ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঙ্গোয় মরদেহ পরিবহনে ইবোলা ছড়ানোর নতুন ঝুঁকি: জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল মেক্সিকো উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার না ফেরার দেশে ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স সেই মেটলাইফেই শিরোপার লড়াইয়ে মেসি জাতিসংঘে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী: জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে হিলিতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী উধাও! সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন ওয়ার্ড প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা, ৪৫ সেনা হত্যার দাবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা নেই, ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য বর্ষার রঙে মাতল ঢাকা, আয় বন্যার্তদের জন্য কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডো, আতঙ্কে ছোটাছুটি সাতকানিয়ায় বন্যাকবলিত সহস্রাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক: কৃষিমন্ত্রী কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, শনিবার খোলা হবে ১৬ জলকপাট সাগরে বৈরী আবহাওয়া, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কাবাডি মাঠে জাইমা রহমান, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ হামের উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে, মোট প্রাণহানি ৭৮০ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে: ফারুক ওয়াসিফ টোপো গিগিও সেলিব্রেশনের ইতিহাস কি? চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ভেঙে পদদলিত, আহত ৩ স্মার্ট পেশা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন রুনা লায়লা

বর্ষার রঙে মাতল ঢাকা, আয় বন্যার্তদের জন্য

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
বর্ষার রঙে মাতল ঢাকা, আয় বন্যার্তদের জন্য
বর্ষা বন্দনায় নৃত্য। ছবি: খবরের কাগজ

জানালার বাইরে মেঘের আনাগোনা কিংবা ছাদের কার্নিশে বৃষ্টির অঝোর ধারা- শহুরে যান্ত্রিকতায় শ্রাবণের স্মৃতি এখন ফ্রেমে বন্দি। তবুও শহুরে মনও ভিজতে চায় শ্রাবণের অঝোর ধারায়। তাই নগরীর তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী ছন্দগীতে মাতিয়ে তুললেন এক সকাল। সেই আয়োজনে শামিল হন হাজারো মানুষ। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঘনঘটা-২’ শিরোনামের নৃত্য উৎসব।

একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী অর্থী এ আয়োজনের আদ্যোপান্ত সাজিয়ে তুলেছিলেন বর্ষার চিরচেনা রূপে।

আরও পড়ুন

‘ঘনঘটা- ২’ হয়ে উঠেছিল গ্রামবাংলার বর্ষা উৎসবের রূপান্তর।

আগত দর্শক সাবিনা ইয়াসমীনের ভাষ্যে, এই নৃত্য প্রযোজনাটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল শিকড়ের কাছে ফেরার এক আকুল আবেদন।

নৃত্যানুষ্ঠানের সূচনা হয় শিল্পী নির্ঝর চৌধুরীর রাগভিত্তিক ক্লাসিক্যাল পরিবেশনা ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় ১৬টি ভিন্ন ঘরানার নৃত্য।

সাংস্কৃতিক গণ্ডি কিংবা বয়সের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম ছিল না এই আয়োজনে। ৩ বছর বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের প্রবীণ; নানা বয়সি মানুষ এই আয়োজনে মঞ্চে উঠেন। এ আয়োজনে বেশ ক’জন নৃত্যশিল্পী শামিল হন; যারা এর আগে কখনও মঞ্চে উঠেননি।

ভরতনাট্যমের লয় থেকে শুরু করে কত্থকের দ্রুত চক্র, আবার কখনো বাংলার মাটির ঘ্রাণমাখা লোকনৃত্য- ১৬টি ভিন্ন কোরিওগ্রাফিতে বর্ষাকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছিল চারুকলার মঞ্চে।

এবারের ‘ঘনঘটা’র বিশেষত্ব ছিল মানবিক আবেদন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের জন্য অর্থ সহযোগিতাও ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দর্শকরা চারুকলা অনুষদে ‘জাগো ফাউন্ডেশন’-এর বুথ ছিল। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা দর্শকরা স্বেচ্ছায় বানভাসি মানুষের জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছেন সেখানে। 

আয়োজক অর্থী আহমেদ বলেন, ‘নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম আর যান্ত্রিকতার ব্যস্ততায় ঢাকাবাসী যেন প্রকৃতির এই অপরূপ পরিবর্তন ও বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতেই ভুলে গেছে। আমাদের এই প্রয়াস ছিল নগরবাসীকে প্রকৃতির সাথে মেলানোর এক ক্ষণিক সুযোগ করে দেওয়া। একইসঙ্গে দেশের চলমান দুর্যোগে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অন্যতম নাটকের দল ঢাকা পদাতিক। দলটির ৩৮তম প্রযোজনা ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার দলে নাটকটির ৪৪তম মঞ্চায়ন হবে। 

বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক। 

আরও পড়ুন

নাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। 

তার মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী।

প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি। 

নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, “ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তার প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।” 

প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, হাসনাহেনা শিল্পী, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল মিলটন, কাজী সম্রাট, তারেক আলী মিলন, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, ফারজানা নিপা, আরিফ, মাকসুদ, জাহিদ প্রমুখ। 

নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান। 

বলে রাখা ভালো, ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

বিজ্ঞপ্তি/

কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ
কবি আল মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ ১১ জুলাই।

১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৌড়াইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি ও প্রার্থনার কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।

আজ আলোচনা, স্মরণসভা ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবি আল মাহমুদের জন্মদিন পালন করবেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

আরও পড়ুন

আল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সাড়া জাগানো জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সোনালী কাবিন’। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত। এ ছাড়া ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

শিশুদের জন্য লেখা ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ তার অন্যান্য জনপ্রিয় বই। তার বিখ্যাত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’। তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে ‘গন্ধ বণিক’, ‘ভেজা কাফন’, ‘জলবেশ্যা’ ও ‘পশর নদীর গাঙচিল’।

আল মাহমুদ কবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তিনি বেশ কিছু অসাধারণ উপন্যাস রচনা করেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘উপমহাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তার অন্যতম জনপ্রিয় এ উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন। এ ছাড়া ‘কাবিলের বোন’, ‘ডাহুকী; কবি ও কোলাহল তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।

কবি আল মাহমুদ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ময়মনসিংহে লালনের গানে শেকড়ের সংস্কৃতি তুলে ধরল ‘ভাব তরঙ্গ’
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহে শেকড়ের সংস্কৃতি ও বাউল দর্শনের শুদ্ধ রূপ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী বাউল গানের আসর ‘ভাব তরঙ্গ’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে শুরু হয় এই আয়োজন। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

নগরীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই আসরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে বাউল গান উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন

আয়োজকদের ভাষ্য, বাউল গান কেবল সংগীত নয়, এটি বাংলার লোকজ দর্শন। জীবনবোধ ও মানবিক চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতেই ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে ‘ভাব তরঙ্গ’। প্রতিটি পর্বে স্থান পাবে একজন করে বাউল সাধকের জীবনদর্শন ও গানের বাণী।

উদ্বোধনী পর্বটি উৎসর্গ করা হয় সাধকশিরোমণি লালন ফকিরকে।

অনুষ্ঠানে লালনের গান পরিবেশন করেন বাউল স্বদেশ তালুকদার, নুর ইসলাম মিয়া, মো. দুলাল সরকার, দুলাল নাগ ও গোপাল চন্দ্র কর। তাদের কণ্ঠে একের পর এক পরিবেশিত হয় মানবতা, প্রেম, সহমর্মিতা ও আত্মঅন্বেষণের বাণীবাহী লালনের গান।

হারমোনিয়ামে স্বদেশ তালুকদার, ঢোলে শিপন বর্মন, দোতারায় বিপ্লব সরকার এবং মন্দিরায় গোপিনাথের সংগত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বাউল গান শোনতে আসা ছামাদ মন্ডল বলেন, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এ ধরনের আয়োজন লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াবে।  শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ’বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী ধারক বাউল সাধকেরা তাদের গানের মধ্য দিয়ে মানবতা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকতার চাপে সেই শুদ্ধ ধারাটি ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আজ সংস্কৃতির নামে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীত বাণিজ্যিক বিনোদনের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। ফলে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাউল সাধকদের গানের বাণী ও দর্শনের শুদ্ধ রূপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভাব তরঙ্গ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/খাদিজা রুমি/

আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব
স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তিনি বলেছেন,অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সব চিন্তা ও লেখায় উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টির চিন্তা ও আশার প্রকাশ থাকে। 

তিনি বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক কর্মমুখী চিন্তাশীলতা অনুশীলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তার যুক্তিগ্রাহ্য বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণামূলক রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেস আয়োজিত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক দেশের শ্রমিক-কৃষক, গরিব মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রথম সারির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য লিখতেন এবং দেশ ও সমাজের অগ্রগতির বিষয়ে চিন্তাশীল ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের মৃত্যু আমাদের সমাজের বিশ্বস্ত রাষ্ট্র চিন্তকের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।

বাংলাদেশ কংগ্রেস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অংশগ্রহণ করেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম, গণমুক্তি জোটের মহাসচিব মো. আখতার হোসেন, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্ট সভাপতি এম এ আলিম সরকার, কম্বাইন্ড লায়ন এম সোহেল আহমেদ মৃধা, বাংলাদেশ কংগ্রেস অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোস্তফা আনোয়ার রিপন, দপ্তর সম্পাদক মো. তুষার রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু, যুগ্ম ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মওলানা গোলাম কিবরিয়া রাকিব, যুগ্ম যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. সালমান খান প্রমুখ।

এসএন/

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক
ছবি: খবরের কাগজ

নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির লেখক সম্মেলন ২০২৬। একাডেমির ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ৬ জন বিশিষ্ট লেখকের হাতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের 'চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার' তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের ফিতা কেটে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, প্রখ্যাত কবি ও গবেষক আমিনুল ইসলাম।

এবারের সম্মেলনে দেশের ৬ বিশিষ্ট সাহিত্যিকের হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় রহমান হেনরী, কথাসাহিত্যে আকিমুন রহমান ও শিশুসাহিত্যে এনায়েত রসুল। ২০২৬ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় জরিনা আখতার, প্রবন্ধসাহিত্যে প্রণব মজুমদার ও নাটকে মোস্তফা কামাল যাত্রা।

আরও পড়ুন

এছাড়া নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী।

উদ্বোধকের বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গন অনেক শক্তিশালী। চর্যাপদের এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা দেখে বুঝেছি কতটা নিখুঁতভাবে এখানে পুরস্কার প্রদান করা হয়।’

এছাড়া দেশের সামগ্রিক সাহিত্য চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত আমাদের দেশের সাহিত্য অঙ্গনের মানুষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বাড়াবাড়ির কারণে চর্চার জায়গাটা দিন দিন নিরস হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি।’

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন 'বিজয়ী'-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান। একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন আহ্বায়ক শিউলী মজুমদার।

অনুষ্ঠানে জয়ন্তী ভৌমিক, আইরিন সুলতানা লিমা, কামরুন্নাহার বিউটি, পিএম বিল্লাল, মিজানুর রহমান স্বপন ও ঐশী ঘোষ বিজয়ীদের শংসাপত্র পাঠ করেন। দিপান্বিতা দাস, নাজমুল ইসলাম, প্রাপ্তি ও রাসেল ইব্রাহীমসহ বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও বাচিকশিল্পী কবিতা আবৃত্তি করেন।

আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন। দিলীপ ঘোষের হাওয়াইন গিটার ও বেলাল শেখের বাঁশির সুরেলা মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। এছাড়া একাডেমির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় আমাদের চাঁদপুর শহর মুখরিত হয়ে ওঠে’।

এবারের অনুষ্ঠানেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক লেখক, শিল্পী ও সমাজকর্মী সরব উপস্থিতি ছিলেন বলে জানান তিনি।

ফয়েজ/এএফ