উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে আগামী রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ভেন্যু নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম। ঠিক ১০ বছর আগে এই মাঠেই ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
সেদিন চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই পরাজয়ের হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। আবেগের বশেই হোক বা তীব্র হতাশা থেকেই, ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন— আর কখনো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তুলবেন না।
কাকতালীয়ভাবে, এক দশক পর সেই একই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেদিন টাইব্রেকারের হতাশা আর্জেন্টিনাকে শিরোপাবঞ্চিত করেছিল। মেসির জন্য সেটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে টানা তৃতীয় বড় ফাইনালে পরাজয়। সেই যন্ত্রণাই তাকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।
তবে কয়েক মাস পর নিজের সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। ফিরে আসেন জাতীয় দলে। এরপরের গল্প যেন রূপকথার মতো। দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা, একটি বিশ্বকাপ— একটির পর একটি সাফল্য অর্জন করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেন তিনি।
এখন আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি, অপেক্ষা আরেকটি স্বপ্ন পূরণের।
এই যাত্রা শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয়; এটি ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। কঠিন সময়ের পর নতুন করে শুরু করার সাহসই শেষ পর্যন্ত মেসিকে এনে দিয়েছে সেই গৌরব, যার জন্য তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছিলেন।
যে স্টেডিয়ামে একদিন অশ্রু ঝরেছিল, যে মাঠে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল আর্জেন্টিনার হয়ে হয়তো কখনোই ক্লাব ফুটবলের মতো সাফল্য পাবেন না, সেই মেটলাইফই আজ তাকে স্বাগত জানাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিচয়ে।
এখন মেসি একজন পরিপূর্ণ নেতা। মাঠে তার পাশে আছেন রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের মতো সতীর্থরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে তিনি পেয়েছেন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তার নেতৃত্ব, প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব সবই বিকশিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির এই রূপান্তরের পেছনে স্কালোনির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দশ বছর আগে যে নিউইয়র্ক তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল, আজ সেই শহরই হয়তো দেখতে যাচ্ছে তার আরেকটি মহাকাব্যিক অধ্যায়।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল তাই শুধু আরেকটি ট্রফির লড়াই নয়। এটি মেসির জন্য এক দশক আগের ক্ষত পুরোপুরি মুছে ফেলার সুযোগও। যে স্মৃতি একসময় তাকে কাঁদিয়েছিল, সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই তিনি এখন লিখতে পারেন মুক্তির আরেকটি অনন্য গল্প।
এএফ/