বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের সমন্বহীনতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থা চলছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে। বাড্ডার হাতিরঝিল মোড় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস হয়ে গুলশান পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচলের অবস্থা নেই।
সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় যাত্রী এবং চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাড্ডা-গুলশান লিংক রোডের গুদারাঘাট মোড় থেকে দূতাবাসের সংযোগপথ ‘গুলশান লেক ড্রাইভ’ পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের জন্য এখন সেই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে আর বিভিন্ন অলি-গলি ব্যবহার করে মানুষ যাতায়াত করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিন ‘বিদ্যুৎ বিভাগ’ ও ‘ঢাকা ওয়াসা’র কাজ চলছে। কাজ এতটাই ধীরগতিতে চলছে যে, কবে শেষ হবে তা কোনো সংস্থাই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। দুই প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান থাকায় ঢাকা সিটি করপোরেশনও সংস্কারের কাজ করছে ধীরগতিতে। প্রতিদিন স্থানীয় অফিসগামী কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমন্বয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কটি পুরোটাই চলাচলের অনুপেযোগী। তাই নতুন করে সংস্কার করতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন এ সড়কটি দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তের গভীরতা এত বেশি যে, বৃষ্টির পানিতে ঢেকে গিয়ে এগুলো ‘অদৃশ্য ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় পথচারী ও চালকদের পক্ষে গর্তের গভীরতা বোঝা প্রায় অসম্ভব। অনেকে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে চলাচল করছেন।
বাড্ডার হাতিরঝিল মোড় থেকে সামনের দিকে সড়কের বেহাল দশা সবচেয়ে প্রকট। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিপদ হতে পারে, এ আশঙ্কায় অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গর্ত পার হয়ে আবার গাড়িতে উঠতে দেখা যায়। কিছু জায়গায় সাময়িকভাবে ইট বিছিয়ে গর্ত ভরাট করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাতে সমাধান আসেনি।
গরমের সময় সড়কটিতে ধুলাবালি এত পরিমাণে ওড়ে যে, দিনের বেলায় মনে হয় ‘ধুলাবালির ঘূর্ণিঝড়’ বইছে। ঘন ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও চালকদের চোখ-মুখ ঢেকে যায় ধুলার আস্তরণে। আশপাশের দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য, আসবাব ও দেওয়ালে ময়লার আস্তরণ জমে আছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই রাস্তায় একবার সিএনজি ঢুকলে চাকা-বডি সবই নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রী নিলেও ভাড়া বেশি নিতে হয়। কারণ ঝুঁকি ও সময় দুই-ই বেশি লাগে। মোটরবাইক চালক রাকিব হোসেন বলেন, গর্তে পানি থাকলে বোঝা যায় না ভেতরে কতটা গভীর। ধীরগতিতে চলাচলের সময়ও হঠাৎ চাকা পড়ে যায় গর্তে; তখন ভারসাম্য রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সড়কের পাশের দোকানিরা বলছেন, প্রতিদিন ধুলা ঝাড়তে হয়। তবু ময়লা যায় না। ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো মানে ঝুঁকি নেওয়া। অনেক সময় চাকা গর্তে আটকে যায় বা গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।
গুলশান লেক ড্রাইভ শুধু গুলশান নয়, হাতিরঝিল, বারিধারা ও নতুন বাজার এলাকার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ফলে এই সড়কের বেহাল অবস্থা রাজধানীর একটি বড় অংশের যাতায়াতে প্রভাব ফেলছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, যা যাতায়াতের সময় এবং খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এমন বেহাল সড়কে মেরামতের কাজ কবে শুরু হবে তা জানাতে পারেনি দায়িত্বরত সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়কে এ মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও ওয়াসার কাজ চলছে। কবে শেষ হবে তাও নির্দিষ্ট নয়। তারাও কিছু জানায়নি। সড়ক ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ হচ্ছে এটা সত্য। তাই আমরা বসুন্ধরা এলাকার ভেতর দিয়ে বিকল্প সড়কের পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে মিটিং হয়েছে। সড়কটি চালু হলে কিছুটা দুর্ভোগ কমবে।’