আলোচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত। অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ১২ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৩ আগস্ট তিশাকে আদালতে হাজির থাকতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার।
বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন তানজিন তিশা। গত বৃহস্পতিবার একটি পুরস্কার অনুষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সেখানে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মামলাটি প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে ১২-১৪ বছর কাজ করছি। ভালোমন্দ মিলিয়ে কাজ করছি। আমার কাজের জায়গাটা কিন্তু আমি ধরে রেখেছি। আমি যেদিন আমার সিনেমার শুটিং শুরু করি, তার ঠিক দ্বিতীয় দিনেই লিগ্যাল নোটিশ পাই। তার পাঁচ দিন না ছয় দিনের মাথায় আমার নামে মামলা হয়ে যায়। আমরা একটা কথা বলি না, কেউ যখন ওপরে উঠতে চায়, পেছনে কিছু মানুষ থাকে যারা ওপরে উঠতে পারবে না, পেছন থেকে টেনে ধরে। আমারও ঠিক একই অনুভূতি হয়েছে।’
এ সময় তিশা আরও বলেন, ‘আমি ১৪ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি একটা অনলাইন শপের ২৭ হাজার টাকার শাড়ি মেরে দেওয়ার জন্য? ২৭ হাজার টাকা মেরে দেওয়ার জন্য এত কষ্ট করে নিজেকে একটা জায়গায় দাঁড় করিয়েছি? এক ইন্ডাস্ট্রিতে একটা মেয়ের বা যেকোনো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কাজ করা কি আপনাদের কাছে খুব সহজ মনে হয়? অনেক সহজ কিছু না।’
সবশেষে তিশা জানান, তিনি পুরো প্রক্রিয়া আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন। এ বিষয়ে অনেক কিছু বলার থাকলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখন চুপ আছেন।
প্রসঙ্গত, ‘অ্যাপোনিয়া’ (Aponia) নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে প্রমোশন, মূল্য পরিশোধ না করে একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন ফ্যাশন পেজটির কর্ণধার এক নারী উদ্যোক্তা। ওই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে তিশার ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভয়েস মেসেজে কথোপকথন পর্যালোচনা করে প্রতারণার সত্যতা পাওয়া গেছে। যা নিয়ে খবরের কাগজ সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নিয়ে তিশা তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ওই শাড়িটি নাকি উপহার দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা। এরপর প্রতারণা, মানহানিকর কথা ও ছলচাতুরীর অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে তানজিন তিশা (তানজিন নাহার তিশা)-কে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন ‘অ্যাপোনিয়া’ অনলাইন ফ্যাশন পেজের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলামের পক্ষে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সরকার। গত ২২ অক্টোবর তানজিন তিশার বাসার ঠিকানায় ডাকযোগে এবং তিশার হোয়াটসঅ্যাপে আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়।
আইনি নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ওই নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার করার জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয় তিশাকে। কিন্তু আইনি নোটিশে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকায় গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৮ নম্বর কোর্টে ৪২০/৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন অ্যাপোনিয়ার এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম। সিআর মামলা নম্বর ৯৬২/২০২৫।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ চাওয়া হলে ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
এরপর মামলাটির তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) আদালতে রিপোর্ট প্রেরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।