ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী ‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’ কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট? ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যে আমাদের দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ ছয় মাসে শেষ হবে: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান আমাকে কখনোই জোর করে এসব করতে বাধ্য করা হয়নি: তামান্না প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ গ্রামীণফোনের কাছেই সর্বোচ্চ বকেয়া, মোট পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শীঘ্রই সুখবর আসবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর-আগুন সরকারি বাসস্থান সংকটে ভোগান্তিতে খোকসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: একজন মননশীল লেখকের প্রতিভূ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বাজারে এলে কেজিতে ১০ টাকা ছাড় পতেঙ্গায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দুই পাচারকারী আটক কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

ঘরোয়া জীবনে শান্তির জাদুকরী সূত্র

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ঘরোয়া জীবনে শান্তির জাদুকরী সূত্র
চবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য জীবন একটি পবিত্র বন্ধন, যা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষের মিলন ঘটায়। চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা, রুচি-প্রবণতা, এমনকি সমাজ-সংস্কৃতিতেও থাকতে পারে বিস্তর ফারাক। এমন পরিবেশে প্রথম দেখাতেই গভীর ভালোবাসা ও বোঝাপড়া তৈরি হওয়া কঠিন। তাই এই সম্পর্ককে সুসংহত রাখতে ইসলাম কিছু সুনির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব ও বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছে, যা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একজন স্বামীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব, ধৈর্য ও সহিষ্ণু হওয়া ।


দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো জটিলতা বা মনোমালিন্য দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়, বরং খুবই স্বাভাবিক। অনেক সময় শয়তানও সুযোগ খুঁজে স্বামী-স্ত্রীকে উত্তেজিত করে তোলে, যার ফলে তাদের পবিত্র সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষত স্ত্রী যদি সংবেদনশীল হন, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। ইসলাম এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যায়নি। বরং মহিলাদের স্বভাবগত স্পর্শকাতরতা ও সংবেদনশীলতার প্রতি লক্ষ্য রেখে পুরুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে দাম্পত্য জীবন সুখের ও মধুর হয় এবং কোনো প্রকার বিরাগ বা তিক্ততার সৃষ্টি না হয়।
স্ত্রী যদি কথাবার্তা বা আচার-আচরণে স্বামীকে কষ্ট দেয়, তবে স্বামীর উচিত ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে তা সামাল দেওয়া। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচার করো। তাদের কোনো কিছু যদি অপছন্দ হয়, হতে পারে যা তোমরা অপছন্দ করছো তাতে মহান আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন। (সুরা নিসা, ১৯)


এই আয়াতে একটি গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মহান আল্লাহ বলছেন, স্ত্রী যদি তোমাদের অপছন্দনীয় হন বা সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের মনে হয়, এমন পরিস্থিতিতে আবেগের চেয়ে বিবেকের শরণাপন্ন হওয়া এবং বুদ্ধি-বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত। মনের বিরূপ ভাবটুকু ধৈর্যের সঙ্গে সামলে নেওয়া প্রয়োজন। এটি অস্বাভাবিক নয় যে, মানুষ তার অদূরদর্শিতার কারণে কোনো কিছু অপছন্দ করে, অথচ মহান আল্লাহ তাতে অশেষ বরকত রেখেছেন, যা দুনিয়া ও আখিরাতে তার অসীম কল্যাণের কারণ হতে পারে।


সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুমিন পুরুষ, মুমিন মহিলার সঙ্গে বিদ্বেষ রাখবে না। কারণ তার একটি স্বভাব যদি খারাপ লাগে অন্যটা ভালো লাগতে পারে। (মুসলিম)। এটিই বাস্তবতা। ভালো-মন্দ মিলেই মানুষ, কোনো মানুষই নিখুঁত নয়। তাই শুধু খারাপ দিকটি না দেখে ভালো দিকটিও দেখা উচিত। তা হলেই কারও প্রতি ভালোবাসা অটুট রাখা সম্ভব। ভালোবাসার এই নিগূঢ় রহস্যটুকু উপলব্ধি না করেই মানুষ একে অপরের কাছে আসে এবং আবার একে অপরকে ছেড়ে চলে যায়। দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে এই পরম সত্যটি উপলব্ধি করা এবং ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার গুণে নিজেদের সজ্জিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের মাদরাসাগুলো পরিদর্শনে আসছেন নকশবন্দী তরিকার দুই শীর্ষ পীর

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
বাংলাদেশের মাদরাসাগুলো পরিদর্শনে আসছেন নকশবন্দী তরিকার দুই শীর্ষ পীর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদরাসাগুলো শিক্ষাকার্যক্রম পরিদর্শন, আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে ১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট দুই ইসলামি স্কলার। 'মারকাযুল ফুরকান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ'-এর আমন্ত্রণে তারা এই সফরে আসছেন।

সফরকারী দুই বিশিষ্ট মেহমান হলেন, মাওলানা মাসুম উল হক নকশবন্দী মোজাদ্দেদী ও শাইখুল হাদিস আল্লামা হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ।

মারকাযুল ফুরকান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মাহমুদ জানান, মাওলানা মাসুম উল হক এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র 'দারুল উলুম হাক্কানিয়া আকোড়া খটক'-এর একজন ফারেগ বা গ্র্যাজুয়েট। তিনি পীর জুলফিকার নকশাবন্দী রহ. এর কাছ থেকে খেলাফত ও ইজাযত প্রাপ্ত। তার চার তরিকাতেই ইজাযত রয়েছে। এছাড়াও তিনি একজন প্রখ্যাত হাকিম (চিকিৎসক) এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপিকে) প্রদেশে তাসাওউফের খেদমতে নিয়োজিত আছেন।

অপরদিকে, হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশাবন্দী রহ-এর প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত উচ্চতর ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাহাদুল ফকীর আল-ইসলামীর শায়খুল হাদিস হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ অত্যন্ত উঁচু মাপের একজন আলেম ও সুবক্তা। সাধারণ জনগণ এবং আলেম সমাজ উভয় শ্রেণির শ্রোতাদের উপযোগী করে অত্যন্ত সাবলীল, মিষ্ট ভাষায় ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করায় তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

বাংলাদেশে সফরকালে তারা দেশের আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক মজলিস ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া-এর বর্তমান প্রধান মুফতি এবং শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি শামসুদ্দিন জিয়ার আমন্ত্রণে মেহনরা চট্টগ্রামের মাদ্রাসাগুলোও ঘুরে দেখবেন।

এই সফরকে সামনে রেখে আগামী ১ জুলাই ১০ পর্যন্ত এক মাসের ভিজিট বা কালচারাল ভিসার জন্য ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন করা হয়েছে।

কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট?

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট?
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত জড়িয়ে থাকে নানা ভুল আর অনুশোচনা। আমরা অনেকেই না বুঝে কসম বা আল্লাহর নামে শপথ করে বসি, আবার তা ভেঙেও ফেলি। কিন্তু আপনি কি জানেন, কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা ইসলামে যথেষ্ট নয়। এর জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট আইনি ও আর্থিক জরিমানা বা কাফফারা।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আপনি যদি আসলেই কসম করে তা ভঙ্গ করে থাকেন, তবে তার কাফফারা হিসেবে ১০ জন গরিব-মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়াতে হবে অথবা তাদেরকে একজোড়া করে পরিধেয় বস্ত্র দান করতে হবে। মনে রাখবেন, এক বেলা খাওয়ালে এই কাফফারা আদায় হবে না। আর যতবার কসম ভাঙবেন, ততবারই আলাদাভাবে এই কাফফারা দিতে হবে। তবে কসম না করে শুধু সাধারণ কোনো প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করলে এই আর্থিক কাফফারা লাগে না, যদিও ওয়াদা রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম গুণ।

যারা জীবনে অন্যায় থেকে দূরে থেকে একটি সুন্দর ও নেক আমলময় জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য পবিত্র কোরআনে একটি চমৎকার ‘থ্রি-স্টেপ ফর্মুলা’ দেওয়া হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো। অতঃপর তুমি যখন (কোন বিষয়ে) মনস্থির করবে, তখন আল্লাহর ওপর নির্ভর করো...’

১. যেকোনো সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য যোগ্য বা হক্কানী আলেমদের পরামর্শ নেওয়া।

২. নিজের দায়িত্ববোধ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া।

৩. শতভাগ আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু সেই ভুলের চোরাবালিতে আটকে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ, হতাশা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। সুরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ এক পরম আশার বাণী শুনিয়েছেন ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন।’ এমনকি সুরা ফুরকানের ৭০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, খাঁটি তওবাকারীদের পূর্বের পাপগুলোকে আল্লাহ পুণ্য দ্বারা বদলে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি যেন নিষ্পাপ মানুষের মতোই।’(সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২২৫)।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে শুধু তওবা করলেই হবে না, বরং সেই ব্যক্তির পাওনা ফিরিয়ে দিতে হবে বা তার থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস
সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর সাহায্যের পথ কখনো বন্ধ হয় না। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সামনে যদি বিশাল এক সমুদ্র গর্জে ওঠে, আর পেছনে তাড়া করে আসে এক জাহাবাজ রাজার সশস্ত্র বিশাল সেনাবাহিনী—কেমন হবে সেই মুহূর্তটি? নিশ্চিত মৃত্যু যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখন যদি সমুদ্রের পানি মাঝখান থেকে ফেটে গিয়ে ১২টি বিশাল পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে যায় আর তৈরি হয় শুকনো রাস্তা! রূপকথা নয়, আজ থেকে হাজার বছর আগে পবিত্র আশুরার দিনে পৃথিবীর বুকে এমনই এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। মহাবিশ্বের পরম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে সেই রোমাঞ্চকর ও হৃদয়স্পর্শী মুক্তির গল্পটি যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তা প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ে আশার আলো জাগায়।

এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—বনি ইসরাঈল বংশে জন্ম নেওয়া এক শিশু ধ্বংস করবে প্রতাপশালী ফেরাউনের রাজত্ব। এই ভয়ে ফেরাউন বনি ইসরাঈলের সব নবজাতক পুত্রসন্তানকে নির্মমভাবে জবাই করা শুরু করে। পবিত্র কোরআনের সরা বাকারার ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আর (স্মরণ করো) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদেরকে মুক্তি দান করেছি ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে, যারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদের জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদের অব্যাহতি দিত।

আল্লাহর নির্দেশে এক রাতে হযরত মুসা (আ.) তার অনুসারীদের নিয়ে মকসুদের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। কিন্তু ভোরেই ফেরাউন তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের প্রায় ধরে ফেলল। সামনে উত্তাল সমুদ্র, পেছনে ঘাতক বাহিনী। বনি ইসরাঈল যখন ভয়ে কাঁপছিল, ঠিক তখনই আল্লাহর নির্দেশ এলো: আপনার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করুন। (সুরা আশ-শোয়ারা, ৬৩)। লাঠির আঘাতে সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। মাঝখানের পানি বিশাল পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে গেল আর তৈরি হলো শুকনো পথ।

হযরত মুসা (আ.) তার দলবল নিয়ে নিরাপদে পার হয়ে গেলেন। কিন্তু অহংকারী ফেরাউন যখন তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে সেই পথে পা রাখল, অমনি আল্লাহর হুকুমে সমুদ্রের পানি চারপাশ থেকে ভেঙে পড়ল। চোখের পলকে তলিয়ে গেল ফেরাউন ও তার অহংকারী সাম্রাজ্য। আল্লাহ বলেন, আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখণ্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরাউনের লোকদেরকে, অথচ তোমরা দেখছিলে। (সুরা বাকারা, ৫০)।

আশুরার এই চিরন্তন ইতিহাস আমাদের কেবল একটি গল্প শোনায় না, এটি আমাদের জীবনের এক পরম সত্যকে মনে করিয়ে দেয়। সত্য ও ন্যায়ের পথ যতই কঠিন হোক, তার জয় নিশ্চিত। আর অন্যায়-অত্যাচারের রাজত্ব যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আল্লাহর একটি মাত্র ইশারায় তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য।

আজকের পৃথিবীতে যারা হতাশা আর অন্যায়ের অন্ধকারে ডুবে আছেন, আশুরার এই দিনটি তাদের শেখায়—সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর সাহায্যের পথ কখনো বন্ধ হয় না। আসুন, কান্নাকাটি আর শোকের সাগরে না ভেসে, আমরা মুসা (আ.)-এর মতো আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখি এবং সত্যের পথে নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কালেমায়ে ‘শাহাদাত’ পাঠ করে মুসলিম হন।

সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (GEA) চেয়ারম্যান তুর্কি আলে শায়খ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুর্কি আলে-শায়খ জানান, সৌদি আরবে সিনেমাটির শুটিংয়ের মাঝেই জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন এবং একটি স্থানীয় মসজিদে প্রযোজনা দলের অন্য মুসলিম সদস্যদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেন। তুর্কি আলে-শায়খ তাঁর পোস্টে এই মুহূর্তের একটি ভিডিও চিত্রও শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।

৬৮ বছর বয়সী এই হলিউড তারকা বর্তমানে সৌদি আরবে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘৭ ডগজ’ (7 Dogz)-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে অবস্থানকালে সেখানকার মানুষের আতিথেয়তা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা এসপোসিতোর মনে গভীর রেখাপাত করে। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন ও মুসলিমদের জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। জিয়ানকার্লো সৌদির জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং শুটিংয়ের এই অভিজ্ঞতাকে তার জীবনের অন্যতম ইতিবাচক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।

ইতালীয় ও আফ্রো-আমেরিকান বংশোদ্ভূত জিয়ানকার্লো এসপোসিতোর অভিনয় জীবন দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। মাত্র আট বছর বয়সে ব্রডওয়ে থিয়েটারের ‘ম্যাগি ফ্লিন’ মিউজিক্যালে অভিনয়ের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হলিউডের অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে (যেমন: ব্রেকিং ব্যাড, দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান) অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, জিয়ানকার্লো এসপোসিতো যে ‘৭ ডগজ’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, তাতে মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ ইজ ও করিম আবদেল আজিজসহ আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা যুক্ত রয়েছেন।

এর আগেও বিশ্বের বহু নামি-দামি লেখক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ ও অভিনয়শিল্পী ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই ধর্ম গ্রহণ করেছেন। হলিউডের এই শক্তিমান অভিনেতার ইসলাম গ্রহণের খবরটি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

 

২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৫ জুন)

.৪৫মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন