ভোলার মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে বেড়ীবাঁধের ভেতর ও বাহিরে নিম্নাঞ্চল ৫-৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।
দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি, ফলে চরম ভোগান্তিতে মানুষ।
এছাড়াও ঢাকা যাওয়ার একমাত্র রামেনওয়াজ লঞ্চঘাটটি জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঢাকাগামী শত শত যাত্রীরা বিপাকে পড়েন।
এদিকে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন বেড়ীবাঁধহীন ৫নং কলাতলীর ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচরের অবস্থা খুবই নাজুক। ওই সমস্ত এলাকায় ৫-৭ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে জানান কলাতলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমিন তালুকদার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পূর্বপাশে ৬০ কলোনীতে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কলোনীতে বসবাসরত ৬০ পরিবারের বসবাসরত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। কেউ ঘরের টিনের ছালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
এদিকে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। অপরদিকে বেড়ীবাঁধহীন ৫নং কলাতলী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।
জোয়ারের প্লাবিত ষাট কলোনীতে বসবাসরত বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বিবিসহ অনেকে জানান, দিনে-রাতে দুইবেলা জোয়ারের পানি প্লাবিত হচ্ছে। এতে তাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে ঘরের ওপরে টিনের চালে আশ্রয় নিতে হয়। রাতের জোয়ারে বেশি বিপাকে পড়ি। রাত হলে অপেক্ষা করতে হয় কখন জোয়ার আসবে কখন যাবে। দুর্ভোগের মধ্যে আছি।
রামনেওয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা, মমিন তালুকদার জানান, রামেওয়াজ ঘাটসহ এলাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়নের বোর্ড ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনায় জোয়ারের পানি ১০০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় বেড়ি ও বেড়ির বাহিরে প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়া এলাকার পুরানো বেড়ীবাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকড়ি মুকরি, ঢালচর ও সদর উপজেলা রাজাপুর ও ধনিয়া ইউনিয়নের নাসির মাঝি এলাকায় বাঁধের বাইরে নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
ইমতিয়াজুর রহমান/রিফাত/