ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
Nagad desktop

মহিমান্বিত রমজান রোজা অনলাইনে আসক্তি কমায়

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
রোজা অনলাইনে আসক্তি কমায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান যুগ হলো তথ্য-প্রযুক্তির যুগ বা ডিজিটাল যুগ। স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি যেমন উপকার বয়ে এনেছে, তেমনি এর অপব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও জাতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অনলাইন আসক্তি, ভুয়া তথ্যে প্রচার-প্রসার, সাইবার বুলিংসহ নৈতিক অবক্ষয় ও সময় অপচয়ের শিকার হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা Gaming Disorder-কে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালে Journal of Social and Clinical Psychology-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করলে বিষণ্নতা ও একাকিত্ব কমে।

Stanford University-এর একজন গবেষক দেখিয়েছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মস্তিষ্কের মনোযোগ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। MIT-এর গবেষণা প্রমাণ করে— অনলাইনে ভুয়া খবর সত্য খবরের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সামাজিক বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও সহিংসতা পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে।

অনলাইনে অশালীন কনটেন্ট সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-কিশোরীদের চরিত্র ও নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে গড়ে একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করে। এই সময়ের বড় অংশ অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ে চলে যায়, যা ব্যক্তি ও জাতির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।

রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মসংযম, নৈতিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ মাস। রোজার আত্মসংযম ও আল্লাহভীতির এই শিক্ষা অনলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রযোজ্য। রোজায় মানুষ হালাল খাবার থেকেও বিরত থাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এতে ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি পায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, সংযমের অনুশীলন মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ায়। রমজানের এই সংযমের শক্তি অনলাইন ব্যবহারে প্রয়োগ করলে আসক্তি কমানো সম্ভব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করার আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারি, ১৯০৩) এ হাদিস স্পষ্ট করে—রোজা শুধু ক্ষুধা সহ্য করা নয়; মিথ্যা, গিবত, অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা। অনলাইনে ভুয়া খবর শেয়ার করা, কটূক্তি করা বা অশ্লীল কনটেন্ট দেখা—এসব রোজার চেতনার পরিপন্থি।

রমজানে সাহরি, ইফতার, তারাবি—সবকিছু নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী হয়। এতে সময়ের মূল্য শেখা যায়। এই অভ্যাস অনলাইন সময় ব্যবহারে প্রয়োগ করলে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমে এবং ফলপ্রসূ কাজে সময় বাড়ে। রমজানে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কমে। আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত—সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার করলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।

রমজানে মানুষ দান-সদকা ও কল্যাণমূলক কাজে আগ্রহী হয়। অনলাইনে ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও সত্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া একটি সওয়াবের কাজ হতে পারে। এতে ডিজিটাল পরিবেশও সুস্থ হয়।

অনলাইনের নানামুখি আসক্তি কমাতে পাশে দাঁড়িয়েছে কাহাফ পরিবার। মুসিলম পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল সুরক্ষা দিতে তারা তৈরি করেছে একটি ইকোসিস্টেম। ডিভাইসে Safe Internet, Focus Mode, Parental Control, Habit Tracker-এর কাজ করবে Kahf Guard। নিরাপদ ব্রাউজারের (ছবি/ভিডিও blur, DNS সুরক্ষা) নতুন অভিজ্ঞতা দিবে Kahf Browser। শিশুদের জন্য নিরাপদ কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম Kahf Kids। পরিবারের নেটওয়ার্কে Safe Internet সংযোগ রাখতে তৈরি করেছে Kahf Internet। অশ্লীলতায় পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়ার বিকল্প হিসেবে তারা এনেছ নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া Hikmah। এছাড়া রয়েছে ইউটিউবের বিকল্প নিরাপদ ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাপফর্ম Mahfil। ডিজিটাল দুনিয়ায় মুসলিম পরিবারের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ দুনিয়ার স্বপ্ন দেখে Kahf। কাহাফের প্রতিটি সেবা—একটি অপরটির পরিপূরক।

অনলাইন প্রযুক্তি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি দিয়ে যেমন জাতি গড়া যায়, তেমনি ধ্বংসও ডেকে আনা যায়। গবেষণা বলছে—অসংযত ব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজের ক্ষতি করছে। আর রমজান আমাদের শেখায় সংযম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ। যদি আমরা রোজার আত্মসংযম, সময়শৃঙ্খলা ও তাকওয়ার শিক্ষা অনলাইন জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে ডিজিটাল জগৎ হবে নিরাপদ ও কল্যাণকর। সচেতন অনলাইন ব্যবহারই পারে একটি সুস্থ, নৈতিক ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে।

 

লেখকআলেমগবেষক ও সাংবাদিক

কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন
ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, বরং এটি একজন মানুষের আত্মিক পুনর্জন্মের মুহূর্ত। মিনার ময়দানে যে গুনাহ মাফ হয়েছে, আরাফার মাঠে যে কান্না ঝরেছে, কাবার সামনে যে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে–সেই পবিত্র অনুভূতি বুকে নিয়ে যখন একজন হাজি তার দেশে ফিরে আসেন, তখন তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়–এবার কেমন হবে আমার জীবন?

হজের মূল উদ্দেশ্য–রূপান্তর বা পরিবর্তন
আল্লাহতায়ালা কোরআনে এরশাদ করেছেন, হজ সম্পন্ন করো আল্লাহর জন্য এবং উমরাহও। (সুরা বাকারা: ১৯৬)। কিন্তু হজের শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা পালনই উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ অন্যত্র এরশাদ করেছেন, আর তোমরা হজ ও উমরাহ আল্লাহর জন্যই পূর্ণ করো। এই পূর্ণ করা মানে কেবল তাওয়াফ-সাঈ শেষ করা নয়, বরং হজের শিক্ষাকে জীবনে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ করল এবং এতে কোনো অশ্লীল কথা বলল না ও কোনো পাপ কাজ করল না, সে ওইদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। (বুখারি ও মুসলিম)। এ হাদিসটি কেবল হজের পুরস্কারের কথা বলছে না, বরং একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেন জীবনের একটি সাদা পাতা খুলে গেছে। প্রশ্ন হলো, সেই পাতায় এখন কী লেখা হবে?

তওবার স্থায়িত্ব–ফেরার পর প্রথম কাজ
আকাবিরে উম্মত, অর্থাৎ পূর্ববর্তী মনীষীরা বলতেন, হজ থেকে ফেরার পর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো–পুরোনো গুনাহে ফিরে না যাওয়া। হজরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলতেন, হজের কবুলিয়াতের আলামত হলো, ফেরার পর মানুষটির স্বভাব-চরিত্র ও কাজকর্মে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। অর্থাৎ হজ কবুল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে আচরণে, কথায়, লেনদেনে।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে লিখেছেন, হজ থেকে ফেরা ব্যক্তির উচিত পাপের সঙ্গী ও পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া। কারণ, নতুন পোশাক পরিষ্কার রাখতে হলে কাদার কাছে যাওয়া যাবে না।

নামাজ ও জিকির–নতুন জীবনের ভিত্তি
হজ থেকে ফেরার পর প্রথম যে আমলটি একজন মানুষের জীবনে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত, তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। আল্লাহ এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। (সুরা আনকাবুত: ৪৫)।

হজের ময়দানে যে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, নামাজ হলো সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রতিদিনের মাধ্যম।এর পাশাপাশি, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও জিকিরকে অভ্যাসে পরিণত করা চাই। সাহাবায়ে কেরাম হজ থেকে ফেরার পর বরং ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হতেন–কারণ তারা জানতেন, নেক আমলের ধারাবাহিকতাই প্রকৃত সফলতা।

হালাল উপার্জন ও সততার জীবন
হজ পালনের পর একজন মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও লেনদেনে সততা আসা অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিজি)। যে ব্যক্তি কাবার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদেছেন, তিনি ফিরে এসে মিথ্যা বলবেন, ঘুষ খাবেন বা প্রতারণা করবেন–এটি হজের শিক্ষার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলতেন, হাজি সাহেবের আসল পরিচয় মিলবে তার ব্যবহারে, তার দোকানে, তার পরিবারের সঙ্গে আচরণে।

পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব
হজ একটি ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও এর প্রভাব হওয়া উচিত সামাজিক। হাজি সাহেব পরিবারে ফিরে এসে ধৈর্য, ক্ষমা ও মহানুভবতার আদর্শ স্থাপন করবেন। স্ত্রী-সন্তানের হক আদায় করবেন, প্রতিবেশীর খোঁজ নেবেন, গরিবদের সাহায্য করবেন। আকাবিরদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা হজ থেকে ফেরার পর আরও বেশি দানশীল হতেন। কারণ, আরাফার ময়দানে তারা উপলব্ধি করেছিলেন–দুনিয়ার সম্পদ আসলে সাময়িক; আসল সম্পদ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি।

অহংকার নয়, বিনয়ই হজের ফসল
দুর্ভাগ্যবশত অনেকেই হজ থেকে ফিরে সমাজে হাজি পরিচয়ের গর্ব বহন করেন। অথচ হজের মূল শিক্ষাই হলো বিনয়। আরাফায় কোটি মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দেয়–আমির-ফকির, রাজা-প্রজা সবাই আল্লাহর সামনে সমান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করেন। (মুসলিম)। তাই হজ-পরবর্তী জীবনে অহংকারের কোনো স্থান নেই, আছে কেবল আল্লাহর সামনে আরও বেশি নত হওয়ার সাধনা।

সুতরাং হজ হলো একটি জীবন-বদলের সুযোগ। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে প্রতিদিনের জীবনে। কোরআনের নির্দেশনা, নবিজির সুন্নাহ এবং আকাবিরদের জীবনাদর্শ থেকে একটাই শিক্ষা মেলে–হজ শেষ হলেও হাজির সাধনা শেষ হয় না, বরং শুরু হয় এক নতুন ও আরও দায়িত্বশীল জীবনের পথচলা। যে ব্যক্তি হজের পর নিজেকে বদলে নিতে পারেন, তিনিই প্রকৃত হাজি আর তার সেই পরিবর্তিত জীবনই হলো আল্লাহর কাছে হজ কবুলের সবচেয়ে বড় নিশানা।

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ জুন ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর ১২.০০ মিনিট
আসর .৩৫ মিনিট
মাগরিব .৪৬ মিনিট
এশা .১১ মিনিট
ফজর ( জুন) .৪৫ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন?

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন?
আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। ছবি: সংগৃহীত

যান্ত্রিক এই জীবনে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ক্যারিয়ার, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ, সবকিছু নিয়ে এক অদৃশ্য অস্থিরতা আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, ইসলামে এমন এক জাদুকরি দাওয়াই রয়েছে, যা নিমেষেই সব মানসিক চাপ দূর করে দিতে পারে? সেটি হলোতাওয়াক্কুলবা আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখা। এটি কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং মানসিক শান্তি সফলতার চাবিকাঠি। আল্লাহর ওপর খাঁটি মনে ভরসা রাখলে জীবনে যে ৬টি অভাবনীয় পরিবর্তন আসে, চলুন জেনে নেওয়া যাক:

যখন আপনি কোনো কাজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেবেন, তখন স্বয়ং আল্লাহ আপনার অভিভাবক হয়ে যান। পবিত্র কোরআনের সুরা তালাকের ঘোষণাই এটি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার সব সমস্যার সমাধানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তাওয়াক্কুল মানুষের মন থেকে সব ভয় দূর করে দেয়। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, শত্রুর বিশাল বাহিনীর সামনেও মুমিনরা বুক টান করে দাঁড়িয়েছেন কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে। বিপদের মুখে যারা বলে ওঠেনহাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট), আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।

পরকালের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো বিনা হিসেবে জান্নাত লাভ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, উম্মতের মধ্যে এমন ৭০ হাজার সৌভাগ্যবান মানুষ থাকবেন, যারা কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে যাবেন। এই দলটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে, তারা জীবনের প্রতিটি মোড়ে কেবল তাদের রবের ওপরই ভরসা রাখতেন।

আমরা অনেকেই জীবিকা নিয়ে সারাক্ষণ উদ্বেগে থাকি। অথচ আল্লাহর ওপর সঠিক উপায়ে ভরসা করলে রিজিকের অভাব দূর হয় চমৎকারভাবে। প্রিয় রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা যদি পাখির মতো আল্লাহর ওপর ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরও ক্ষুধার্ত অবস্থায় সকালে বের করে ভরপেটে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরাতেন।

নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাওয়াক্কুল। যেমনটি হযরত ইয়াকুব (.) তাঁর সন্তানদের বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে সফরে পাঠিয়েছিলেন এবং তারা নিরাপদে ফিরে এসেছিল। মহান আল্লাহর জিম্মায় কোনো কিছু সঁপে দিলে তার চেয়ে নিরাপদ আর কিছু হতে পারে না।

শয়তান সবসময় মানুষকে হতাশ পথভ্রষ্ট করার ফন্দি আঁটে। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এমনকি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর নাম ভরসার দোয়া পড়লে শয়তান সেই মানুষটি থেকে দূরে সরে যায়।

তাওয়াক্কুল মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং নিজের সেরা চেষ্টাটুকু করার পর ফলাফলের জন্য আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। আজ থেকেই আমাদের চিন্তাভাবনা কর্মে এই মহৎ গুণটি নিয়ে আসি, দেখবেন জীবন কতটা সহজ আর শান্তিময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে ছায়াতেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল তৃপ্তি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
যে ছায়াতেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল তৃপ্তি
মায়ের দোয়াই হোক দুনিয়া ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সম্বল।ছবি: সংগৃহীত

বৃদ্ধা মায়ের লাশ ঘরে পড়ে আছে, পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অথচ বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকা সন্তানের কোনো খবর নেই—সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বুকে ঘটে যাওয়া এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। যে মা নিজের রক্ত পানি করে সন্তানকে মানুষ করলেন, ক্যারিয়ার আর আধুনিকতার অন্ধ মোহে আজ সেই মা-ই অবহেলিত। অথচ ইসলাম বলে, মায়ের সেবার মধ্যেই লুকিয়ে আছে দুনিয়ার সম্মান ও আখেরাতের মুক্তি।

মা মহান আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত। ইসলামে মায়ের মর্যাদা এতটাই ঊর্ধ্বে যে, পবিত্র কুরআনে আল্লাহর ইবাদতের পরেই মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, বার্ধক্যে তারা যখন দুর্বল হয়ে পড়েন, তখন তাদের 'উফ' শব্দটুকুও বলা যাবে না, বরং তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক কথা বলতে হবে।

মায়ের কষ্টের গভীরতা বোঝাতে সূরা লুকমানে বলা হয়েছে, মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। এই ত্যাগের কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবির প্রশ্নের জবাবে পর পর তিনবার মায়ের প্রতি উত্তম আচরণের তাগিদ দিয়েছেন, আর চতুর্থবারে বাবার কথা বলেছেন (সহিহ বুখারি)।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাতৃসেবা মানুষকে কতটা সম্মানিত করতে পারে। আল্লাহর রাসুলের যুগে থেকেও শুধু পঙ্গু মায়ের সেবার কারণে মদিনায় আসতে পারেননি উওয়াইস আল-কারনি (রহ.)। কিন্তু এই একটি গুণের কারণে রাসুল (সা.) স্বয়ং ওমর (রা.)-এর মতো মহান সাহাবিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উওয়াইসের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিতে।

আরো পড়ুন: বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১০৪ বছর বয়সের যে নারী?

আজকের ব্যস্ত ও স্বার্থপর সমাজে আমরা সাফল্যের পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভুলে যাচ্ছি আসল সাফল্যের চাবিকাঠি, যা হলো মায়ের পদতলে জান্নাত। মাকে কষ্ট দেওয়া বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়, ইসলামে এটি কবিরা গুনাহ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বৃদ্ধ মা-বাবার একাকীত্ব ও অবহেলার যে চিত্র গণমাধ্যমে ভেসে আসছে, তা এক গভীর সামাজিক ব্যাধি।

মায়ের মুখে একটু হাসি ফোটানো, তার পাশে বসে দুটো সুখ-দুঃখের কথা বলা, অসুস্থতায় সেবা করা—এগুলো কোনো দয়া নয়, বরং সন্তানের ওপর ফরজ ইবাদত। যে সন্তান মায়ের মন জয় করতে পারে, আল্লাহ সমাজেও তার সম্মান বাড়িয়ে দেন এবং তার উপার্জনে বরকত দেন। আসুন, ব্যস্ততার অজুহাত দূরে ঠেলে জীবিত থাকতেই মায়ের সর্বোচ্চ খেদমত করি। মায়ের দোয়াই হোক আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সম্বল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

গোটা পৃথিবীই নামাজের জায়গা,তবে মসজিদ কেন প্রয়োজন?

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
গোটা পৃথিবীই নামাজের জায়গা,তবে মসজিদ কেন প্রয়োজন?
‘নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য।’ ছবি: সংগৃহীত

পুরো জমিনই তো উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নামাজের স্থানতাহলে এই আধুনিক যুগে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল অবকাঠামো বা মসজিদ নির্মাণের বাধ্যবাধকতা কতটুকু? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা কিংবা বিভিন্ন আইনি রাজনৈতিক বিতর্কে এই প্রশ্নটি বেশ জোরেসোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকের মনেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের জিজ্ঞাসা। কিন্তু আসলেই কি ইসলামে মসজিদের ভূমিকা শুধু নামাজ পড়ার একটি চার দেয়ালের মাঝেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো সামাজিক সভ্যতার দর্শন?

আসুন আবেগ বাদ দিয়ে পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ এবং ইতিহাসের আয়নায় বিষয়টি সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি। সহিহ বুখারি শরিয়ের একটি বিখ্যাত হাদিস আছে, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন আমার জন্য পুরো জমিনকে সেজদার জায়গা পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।।

অনেকেই এই হাদিসের খণ্ডিত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ভাবেন, যেহেতু যেকোনো পবিত্র জায়গায় নামাজ পড়া যায়, তাই প্রাতিষ্ঠানিক মসজিদের কোনো দরকার নেই। কিন্তু ইসলামের ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্য নির্দিষ্ট উপাসনালয় ছাড়া ইবাদত করার অনুমতি ছিল না। প্রিয় রাসুল (সা.) এই হাদিস দিয়ে উম্মতের জন্য সেই জটিলতা সহজ করে দিয়েছেন, যার অর্থপথচলতি অবস্থায় নামাজের সময় হলে আপনি মাঠ বা ঘাটে নামাজ পড়ে নিতে পারবেন। এর মানে এই নয় যে, স্থায়ী সমাজের জন্য মসজিদের গুরুত্ব ফুরিয়ে গেছে।

আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তাঁর প্রথম কাজটি কিন্তু কোনো রাজপ্রাসাদ বানানো ছিল না; তিনি তৈরি করেছিলেনমসজিদে নববি

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

ইসলামী সমাজ কাঠামোতে মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়। মদিনার সেই মসজিদটি একাধারে ছিল: রাষ্ট্রের সংসদ ভবন প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রধান আদালত, যেখানে বসে বিচারকার্য বিবাদ মীমাংসা করা হতো। জ্ঞানচর্চার প্রধান বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদি রূপ। আর সামাজিক ঐক্য বর্তমান সময়ের অপরিহার্যতা

আজকের যান্ত্রিক আত্মকেন্দ্রিক সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ছে। এই বাস্তবতায় মসজিদ হলো এক অনন্য মিলনমেলা। দৈনিক পাঁচবার ধনী-দরিদ্র, শাসক-শোষিত সব ভেদাভেদ ভুলে যখন মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন যে সামাজিক সংহতি তৈরি হয়, তা অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা জিনের ১৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য।তাই যেখানেই মুসলিম জনবসতি থাকবে, সেখানে সম্মিলিত শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিক প্রশান্তি পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে মসজিদের কোনো বিকল্প নেই।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, মসজিদ কোনো ঐচ্ছিক বা বিলাসী স্থাপনা নয়, এটি ইসলামের রূহ বা প্রাণ। যারা ভাবছেন পুরো পৃথিবী নামাজের জায়গা বলে মসজিদের প্রয়োজন নেই, তারা আসলে ইসলামের সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমাজ কাঠামোতে মসজিদগুলো প্রাণবন্ত সক্রিয় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নৈতিকতা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি টিকে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক