ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ট্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছো তুমি মেঘবন্দি কুলাউড়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার লাল সবুজের দেশ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে আছে যারা? উত্তরখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল  চালকের বেদনা বৃষ্টি হয়ে ঝরে ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, মামা-ভাগ্নির মৃত্যু আষাঢ় আকাশ ছোঁয়া বর্ষামুখ জনবল নেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সাদা কালো সময় পোকার টুর্নামেন্ট নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন নেইমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানে অস্ত্র ও কার্তুজসহ ডাকাত গ্রেপ্তার অধ্যাপক আবদুল করিম: অনন্য মনীষা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান দেবেন না: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতার জন্য মানুষই বেশি দায়ী নিরাপদ ও বহিরাগতমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ দিল্লির রাজপথ থেকে লোকসভায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার বিনিদ্র এলিজি চেতনায় নজরুল: সু-সম্পাদিত একটি দুর্লভ আকর-গ্রন্থ কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি পদোন্নতি-পদায়নে টানাপোড়েনে প্রশাসন ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনছে নরওয়ে মতলবে তুলার মিলে আগুনে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বঞ্চিত ও অবহেলিতদের ব্যাপারে আন্তরিক হোন পদোন্নতি-পদায়নে টানাপোড়েনে প্রশাসন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
পদোন্নতি-পদায়নে টানাপোড়েনে প্রশাসন

প্রশাসনে পদোন্নতি-পদায়নে জটিলতা যেন কাটছেই না। সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগে বড় সংখ্যক পদোন্নতি এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

ভুক্তভোগী একাধিক কর্মকর্তা ও প্রশাসন-সংশ্লিষ্টতা জানান, গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়, যাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভাগীয় শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিগত সরকারের সময়ে বিতর্কিতরাও রয়েছেন।

মূলত, এই পদোন্নতির তালিকা প্রকাশের পর থেকেই নতুন করে প্রশাসনে অসন্তোষ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং বিতর্কিত ও দণ্ডপ্রাপ্তদের পদোন্নতির তালিকায় রাখার অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) প্রায় আট মাস যাচাই-বাছাই করার পর এই পদোন্নতির তালিকা তৈরি হয়। কিন্তু এর পরও কেন বঞ্চিত ও অবহেলিতরা তালিকার বাইরে থাকল তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মকর্তারা প্রশাসনের পদোন্নতি প্রদানসংক্রান্ত বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করলেও বর্তমানে ‘অবমূল্যায়ন’ বা অবহেলার মাঝে অনেককেই দিন পার করতে হচ্ছে। ফলে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে একশ্রেণির কর্মকর্তার মাঝে। যার প্রভাব পড়ছে প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমেও। বর্তমানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় কমেছে। আগে যেসব ফাইল নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হতো, এখন সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। এতে একটি ফাইল নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং প্রশাসনের গতি কমে যাচ্ছে। 

খবরের কাগজের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নানা হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী অদৃশ্য সিন্ডিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে বলে সচিবালয়জুড়ে গুঞ্জন রয়েছে। এই সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তুলনামূলক কম যোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে প্রশাসনের ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে। মূলত এই সিন্ডিকেটের প্রভাবেই সম্প্রতি পদোন্নতি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তাই পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ,সততা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমর্থক হলেই ভালো পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নেই। এতে সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। তা না হলে জনপ্রশাসনে হতাশা-ক্ষোভ বাড়তেই থাকবে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতিবঞ্চিত ও অবহেলিত কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও টানাপোড়েন চলছে তা দূর করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের কাজে গতি বাড়বে এবং তাদের মধ্যে প্রেরণা তৈরি হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও মেধাভিত্তিক জনকল্যাণমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সচেষ্ট হবে এটিই প্রত্যাশা।

আবাসন খাতের সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ জরুরি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ জরুরি

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি পণ্যসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করকাঠামোর জটিলতা এবং ব্যাংকের উচ্চ সুদ। এ কারণে মহাসংকটে ধুঁকছে আবাসন খাত। সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদার ও নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ রেখেছেন। উন্নয়নকাজের গতি শ্লথ হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন ঘরবাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এত কিছুর মধ্যেও ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখলেও এবারের বাজেটে প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তার প্রতিফলন দেখতে পাননি বলে জানা যায়; বরং রডসহ অন্য নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন করে কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণসামগ্রীর দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজেটের পর প্রতি টনে রডের দাম ৩-৫ হাজার টাকা বেড়েছে। টাইলস, সিমেন্টসহ অন্য পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাবে। ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে 
যাবে। আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে দাম বাড়লে এই খাতটি আরও সংকটে পড়বে।

আবাসন খাতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো শিল্প খাতে প্রভাব পড়তে পারে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবাসন খাতের সঙ্গে শিল্পের ২৬৯টি খাত জড়িত। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন খাত সচল থাকলে শিল্প সচল থাকে, এতে করে কর্মসংস্থান বাড়ে। সরকারের রাজস্ব বাড়ে এবং অর্থনীতি গতিশীল হয়। তাই আবাসন খাতকে একটি বহুগুণ প্রভাব সৃষ্টিকারী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আবাসন খাত বর্তমানে নীতিগত ও অর্থনৈতিক দুই ধরনের সংকটে রয়েছে। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তারা সব সময় স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক এবং টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশের পক্ষে। তাই অর্থনীতিতে স্থবির হয়ে থাকা অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে নিয়ে আসা প্রয়োজন। করনীতি যদি বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হয়, তাহলে বৈধ বিনিয়োগ বাড়বে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতাও কমবে।

রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উচ্চ সুদের ঋণ, করের চাপ, নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার কারণে ডেভেলপারদের মূলধন আটকে যাচ্ছে। নির্মিত ফ্ল্যাট বিক্রি কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এক অঙ্কের বা সিঙ্গেল ডিজিটের ব্যাংকঋণের সুদ, গ্রাহকের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার গৃহঋণ তহবিল গঠন, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমানো, ড্যাপ বাস্তবসম্মতভাবে সংশোধন, জমির মালিকদের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার এবং নির্মাণসামগ্রীর করব্যবস্থা যৌক্তিক করা জরুরি। তা হলে মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থানের ব্যবস্থা সহজ হবে।

নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় আবাসন খাতে সংকট বেড়েছে। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আবাসন খাতকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে হলে ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় কমাতে হবে। ঋণব্যবস্থা সহজ করতে হবে। মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ গৃহঋণ তহবিল গঠন করতে হবে। নির্মাণসামগ্রীর ওপর আরোপ করা কর ও শুল্ক হ্রাস করতে হবে। আশা করছি, সরকার আবাসন খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর নীতিসহায়তা এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উৎসে কর আদায়ে কঠোর এনবিআর হয়রানিমুক্ত অভিযান পরিচালনা করুন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
হয়রানিমুক্ত অভিযান পরিচালনা করুন

উৎসে কর আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছর এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে উৎসে কর ও অগ্রিম কর আদায় বাড়াতে হবে এনবিআরকে। এবার তারা ঘোষণা দিয়ে উৎসে কর আদায়ে মাঠে নেমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যক্ষ করের ৮৫ শতাংশই আসে উৎসে কর কর্তন ও অগ্রিম কর থেকে। এবারের অভিযানে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মিথ্যা তথ্য দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তথ্য ও সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনে কোনো প্রতিষ্ঠানের লকারও ভাঙতে পারবেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। কম্পিউটার থেকে হিসাবসংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারে ফরেনসিক ল্যাবের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এই অভিযানের জন্য এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎসে কর কর্তন সঠিকভাবে আদায় ও জমা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারায় কর কর্মকর্তাদের দেওয়া ক্ষমতা সম্পর্কে করদাতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলের বিশেষ টিম উৎসে কর কর্তনসংক্রান্ত মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে পারবেন।

এনবিআর থেকে জানানো হয়েছে, উৎসে করের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখার ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ইমেজ বা হিসাবের কপি সংগ্রহ এবং সেগুলোতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর থেকে আরও বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণকারী সংস্থা এনবিআর সেভাবে আদায় বাড়াতে পারছে না। ইতোমধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমেছে। এবারের এনবিআরের রাজস্ব আদায় অতীতের যেকোনো সময় থেকে বেশি। তাই অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে জোর বাড়াতে হবে। উৎসে কর আদায়ে গুরুত্ব বাড়াবে এনবিআর, এটাই স্বাভাবিক। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হয়।

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুব একটা ভালো পর্যায়ে নেই। অনেক ব্যবসায়ীর লোকসান বেড়ে এমন অবস্থায় আছেন যে তারা যেকোনো সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। আমদানি-রপ্তানিতেও ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে সময়মতো সঠিক হিসাবে উৎসে কর জমা দিতে পারছেন না বা কম দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে উৎসে কর আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে এনবিআর। এ অবস্থায় এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে অভিযানের ভয় দেখিয়ে উৎসে কর পরিশোধের চাপ যেন কারোর ওপর ভোগান্তি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। অভিযানের নামে অসাধু কর্মকর্তারা যাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বা অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারেন, সেদিকটাও নজরদারিতে রাখতে হবে। করদাতাদেরও এ ক্ষেত্রে কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা মেনে চলবেন, যাতে করে রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।
এনবিআরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর আদায় করা। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আশা করি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।

স্পেনের বিস্ময়কর জয় ফুটবল মহাযজ্ঞের জমকালো মুগ্ধতা দেখল বিশ্ব

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ফুটবল মহাযজ্ঞের জমকালো মুগ্ধতা দেখল বিশ্ব

ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মহাকাব্য লিখল স্পেন। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জমকালো আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে এক অবিস্মরণীয় রোমান্স। সমাপনী অনুষ্ঠান রূপ নিয়েছিল সংগীত, নৃত্য ও বিনোদনের এক মনোমুগ্ধকর উৎসবে। যেখানে বিশ্বের জনপ্রিয় শিল্পী ও তারকারা মুগ্ধ করলেন মাঠে উপস্থিত হাজারও দর্শককে। ৩৭ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা শেষ হলো সোনালি পরিণতিতে। নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলীয় সৌন্দর্য, কৌশল আর অবিশ্বাস্য ধৈর্যের এক অনন্য প্রদর্শনী শেষে বিশ্ব মুকুট উঠল লা রোজার মাথায়। স্পেনের এটি বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় শিরোপা জয়। আর এর মাধ্যমেই স্পেনের বিশ্বজয়ের রাতে সমাপ্তি ঘটল লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের মহাকাব্য।

প্রায় দেড় মাসের ফুটবল উৎসব শেষ হলো স্প্যানিশ সৌন্দর্যে। বলের কারুকাজ, অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক অনন্য প্রদর্শনীতে স্পেন প্রমাণ করল; এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে যোগ্য দল তারাই। মধ্যবিরতিতেও ছিল আকর্ষণীয় আয়োজন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপার বোলের আদলে হাফ টাইম শো দেখে বিশ্ব। যেখানে পারফর্ম করেন ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা ও কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। নাইজেরিয়ার সংগীতশিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে মিলে এবারের বিশ্বকাপের থিম সং ‘দাই দাই’ গেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন ভেন্যুতে টুর্নামেন্টজুড়ে স্টেডিয়ামগুলোতে নিয়মিত সেই থিম সং বেজেছে। এদিনও দলবল নিয়ে এই গান গেয়েছেন শাকিরা।

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। চার বছর পরপর এই আসরকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। ভাষা, ধর্ম, জাতীয়তা ও রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে কোটি কোটি মানুষ একই আবেগে শামিল হন। এ কারণেই ফিফা দীর্ঘদিন ধরে ‘ফুটবল বিশ্বকে একত্রিত করে’–এই বার্তাকে বিশ্ব ফুটবলের মূল দর্শন হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু এই ঐক্যের বার্তা তখনই অর্থবহ হয়, যখন প্রতিটি ম্যাচের ফল নিয়ে দর্শকদের আস্থা অটুট থাকে। বিশ্বসেরা হওয়ার চূড়ান্ত মঞ্চে মাঠের লড়াই যেমন ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা, তেমনি মাঠের বাইরেও তৈরি হয়েছে অসংখ্য আবেগের গল্প।

চলমান বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ কিছু ম্যাচ উপহার পেয়েছেন। ছোট দলের সাহসী লড়াই, বড় দলের অপ্রত্যাশিত বিদায়, অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা, টাইব্রেকারের উত্তেজনা এবং নতুন তারকাদের উত্থান–সব মিলিয়ে এবারের আসর নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মরক্কোর মতো দলের ধারাবাহিক সাফল্য, শক্তিশালী কয়েকটি দলের বিদায় এবং অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত দলগুলোর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলে ব্যবধান আগের চেয়ে অনেক কমেছে। মাঠের নান্দনিক ফুটবলের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সমানভাবে আলোচিত হয়েছে তা হলো–রেফারিংয়ের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ব্যবহার। প্রযুক্তি চালুর উদ্দেশ্য ছিল মানবিক ভুল কমিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু অনেক সময় দেখা গেছে, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে অফসাইড, হ্যান্ডবল, পেনাল্টি এবং ভিএআর হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সব বিতর্ক ছাপিয়ে নান্দনিক ফুটবল বিশ্ববাসীর মধ্যে মুগ্ধতা আর অপার আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে।

মাঠের সমসাময়িক হার-জিতের গণ্ডি পেরিয়ে ফুটবল সব সময়ই নতুন স্বপ্নের কথা বলে। দেশে দেশে সম্পর্কের সেতুবন্ধ তৈরি করে, সহযোগিতার, সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল খেলা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করতে হবে। যুদ্ধবিগ্রহ হানাহানির পথ পরিহার করতে হবে, এটাই প্রত্যাশা।

লেনদেনব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত বাংলা কিউআর ব্যবহারে অর্থনীতির সুশাসন ফিরুক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
বাংলা কিউআর ব্যবহারে অর্থনীতির সুশাসন ফিরুক

দেশের আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বাংলা কিউআর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’ব্যবস্থা। এতে পুরোনো সব কিউআর কোড সরিয়ে নতুন এই কিউআর প্রদর্শন করতে হবে। এটি একটি সর্বজনীন কিউআর কোডব্যবস্থা। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে সার্ভিস চার্জ ও প্রাথমিক কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করবে। এ খাতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে। ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি বা অপ্রদর্শিত আয় কমে যাবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। কর ফাঁকি রোধেও বাংলা কিউআর ভূমিকা রাখবে। এক কথায় এর মাধ্যমে  অর্থনীতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কিউআরভিত্তিক লেনদেন করা যায় কি না, তা নিয়েও কাজ চলছে। বাংলা কিউআর প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের আর্থিক লেনদেনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস, নিরাপদ এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার বড় একটি অংশ পূরণ হবে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে। এটি ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে বড় চেইন শপ বা করপোরেট হাউস সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। ফলে গ্রাহকরা এখন যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে সহজে পেমেন্ট করতে পারছেন। এখানে আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় দেশব্যাপী ‘বাংলা কিউআর’ পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হলে ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। সর্বজনীন বাংলা কিউআরব্যবস্থা প্রসারের ফলে এখন গ্রাহক, ব্যবসায়ী উভয় পক্ষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাশলেস লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন। এটি চালুর কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ও ধাপে ধাপে কমে আসবে। ফলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে গ্রাহকদের অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আরও উন্নত মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল চ্যানেলে লেনদেন বৃদ্ধির ফলে প্রথাগত ব্যাংকিংব্যবস্থার বাইরে থাকা অলস টাকার পরিমাণও কমে আসবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা বা ডিজিটাল জ্ঞানের অভাব এবং গ্রামাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের অভাব কিউআর কোড প্রসারের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চার্জ বসালে সেটা জনপ্রিয়তা পাবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে। এ ক্ষেত্রে এমডিআর ফির ওপর কিছু ছাড় বা কয়েকটি ধাপ নির্ধারণ করার বিষয়টিও ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া কোনো বিক্রেতা গ্রাহকের ওপর এই দায় চাপিয়ে দেন কি না, সেই বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ১ শতাংশ ফি ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার বিষয়। গ্রাহকের পকেট থেকে এটি নেওয়ার সুযোগ নেই। অনেকেই বলছেন, এমডিআর ১ শতাংশের জায়গায় দশমিক ৫ শতাংশ করা যেতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বাংলা কিউআর একটি নতুন মাইলফলক। এই কিউআর ব্যবহারে দুর্নীতি কমবে। সব লেনদেনের রেকর্ড থাকবে। তাই অসৎ ব্যক্তিরা এই মাধ্যম দিয়ে কালোটাকার ব্যবহার করলে সব প্রমাণ থাকবে। বাংলা কিউআরের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অসুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরাজমান সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। তা হলে এ উদ্যোগ সম্পূর্ণ ইতিবাচক হবে।

বাংলা কিউআর বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হওয়া একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধান। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ক্যাশলেস সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এটি অবশ্যই সরকারের একটি  ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এ ক্ষেত্রে খুচরা ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে ফির বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। তাদের সমস্যা নিরসনে প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় বিষয় হলো স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানো এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশে এ ধরনের স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা সব খুচরা ব্যবসায়ীর থাকে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব জায়গায় ইন্টারনেট এখনো সহজলভ্য নয়, সেই জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটালব্যবস্থার প্রচলিত ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আশা করছি, সরকার কিউআর পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

ইরান যুদ্ধে ভিন্ন মোড় কূটনৈতিকভাবে ঝুঁকি মোকাবিলা করুন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ এএম
কূটনৈতিকভাবে ঝুঁকি মোকাবিলা করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালির জলপথ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইরান। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি–বিশ্বের এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে তা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানিসংকট তৈরি করবে। এই ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে।

হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একযোগে বিঘ্নিত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না বাংলাদেশও।

দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বা জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। শুধু জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে তা-ই নয়, বাড়বে এর পরিবহন ব্যয়ও। এতে দেশে বৃদ্ধি পাবে তেলের দাম। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা পরিচালনা ও পরিবহন খাতে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকারও।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর আঘাত। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসই হলো এ খাত। পোশাক রপ্তানির বড় অংশই যায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে। সাধারণত এসব পণ্যবাহী জাহাজ বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। যদি এই নৌপথ অচল হয়ে পড়ে, তা হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে। এতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পণ্য পৌঁছাতে ১৫ থেকে ২০ দিন বেশি সময় লাগবে। ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে পশ্চিমা ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। পণ্য পরিবহনে এত দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। তারা সন্ধান করতে পারে বিকল্প উৎসের। দেশের পোশাকশিল্প হারাবে বাজার। ফলে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারও সম্ভাব্য জ্বালানির বাজারের অস্থিরতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিও জরুরি।

আমরা মনে করি, জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎসের সন্ধান, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি করা, পোশাক রপ্তানির বিকল্প পথ ও বাজার অনুসন্ধান এবং পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সরকারকে এখনই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি খাত–এই দুই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।