চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পূর্ব মুহূর্তে এমপি-মন্ত্রী ও মেয়রসহ মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর পরপরই হুড়োহুড়ি করে ত্রাণসামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে তিন নারী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দোহাজারী পৌরসভার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন একটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় মঞ্চে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি একাধিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার পর এমপি-মন্ত্রী ও মেয়রসহ বিএনপির নেতারা গাড়িতে উঠে সাতকানিয়া উপজেলার দিকে রওনা হন। এর পরপরই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত বন্যাদুর্গতরা হুড়োহুড়ি করে ত্রাণসামগ্রী নেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে ৩ নারী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নগরপাড়া থেকে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাণসামগ্রী নিতে অনুষ্ঠানস্থলে এসেছিলেন মিনু আক্তার। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে তার সঙ্গে কথা হয়।
তিনি বলেন, হুড়োহুড়ির একপর্যায়ে আমি একটি ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেট নিয়েছিলাম। সেটি ভিড়ের মধ্যে কে যেন কেড়ে নেয়। ওই সময় আমি মাটিতে পড়ে গেলে সবাই আমাকে পদদলিত করে। তখন কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে বেড়ে শুয়ে আহাজারি করেছিলেন দোহাজারী পৌরসভার ডাকবাংলো এলাকার ৬০ বছর বয়সি রাশেদা আকতার। তিনি বলেন, আমাদেরকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার কথা বলে এখানে আনা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে হইচই শুরু হলে আমি মাটিতে পড়ে যায়। এরপর লোকজন আমাকে পদদলিত করেছে।
আলীজ্জমা মাস্টার বাড়ির শাহ আলমের স্ত্রী শিরিন আকতার বলেন, আজকে আমরা তিনজনই মরে যেতাম। এখানে রোহিঙ্গারাও এসে ত্রাণসামগ্রী লুটপাট করেছে। এভাবে লুটপাট করা তো ভালো না। তারা চাইলে দাঁড়িয়ে জিনিসগুলো দিতে পারত। যে যেদিকে পারে সেদিকে সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
রাজু আকতার বলেন, আয়োজকরা যদি ত্রাণসামগ্রী ছেড়ে না দিত, তাহলে একজন ব্যক্তিও সেগুলো নিতে পারত না। ওনাদের কারণেই এত মানুষ আহত হয়েছে। এখানে স্কুল ও পৌরসভা আছে। সেখানে না দিয়ে কেন রাস্তায় পাশে এগুলো দেওয়া হয়েছে? আমার আম্মুকে সবাই মাটিতে ফেলে পদদলিত করেছে। আমার ছোট বাচ্চা ছিল তাই আমি বাঁচাতে পারিনি। এরপর সবাই সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার পর যদি পুলিশ-প্রশাসন ত্রাণসামগ্রীগুলো ঘিরে রাখত, তাহলে কেউ আহত হতেন না।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা বসে থাকার পর ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন দোহাজারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরজুরী গ্রামের পূর্ব হাফছড়ি এলাকার মাসুমা বেগম। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি বলেন, ত্রাণসামগ্রী জন্য এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। যে যার মতো করে সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সিফাত সায়মা বলেন, তিনজন রোগী আমাদের এখানে এসেছিল। আমরা তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদারের ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমানের ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।
আরিফুল ইসলাম/রিফাত/