মতো চিরকুট সংগীতে নিজেদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক অর্জনে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। সুনাম কুড়িয়ে চলেছে। চিরকুটের প্রতি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মতো ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাজের সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে দেশের সুনাম অর্জনের পাশাপাশি অসংখ্য মিউজিশিয়ানসহ চিরকুটের ভক্তদের উৎসাহিত করবে বলে চিরকুটের বিশ্বাস।
/এমটি