জানালার বাইরে মেঘের আনাগোনা কিংবা ছাদের কার্নিশে বৃষ্টির অঝোর ধারা- শহুরে যান্ত্রিকতায় শ্রাবণের স্মৃতি এখন ফ্রেমে বন্দি। তবুও শহুরে মনও ভিজতে চায় শ্রাবণের অঝোর ধারায়। তাই নগরীর তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী ছন্দগীতে মাতিয়ে তুললেন এক সকাল। সেই আয়োজনে শামিল হন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঘনঘটা-২’ শিরোনামের নৃত্য উৎসব।
একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী অর্থী এ আয়োজনের আদ্যোপান্ত সাজিয়ে তুলেছিলেন বর্ষার চিরচেনা রূপে।
‘ঘনঘটা- ২’ হয়ে উঠেছিল গ্রামবাংলার বর্ষা উৎসবের রূপান্তর।
আগত দর্শক সাবিনা ইয়াসমীনের ভাষ্যে, এই নৃত্য প্রযোজনাটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল শিকড়ের কাছে ফেরার এক আকুল আবেদন।
নৃত্যানুষ্ঠানের সূচনা হয় শিল্পী নির্ঝর চৌধুরীর রাগভিত্তিক ক্লাসিক্যাল পরিবেশনা ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় ১৬টি ভিন্ন ঘরানার নৃত্য।
সাংস্কৃতিক গণ্ডি কিংবা বয়সের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম ছিল না এই আয়োজনে। ৩ বছর বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের প্রবীণ; নানা বয়সি মানুষ এই আয়োজনে মঞ্চে উঠেন। এ আয়োজনে বেশ ক’জন নৃত্যশিল্পী শামিল হন; যারা এর আগে কখনও মঞ্চে উঠেননি।
ভরতনাট্যমের লয় থেকে শুরু করে কত্থকের দ্রুত চক্র, আবার কখনো বাংলার মাটির ঘ্রাণমাখা লোকনৃত্য- ১৬টি ভিন্ন কোরিওগ্রাফিতে বর্ষাকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছিল চারুকলার মঞ্চে।
এবারের ‘ঘনঘটা’র বিশেষত্ব ছিল মানবিক আবেদন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের জন্য অর্থ সহযোগিতাও ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দর্শকরা চারুকলা অনুষদে ‘জাগো ফাউন্ডেশন’-এর বুথ ছিল। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা দর্শকরা স্বেচ্ছায় বানভাসি মানুষের জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছেন সেখানে।
আয়োজক অর্থী আহমেদ বলেন, ‘নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম আর যান্ত্রিকতার ব্যস্ততায় ঢাকাবাসী যেন প্রকৃতির এই অপরূপ পরিবর্তন ও বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতেই ভুলে গেছে। আমাদের এই প্রয়াস ছিল নগরবাসীকে প্রকৃতির সাথে মেলানোর এক ক্ষণিক সুযোগ করে দেওয়া। একইসঙ্গে দেশের চলমান দুর্যোগে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল।’
জয়ন্ত সাহা/এসএন