ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঙ্গোয় মরদেহ পরিবহনে ইবোলা ছড়ানোর নতুন ঝুঁকি: জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল মেক্সিকো উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার না ফেরার দেশে ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স সেই মেটলাইফেই শিরোপার লড়াইয়ে মেসি জাতিসংঘে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী: জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে হিলিতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী উধাও! সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন ওয়ার্ড প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা, ৪৫ সেনা হত্যার দাবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা নেই, ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য বর্ষার রঙে মাতল ঢাকা, আয় বন্যার্তদের জন্য কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডো, আতঙ্কে ছোটাছুটি সাতকানিয়ায় বন্যাকবলিত সহস্রাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক: কৃষিমন্ত্রী কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, শনিবার খোলা হবে ১৬ জলকপাট সাগরে বৈরী আবহাওয়া, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কাবাডি মাঠে জাইমা রহমান, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ হামের উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে, মোট প্রাণহানি ৭৮০ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে: ফারুক ওয়াসিফ টোপো গিগিও সেলিব্রেশনের ইতিহাস কি? চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ভেঙে পদদলিত, আহত ৩ স্মার্ট পেশা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন রুনা লায়লা

প্রশাসনের ব্যাখ্যা নেই, ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
প্রশাসনের ব্যাখ্যা নেই, ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে।  ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে। 

২০১৯ সালে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা। দীর্ঘদিন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকলেও ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।  

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বরটি হলেও গত কয়েকদিন ধরে ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন বা পৌরসভা ভাস্কর্যটি ভাঙার বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না। ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নামে এটির নামকরণ করা হয়। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য বা শৈল্পিক অবয়ব দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা ভাস্কর্যের চত্বরটি ভেঙে ফেলছেন। ভাঙার বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাশেদ আলী খান খবরের কাগজকে বলেন, ভাস্কর্যটি কেন ভাঙা হচ্ছে তা আমি জানিনা। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে বলতে পারবেন। 

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও তৎকালীন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এটি উদ্বোধন করেন। ভাস্কর্য নির্মাণ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু করা হলেও পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। বর্তমানে ভাস্কর্য নির্মাণের সেই ফাইলটি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, জেলা প্রশাসন এই ভাস্কর্য ভাঙার কাজ করছে না। আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই ভাস্কর্যটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহ পৌরসভা ও সড়ক বিভাগ সম্ভবত আগের সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন কছে।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্সের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি করার পরিকল্পনা আছে জেলা প্রশাসনের। ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে তিনি সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে কারা বা কোন দপ্তর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে বিষয়টি আমার জানা নেই। 

ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জনদুর্ভোগ লাঘব ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চত্বরটি অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হাওয়ায় সে সময় আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন হয়তো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন।

ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোন ভাস্কর্য ছিল বলে আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান জানান, সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোন ভাস্কর্য ছিল না বা তৈরিও হয়নি, যদি ভাস্কর্য তৈরি হতো তবে আমরা জানতে পারতাম। 

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এমএ মজিদ বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি ভাস্কর্য ছিল। ভাস্কর্যটি আসলে কি বোঝাতে চেয়েছিল তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। 

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দু দফায় ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করেছিল। মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে হওয়ায় ভাস্কর্যটি দুর্ঘটনার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জেলা প্রশাসনের কয়েকটি সভায় ওই ভাস্কর্যটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। ভাস্কর্যটি ভাঙার বিষয়ে কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না। ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ কে বা কারা করছে তা আমার জানা নেই।

ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাছে গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, দেশের প্রত্যেকটি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ঝিনাইদহের গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে অনেকদিন ধরে এই চত্বরটি ছিল। কদিন ধরে দেখছি এটি ভাঙা হচ্ছে। কেন যে ভেঙে ফেলা হচ্ছে তা জানি না।

ঝিনাইদহের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সারা দেশের গর্ব। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। জীবন দিয়ে হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছেন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত ওই চত্বর না ভাঙলে নতুন প্রজন্ম তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারত।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি হিসেবে সম্মুখ সমরে অংশ নেন।

মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্ত ঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি শহিদ হন।

হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ লাভ করেন। সারা দেশের ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে হামিদুর রহমান  একজন।

ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুন্ডু) আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, আমি গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাতে অবস্থান করছি। ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিষয়ে আমি জানিনা।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে দুই মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মামলার প্রধান আসামি সেই চাচি ফারজানা আক্তার লতা বেগমকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১১ নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার মো: আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন একটি তিন মাস বয়সি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশব্যাপী তীব্র জনমতের সৃষ্টি করে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পায়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই র‍্যাব-১১, সিপিএসসি-৩ নরসিংদী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। ছায়া তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা) আত্মগোপনে রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ র‍্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদীর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হবে। 

এর আগে আপন চাচি কর্তৃক ২ মাসের শিশুর উপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নরসিংদীর প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে শিশুটির চাচি অভিযুক্ত লতা বেগমের পাশাপাশি তার স্বামী কাউছার আহমেদ এবং লতার পিতা আলমাছ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ এবং পিতা আলমাছ মিয়া কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পলাতক ছিলেন চাচি লতা ।

শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন

ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অবাধে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেই চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিপক্ষের বাড়ির সকল সদস্য পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানায়, অবাধে দফায় দফায় দিনে ও রাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকাতে পুলিশকে কোন পদক্ষেপ নিতে তারা দেখেননি।

জানা গেছে, উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত সুমনের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে গত ২৭ জুন ১৭ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের দিনগত রাতে (২৬ জুন) প্রথমে হামলা করে ভাঙচুর করা হয় উকিল শেখের বাড়ি। গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে আলফাডাঙ্গা থানার সামনে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা প্রতিপক্ষের অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা রাতের অন্ধকারে যেমন ঘটেছে আবার দিনের আলোতেও ঘটেছে। এলাকাবাসী জানায়, হামলা ও লুটপাট এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তার ছেলে হুসেন শেখের বাড়িতে একতলা পাকা ও সেমি পাকা দুটি বাড়ি ভাঙচুর করে, আসাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রাত ও দিন মিলিয়ে তিন দফা-এ বাড়িসহ সব বাড়িতে মব সৃষ্টি করে ধংসযজ্ঞ চালানো হয়। ২৬ জুন হত্যাকাণ্ডের পর উকিল শেখের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর প্রতিপক্ষ সব পরিবার বাড়িতে যাবতীয় সামগ্রী রেখে এক কাপড়ে বের হয়ে যায় বলে জানা গেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষ কেউ এলাকায় নেই। তাদের মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়। 

হত্যা মামলার বাদী নিহতের ভাই শামীম শেখ বলেন, হত্যার ২১ দিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত মাত্র একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। তিনি বলেন, গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় তারা জড়িত নয়। তার ভাষ্য মতে ওই গ্রামে এমন কোন পরিবার নেই যারা ওদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হননি। 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় কেউ মামলা করেনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এন কে বি নয়ন/এসএন

হিলিতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
হিলিতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হিলিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, গাছের চারা ও বিভিন্ন আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় হিলি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের এই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ ধরনের সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও বেগবান করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমানসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার এবং শীতকালীন হাইব্রিড ও উফশী শাক-সবজির বীজ বিতরণ করা হয়।

কুদ্দুস/এএফ

কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী উধাও!

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী উধাও!
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার (পার্ট-৩) থেকে মোছা. রিম্পা (২১) নামে এক নারী বন্দী পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারাগারজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

মোছা. রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দী।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে বন্দী রিম্পা নিখোঁজ রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের একাধিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

পলাশ প্রধান/রিফাত/

হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন ওয়ার্ড প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন ওয়ার্ড প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে আগে থেকেই বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার দুপুরের পর জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে গেলে দ্রুত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। অনেক এলাকায় দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি উঠে সড়ক তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। শুক্রবারের জোয়ারে শেষ পর্যন্ত বাঁধটি ভেঙে যায়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিনের জোয়ারে তুলনামূলক কম পানি থাকলেও ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাতে আরও বড় জোয়ারের আশঙ্কা রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে আরও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে ভাঙনস্থল দিয়ে অব্যাহতভাবে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের ওই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

সাকিব/রিফাত/