ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসিকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এমবাপ্পের এমবাপ্পে-বারকোলার গোলে ৪-০ থেকে ৪-৩, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পথে ফ্রান্স ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে ইংল্যান্ড সাকার গোল বাতিলের পরেও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের জালে ইংল্যান্ডের গোল ফ্রান্সের একাদশে ৭ পরিবর্তন, ইংল্যান্ডের বেঞ্চে বেলিংহাম-কেইনসহ ৭ জন মায়ামিতে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ পরিচালনায় ভেনেজুয়েলার রেফারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ট্রাম্পের সহায়তা চাইলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতলেই ব্রোঞ্জ পদক, কত টাকা পাবে বিজয়ী দল? হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকট গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮ এবার চবি ছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা অধ্যাপক ভোলায় ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৩৪ বস্তা ভিজিএফের চাল উদ্ধার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ স্পোর্টস ভিলেজ গড়বে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিজয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের যাত্রী নিহত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের বংশালে পোশাক কারখানা থেকে কর্মীর মরদেহ উদ্ধার মাতামুহুরী নদী রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দশ প্রখ্যাত গ্রাফিক্স ডিজাইনারের শৈল্পিক স্বকীয়তা প্রকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতের হামলায় জেলে নিহত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আ.লীগ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের তৎপরতা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রবাসীদের জন্য আসছে ডেবিট সুবিধাসহ ‘প্রবাসী কার্ড’ ফের আর্চারির নেতৃত্বে চপল, এবার সভাপতির চেয়ারে পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা প্রথমবারের মতো বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত পর্যটন কেন্দ্র ও পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেছেন সিলেটের নতুন ডিসি দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬ পরিকল্পিত নগরায়ণেই টেকসই উন্নয়ন: জাতিসংঘে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবককে আটক করলো ট্রাফিক পুলিশ

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা, ৪৫ সেনা হত্যার দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা, ৪৫ সেনা হত্যার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, কোয়েটা-করাচি হাইওয়ের মাস্তুং জেলার খাদকুচা এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী ১৫টিরও বেশি বাসের একটি কনভয় (সেনাবহর) লক্ষ্য করে বিএলএ-এর ‘ফতেহ স্কোয়াড’ এ হামলা চালায়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে হতাহতদের উদ্ধারে আসা বাহিনীর সঙ্গেও বিএলএ যোদ্ধাদের তীব্র গোলাগুলি হয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

তবে একটি পাকিস্তানি সামরিক সূত্র প্রাথমিকভাবে ৩ জন সেনা নিহত এবং ২৫ জনেরও বেশি আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।

গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি অবৈধ আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমেদাবাদের ভাস্ত্রাল এলাকায় অবস্থিত ‘ট্যালেন্ট ফায়ারওয়ার্কস’ নামের কারখানাটিতে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

কারখানাটির লাইসেন্স আগেই বাতিল করা হয়েছিল। এরপরও স্থানীয় একটি খামারে অবৈধভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মণিনগর সিভিল হাসপাতাল ও এলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আহতদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

এএফ/

প্রথমবারের মতো বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
প্রথমবারের মতো বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত
ভারতে বেসরকারিভাবে নির্মিত অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো বেসরকারিভাবে নির্মিত অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ভারত। বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) তারা সফলভাবে রকেটটি উৎক্ষেপণ করেন।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস নির্মিত এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট) ক্ষুদ্র উপগ্রহ বহনের উপযোগী বিক্রম-১ রকেটটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

উৎক্ষেপণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস লিখেছে, ‘হ্যালো মহাকাশ, আমরা এসে গেছি! বিক্রম-১-এর টেস্ট ফ্লাইট-১ সফলভাবে তার মিশন সম্পন্ন করেছে। ভারতের বেসরকারি খাতের প্রথম মহাকাশ উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হলো।’

প্রায় সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার এই রকেটটি সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের পেলোড বহনে সক্ষম।

ভারতের ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (ইন-স্পেস)-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা বলেন, ভারতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম অরবিটাল উৎক্ষেপণের জন্য এই সাফল্য ‘প্রত্যাশারও অনেক বেশি’।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ সাফল্যকে ‘ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রার এক যুগান্তকারী মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে এবং উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করছে। এই অর্জন অসংখ্য তরুণকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নির্ভীকভাবে উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করবে।’ 

বিক্রম-১ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষামূলক পেলোড বহন করছে। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষাগারে তৈরি একটি হীরা, মহাকাশের আবর্জনা অপসারণে সক্ষম রোবোটিক বাহু এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেটের প্রতিরূপ। এতে ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট মহাকাশবিজ্ঞানী এ. পি. জে. আবদুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য সংযোজিত রয়েছে।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)’র কয়েক দশকের বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে।

২০২০ সালে বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ খাত উন্মুক্ত করার পর দেশটির মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। বর্তমানে প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই খাতে ৪০০টিরও বেশি মহাকাশভিত্তিক স্টার্টআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর উৎক্ষেপণের পর বলেন, ‘ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’ 

২০২৩ সালের আগস্টে ভারত চাঁদে সফলভাবে মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান অবতরণকারী বিশ্বের চতুর্থ দেশ হয়। এর আগে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছিল রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান কে. শিবান বলেন, মহাকাশ খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য প্রমাণ করে, এ খাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের সুফল এখন মিলতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে স্কাইরুটের ক্ষেত্রে রকেট প্রযুক্তি মহাকাশ ব্যবস্থার সবচেয়ে জটিল প্রযুক্তিগুলোর একটি। এই সাফল্য আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে। এই উৎক্ষেপণ নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদি একটি ভারতীয় স্টার্টআপ মহাকাশ শিল্পের সবচেয়ে জটিল প্রযুক্তিগুলোর একটি সফলভাবে তৈরি করতে পারে, তাহলে তা বৈশ্বিক পরিসরে ভারতের সুনাম আরও বাড়িয়ে দেবে।

নাঈম/

তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এত বড় ধরনের প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদাসহ দেশটির প্রায় সব অঞ্চলেই এখন জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

নিজ শহর ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে জ্বালানির জন্য একের পর এক চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে তারা পেট্রোলের সন্ধান পান।

এতদিন রাশিয়ায় সহজেই এবং ইউরোপের তুলনায় অনেক কম দামে জ্বালানি পাওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো রাশিয়ার বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রোল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’

গত জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ভোলগদার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের কিছু পেট্রোল পাম্প সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ায়, এই সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি স্থবির করে তুলেছে।

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন এই সংকটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য হলো রুশ জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া।

যদিও সরকারের দাবি উপেক্ষা করে রাজধানীর বাইরের সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এই জ্বালানি সংকট পুতিন সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এএফ/

নরওয়েতে পুড়ে ছাই শতাধিক ঘরবাড়ি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
নরওয়েতে পুড়ে ছাই শতাধিক ঘরবাড়ি
নরওয়ের ড্রামেনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০টি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ড্রামেনের কাছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০টি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) এই আগুন বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা ব্যাপক বেগ পাচ্ছেন বলে উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ওই আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ৬০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। এছাড়া ওপর থেকে পানি ছিটানোর জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন নেভানোর আগেই তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত কীভাবে এবং কোথা থেকে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

ইরানে ‘সেনা অভ্যুত্থানের’ আশঙ্কা কট্টরপন্থিদের

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ইরানে ‘সেনা অভ্যুত্থানের’ আশঙ্কা কট্টরপন্থিদের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করলে ইরানে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা রয়েছে বলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে সতর্ক করেছেন কট্টরপন্থিরা।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। ইরানের ক্ষমতাশালী কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো দেশের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে এক যৌথ চিঠিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা চুক্তি করা হলে দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত, বাহরাইন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে লাগাতার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। তবে তেহরানের এই নরম অবস্থান মেনে নিতে পারছে না ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দেশটির কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদরা।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, খামেনির কাছে পাঠানো গোপন চিঠিতে কট্টরপন্থিরা দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই মুহূর্তে চুক্তি করা হবে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-কে দুর্বল করে দেবে।

চিঠিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, জোরপূর্বক এই চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হবে, যা পরবর্তীতে যেকোনো সময় একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক অভ্যুত্থানের রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নেতাকে এভাবে সরাসরি সামরিক অভ্যুত্থানের ভয় দেখানো নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে কট্টরপন্থি বনাম সংস্কারপন্থিদের বিরোধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, তারা ইরানের এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এই অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কিন চুক্তির পক্ষে সায় দেন নাকি কট্টরপন্থিদের মন রাখতে আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: সিএনএন

আজহার/