ছবি: খবরের কাগজ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অবাধে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেই চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিপক্ষের বাড়ির সকল সদস্য পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানায়, অবাধে দফায় দফায় দিনে ও রাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকাতে পুলিশকে কোন পদক্ষেপ নিতে তারা দেখেননি।
জানা গেছে, উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত সুমনের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে গত ২৭ জুন ১৭ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের দিনগত রাতে (২৬ জুন) প্রথমে হামলা করে ভাঙচুর করা হয় উকিল শেখের বাড়ি। গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে আলফাডাঙ্গা থানার সামনে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা প্রতিপক্ষের অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা রাতের অন্ধকারে যেমন ঘটেছে আবার দিনের আলোতেও ঘটেছে। এলাকাবাসী জানায়, হামলা ও লুটপাট এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তার ছেলে হুসেন শেখের বাড়িতে একতলা পাকা ও সেমি পাকা দুটি বাড়ি ভাঙচুর করে, আসাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রাত ও দিন মিলিয়ে তিন দফা-এ বাড়িসহ সব বাড়িতে মব সৃষ্টি করে ধংসযজ্ঞ চালানো হয়। ২৬ জুন হত্যাকাণ্ডের পর উকিল শেখের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর প্রতিপক্ষ সব পরিবার বাড়িতে যাবতীয় সামগ্রী রেখে এক কাপড়ে বের হয়ে যায় বলে জানা গেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষ কেউ এলাকায় নেই। তাদের মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।
হত্যা মামলার বাদী নিহতের ভাই শামীম শেখ বলেন, হত্যার ২১ দিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত মাত্র একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। তিনি বলেন, গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় তারা জড়িত নয়। তার ভাষ্য মতে ওই গ্রামে এমন কোন পরিবার নেই যারা ওদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হননি।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় কেউ মামলা করেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এন কে বি নয়ন/এসএন