পবিত্র হজের সফরে হারাম শরিফে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। এক রাকাতে এক লাখ রাকাতের সওয়াব পাওয়ার আশায় আমরা সবাই মুখিয়ে থাকি। কিন্তু এই সওয়াব হাসিলের তাড়নায় অনেক সময় আমরা এমন কিছু ভুল করে বসি, যার ফলে সওয়াব তো দূরের কথা, মূল নামাজই সহিহ হয় না।
দেখা যায়, অনেক হাজি সাহেব হারাম শরিফ থেকে অনেক দূরে, এমনকি কয়েক কিলোমিটার দূরে নিজেদের হোটেল বা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে হারাম শরিফের জামাতের সঙ্গে ইকতিদা (অনুসরণ) করেন। মাঝখানে বড় রাস্তা, জনশূন্য চত্বর বা বিশাল ফাঁকা জায়গা থাকে। অনেকে আবার মাইকের আওয়াজ শুনেই নামাজে দাঁড়িয়ে যান, অথচ তাদের সামনে কোনো কাতার বা মুসল্লি থাকে না।
আরো পড়ুন: আরাফায় অবস্থান নিয়ে যে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
মসজিদুল হারামের সীমানার বাইরে থেকে ইমামের অনুসরণ করার জন্য প্রধান শর্ত হলো–কাতার বা সারির ধারাবাহিকতা বজায় থাকা। অর্থাৎ, আপনার সামনের কাতারগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। যদি মাঝখানে কোনো সচল রাস্তা, নদী বা বিশাল খালি ময়দান থাকে যেখানে কাতার নেই, তবে সেই দূরত্ব বজায় রেখে ইকতিদা করা শরিয়ত অনুযায়ী সহিহ হয় না।
আরো পড়ুন: জুমাবারে হজ হলে কি সত্তর হজের সওয়াব?
অনেকে মনে করেন, মাইকের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি বা টেলিভিশন পর্দায় ইমামকে দেখা যাচ্ছে মানেই বুঝি ইকতিদা হয়ে যাবে। এটি একটি ভুল ধারণা। শর্ত পূরণ না করে এত দূরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে আপনার ফরজ নামাজই আদায় হবে না। ফলে এক লাখ নেকির আশায় আপনি যে কষ্ট করলেন, তা কার্যত বিফলে যেতে পারে।
আমাদের করণীয়:
১. জামাতে শরিক হতে হলে আগেভাগে রওনা দিয়ে মূল কাতারের সঙ্গে যুক্ত হোন।
২. যদি ভিড়ের কারণে মূল মসজিদে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে কাতার যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে নিজের কাতার শুরু করুন।
৩. মাঝখানে বড় রাস্তা বা জনমানবহীন ফাঁকা জায়গা রেখে নামাজে দাঁড়াবেন না।
৪. কাছাকাছি অন্য কোনো মসজিদে জামাত হলে সেখানে শরিক হোন অথবা নিজেরা ছোট জামাত করে নামাজ আদায় করুন।
ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা। তাই ভুল পদ্ধতিতে সওয়াব খোঁজার চেয়ে সহিহ তরিকায় অল্প আমল করা অনেক বেশি নিরাপদ। আল্লাহ আমাদের হজ ও ইবাদতকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক