প্রশ্ন: বর্তমানে বক্ষব্যাধি, হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় অ্যারোসল বা গ্যাসজাতীয় স্প্রে (যেমন- ইনহেলার) ব্যবহার করা হয়। রোজা অবস্থায় মুখের ভেতর দিয়ে এসব ওষুধ গ্রহণ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে গ্যাসীয় বা স্প্রে-জাতীয় ওষুধের ব্যবহার একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রোজা অবস্থায় এর ব্যবহার নিয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে:
১. ইনহেলার বা গ্যাসীয় স্প্রে ব্যবহারের বিধান
ইনহেলার বা এ জাতীয় স্প্রে যখন মুখের ভেতর দিয়ে স্প্রে করা হয়, তখন ওষুধের সূক্ষ্ম কণাগুলো শ্বাসনালির পাশাপাশি সরাসরি পাকস্থলীতেও প্রবেশ করে। শরিয়তের মাসআলা অনুযায়ী, যদি কোনো খাদ্য, পানীয় বা ওষুধের অংশবিশেষ পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়, তবে রোজা ভেঙে যায়।
সুতরাং, রোজা অবস্থায় দিনের বেলা ইনহেলার বা স্প্রে-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে সেই রোজাটি ভেঙে যাবে এবং পরে তার কাজা আদায় করতে হবে।
২. হৃদরোগে ব্যবহৃত স্প্রে (যেমন- নাইট্রোগ্লিসারিন)
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের তীব্র ব্যথায় অনেক সময় জিহ্বার নিচে স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এই স্প্রের অংশবিশেষও লালার সঙ্গে মিশে পেটে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই এই স্প্রে ব্যবহারের ফলেও রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।
ইসলাম অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত দয়ালু। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো: যাদের রোগ নিয়ন্ত্রণে আছে, তারা সেহরির শেষ সময়ে এবং ইফতারের পর ইনহেলার বা স্প্রে ব্যবহার করে পুরো দিন রোজা পূর্ণ করার চেষ্টা করবেন। আর যদি দিনের বেলা শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগের ব্যথা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্প্রে ব্যবহার না করলে জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে অবশ্যই ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে রোজা ভেঙে গেলেও কোনো গুনাহ হবে না, বরং অসুস্থতার কারণে পরে ওই রোজাটি কাজা করে নিতে হবে।
তবে কেউ যদি এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন যে তিনি কখনোই রোজা রাখতে সক্ষম নন এবং ইনহেলার ছাড়া তার চলা অসম্ভব, তবে তিনি প্রতিটি রোজার পরিবর্তে শরিয়ত নির্ধারিত ‘ফিদিয়া’ (দরিদ্রকে খাদ্যদান) আদায় করবেন।
শরীরের ভেতরে (পাকস্থলীতে) ওষুধের প্রবেশ ঘটলে রোজা থাকে না। তাই সুস্থ অবস্থায় দিনের বেলা স্প্রে বা ইনহেলার এড়িয়ে চলাই ইসলামের বিধান।
আপনার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং মাসআলার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য স্থানীয় নির্ভরযোগ্য কোনো ‘দারুল ইফতা’ বা মুফতি সাহেবের শরণাপন্ন হোন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক