ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত ডাক্তারের চেম্বারে একদিন চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু: মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে ভক্তদের অলৌকিক প্রার্থনা ফিফার বাপ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত জামালপুরে স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড ও শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল
Nagad desktop

ডাকসু নির্বাচন জয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় অস্থিরতা

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:২২ পিএম
জয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় অস্থিরতা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি এখন সরগরম। তবে অন্য সময়ের নির্বাচনের তুলনায় এবারের চিত্র ব্যতিক্রম। ছাত্রসংগঠনের পাশাপাশি অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রসংগঠনগুলোর একক প্রভাব থাকলেও এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও শক্ত অবস্থানে। ফলে ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য সমীকরণ মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্বাচনে অংশ নিলে জয়ী নাকি পরাজিত হবে, সে নিয়ে অনিশ্চয়তায় তারা। ফলে নির্বাচন নিয়ে সুযোগ পেলেই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্যানেলের চাইতে ব্যক্তির গুরুত্ব বেশি পেলে এবারের ডাকসুর চিত্র ভিন্ন হবে। সে ক্ষেত্রে যে সরকারই আসুক চাপ অনুভব করবে। প্রথাগত ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। জুলাই আন্দোলনের যে চূড়ান্ত বিজয় তার প্রতিফলনও ঘটবে এই ডাকসু নির্বাচনে। আমার এটিও মনে হয়, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনের যে একক আধিপত্য সেটি হয়তো ভেঙে যেতে পারে। সব মিলিয়ে যাদের ভোটের সংখ্যা বেশি হবে তারা একটা প্রভাব বিস্তার করবে। 

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশের পটপরিবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ ছাত্রসংগঠনগুলো সহাবস্থান করে ক্যাম্পাসে। বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের একাংশ থেকে গঠিত হয় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। এসব ছাত্রসংগঠন কর্মসূচিও পালন করে বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতির বিকল্প হিসেবে কার্যকর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি আমলে নেয়। ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক অধিকাংশই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য ভোটের সমীকরণ করা কঠিন হয়ে গেছে। গত ১৮ আগস্ট মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন থাকলেও একদিন বাড়ানো হয়। ছাত্রীদের একটি হলে মনোনয়ন ফরম নিতে গিয়ে মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন নিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। গত সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন ঘিরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের ওপর চাপ’ তৈরির অভিযোগ আনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাধিক ফেসবুক গ্রুপেও এই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেত্রী ফেসবুকে লেখেন, ‘সুষ্ঠু ডাকসু পেতে শিক্ষার্থী সংসদ নামক দুটি ফেসবুক গ্রুপ ও প্রত্যেক হলের গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিতে হবে। এই দাবি সব প্যানেলের তোলা উচিত। পলিটিক্যাল রংবাজদের প্রোপাগান্ডার রাজনীতি চালু রাখলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’ সেই পোস্টে আরেকজনের মন্তব্য- ‘নিরঙ্কুশ বিজয়’ দেওয়ার দায়িত্বও নিতে হবে ডাকসুকে?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ভোটার বেশি রোকেয়া হলে। আর ছাত্র হলের মধ্যে বেশি ভোটার জগন্নাথ হলে। যেসব প্রার্থী হল দুটির ভোট বেশি পাবেন তারা ডাকসুতে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। অন্য সময়ের তুলনায় এবার ভোট পড়ার হারও বেশি হবে। কারণ একক ছাত্রসংগঠন কোনো কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ফলে সবাই উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে আসবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রসংগঠনের এক নেতা খবরের কাগজকে বলেন, এবার আসলে নির্বাচন নিয়ে কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না। কারণ অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী। যারা ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছেন। ছাত্রসংগঠনগুলোও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় ছিল। ফলে সবার মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নির্বাচনে কী হবে?

সব শেষ অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্যানেল হিসেবে ছাত্রলীগের একক প্রাধান্য ছিল। ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া সব কটিতে জয় পায় তারা। তবে এবার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কারণে সংগঠনটি এখন নিষিদ্ধ। কোনো দলীয় সরকার ক্ষমতায় না থাকায় এবারের নির্বাচনে দলীয় ছাত্রসংগঠনের প্রভাব কম থাকবে। একাধিক ছাত্রসংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে একক প্যানেলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠনের ঊর্ধ্বে গিয়ে ব্যক্তির ইমেজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আমলে নিচ্ছেন, প্রার্থীর অতীত আচার-আচরণ ও প্রতিশ্রুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, সকলকেই তো ছাত্রলীগের ছায়ায় থাকতে হয়েছিল। এখন অনেক সিনিয়র ভাই এবং বন্ধু আছে যারা ছাত্রলীগের গেস্টরুম কিংবা প্রোগ্রাম যাওয়া নিয়ে খারাপ ব্যবহার করেছেন, এখন তারা ভালো মানুষ সাজছেন। এমন লোককে তো আর ভোট দিতে পারি না। তিনি হয়তো জুলাই অভ্যুত্থানের পরে শিক্ষার্থীবান্ধব হয়েছেন। কিন্তু পরে আবার একই রূপে ফিরে আসবেন না, তার তো নিশ্চয়তা নেই! এখন যে, ছাত্রলীগ থেকে আমাকে অত্যাচার-নির্যাতন থেকে কিছুটা বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এবং কিছুটা সমীহ করেছেন অবশ্যই তাকে ভোটটা দেব।’

শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিম তানজিলা খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডাকসু নিয়ে তো আমাদের প্রত্যাশা অনেক। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি না থাকায় যৌক্তিক দাবিও বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন। এখন যিনি সমস্যা নিরসনে কাজ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন, অবশ্যই এমন একজনকে পছন্দের তালিকায় রাখব।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে যারা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সব দাবি আদায়ে সোচ্চার ছিলেন, অবশ্যই তাদের প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখব। যার ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি প্যানেলের তুলনায় সবার আগে ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিতে চাই, যিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন।’

আজ প্রকাশ্যে আসবে সব প্যানেল, বাম জোটের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’
গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে বাম সংগঠনগুলোর জোট। ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এতে শেখ তাসনিম আফরোজকে (ইমি) সহসভাপতি (ভিপি) ও মেঘমল্লার বসুকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (একাংশ) ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল সমর্থিত আংশিক প্যানেল ঘোষণা করে। তাদের প্যানেলের নাম ‘নাঈম-অনয়-অদিতি’ প্যানেল। এতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন ছাত্রলীগ-বিসিএল ঢাবি শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, জিএস পদে নির্বাচন ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এনামুল হাসান অনয়, এজিএস পদে নির্বাচন করবেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাবি শাখার সদস্য সচিব অদিতি ইসলাম। 

গতকাল পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেওয়ার কথা থাকলেও এই প্রতিবেদন লেখার সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে থাকা স্বতন্ত্র প্যানেল, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মোহাম্মদ খালিদের নেতৃত্বে থাকা ‘ডিইউ ফার্স্ট’ নামের প্যানেল পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি। ডাকসুর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় এক দিন বাড়ানোর কারণে তারা প্যানেল ঘোষণা দিতে সময় নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়। আজ বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তারা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা দিতে পারেন। ফলে আজ বুধবার প্রকাশ্যে আসবে সব প্যানেল।

উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় এক দিন বাড়ানোয় প্রশাসন ছাত্রদলকে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারা। আর ছাত্রশিবির সময় বাড়ানোকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতী আচরণ হিসেবে দেখছে।

মনোনয়নপত্র জমা শেষে ঢাবি শিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হঠাৎ করে এক দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় বাড়াল। এটি স্পষ্টত একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল যে তারা যে তারিখ ঘোষণা করবে, সেই তারিখ মেইনটেইন করা।’

এমন অভিযোগ নাকচ করে দেন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কোনো দলের চাপে নয়, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।’

শিবিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের
ছাত্রশিবিরের প্যানেলের প্রার্থীদের এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ)। ঢাবি সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম রানা জয় এবং সালাউদ্দিন আম্মার নিলয় এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী সর্বমিত্র চাকমা শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই ঘটনায় গতকাল বিকেলে জগন্নাথ হলে ৭১ বিরোধী অপশক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে হলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রাধ্যক্ষ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হলটির একদল শিক্ষার্থী। 

প্রসঙ্গত, ডাকসুর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে কাল ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে। চার দিনের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে ২৬ আগস্ট প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং সব শেষ ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায়

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায়
নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি কেটে জলাশয়ে পরিণত করেছেন ঠিকাদারের লোকজন। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা সেতুর রেললাইনের সংযোগ উড়াল সেতুর পিলারের নিচে থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন ঠিকাদার। পিলারের নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লক তুলে ফেলা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে মাটি কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাটি কাটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পদ্মা রেলসেতুর সংযোগ রেললাইনের উড়াল সেতুটি রেলওয়ের হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোর। প্রকল্পটির প্রধান নির্মাতা চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। তবে বাংলাদেশের সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে রিংটেক লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান আলীগঞ্জ ভায়াডাক্ট (উড়াল সেতু) নির্মাণে যুক্ত ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এখনো তারা প্রকল্পের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে যাচ্ছে। এমনকি বিক্রি থেকে বাদ যায়নি মাটিও।

গতকাল মঙ্গলবার আলীগঞ্জ উড়াল সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটার কারণে রেললাইনের সংযোগ সেতুর পাঁচটি পিলারের নিচের দুই পাশে মাটি নেই। রেললাইনের ৮৫ নম্বর পিলার থেকে শুরু করে ৮৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত পিলারের প্রায় ১৭৫ মিটার এলাকাজুড়ে গভীর করে মাটি কাটায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লকগুলো তুলে ওপরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর সংযোগ রেললাইনের উড়াল সেতুর পিলারের অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিক পরিচয়ে পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে ট্রাকভর্তি করে দাপা এলাকায় নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে ইটভাটার মালিক কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এবং ফতুল্লা শ্রমিক লীগ নেতা আবু বক্কর তা মানেননি, বরং রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লকও তুলে ফেলা হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তাও। মেম্বার এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে তার ভাটার জন্য তিনি মাটি কিনেছেন। পরে মাটি কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের লোকজন মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। তবে মাটি ফেরত এনে খনন করা গর্ত ভরাট করা না হলে রেল চলাচলের অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। 

ভিডিও দেখে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওইখানে রেলওয়ের লোকজনসহ ঠিকাদারদের মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। রেললাইনের সংযোগ উড়াল সেতুর পিলার রক্ষার পরবর্তী কাজ করবে রেল কর্তৃপক্ষ।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাটি কাটার কোন বৈধ অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির। তিনি খবরের কাগজে বলেন, মাটি কাটার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নথিপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তাদের মাটি কাটার বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন তাই মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি গর্ত ভরাটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

মুঠোফোনে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, রেলওয়ে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মাটি কাটার অনুমতি দেয় না। যারা মাটি কেটেছে তাদের মাটি নেওয়ার চুক্তিও নেই। তাদেরকে মাটি অপসারণের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদনহীন মাটি কাটার বিষয়ে ইতোমধ্যে রেলওয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটিই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি
ছবি: সংগৃীহত

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই নদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে অববাহিকা এলাকায় খরার তীব্রতা যেমন বাড়বে, তেমনি হুমকির মুখে পড়বে নদীর পরিবেশগত প্রবাহ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) একদল গবেষক এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। জার্নাল অব ওয়াটার অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জে চলতি বছর তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন জারিন তাসনিম ও এ কে এম সাইফুল ইসলাম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন ইন্দ্রনীল সরকার, মো. সাইদুজ্জামান, খন্দকার এম অনিক রহমান, মোহাম্মদ আসাদ হোসেন এবং মো. সাদমান সাকিব। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের অর্থায়নে ‘ইনহ্যান্সিং কোস্টাল রেজিলিয়েন্স থ্রু নেচার-বেজড সলিউশনস’ প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দূরপাল্লার পূর্বাভাস
গবেষণায় সিএমআইপি-৬ ক্লাইমেট প্রজেকশন (গ্লোবাল ক্লাইমেট মডেল) এবং সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার অ্যাসেসমেন্ট টুল–‘স্যাট’ নামক হাইড্রোলজিক্যাল মডেল ব্যবহার করে ব্রহ্মপুত্র নদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ২০৪০ থেকে ২০৬৯ সময়কালে নদে পানির প্রবাহ সামান্য বাড়তে পারে। তবে ২০৭০ সাল থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সময়ে পানির প্রবাহ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

স্টান্ডার্ডাইজড ডিসচার্জ ইনডেক্স বিশ্লেষণ বলছে, ভবিষ্যতে এই অববাহিকায় শুষ্ক ও আর্দ্র চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রকোপ বাড়বে। বিশেষ করে দূর ভবিষ্যতে খরার তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা অনেক বেশি হবে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ‘ইকোলজিক্যাল ফ্লো’ নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি মডেল এসএসপি৩-৭.০ অনুযায়ী, নিকট ভবিষ্যতেই নদীর প্রবাহ প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানির প্রবাহের এই নিম্নমুখী প্রবণতা জলজ প্রাণীর প্রজনন ও সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা জানান, ব্রহ্মপুত্র একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তসীমান্ত নদ, যা বাংলাদেশসহ চারটি দেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় গবেষকদের পরামর্শ হলো অবিলম্বে সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি আন্তসীমান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কংক্রিটের জঙ্গলে জলবায়ু ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তনের মরণফাঁদে থাকা বাংলাদেশের শহরগুলোর অস্তিত্ব রক্ষায় কেবল কংক্রিটের স্থাপনা আর যথেষ্ট নয়। এর বদলে শহর গড়ার পরিকল্পনা ও অবকাঠামো নির্মাণে ‘প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান’ গ্রহণের বিকল্প নেই বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) এক নতুন প্রতিবেদনে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত ‘কম্পেনডিয়াম অন নেচার-বেজড সলিউশনস ফর আরবান রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রথাগত উন্নয়নের চেয়ে প্রকৃতিকে সঙ্গী করে নেওয়া অবকাঠামোই ভবিষ্যতে শহরগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে যেমন তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়ছে, অন্যদিকে পানিসংকটের মতো সমস্যাও প্রকট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত ‘ধূসর’ বা কৃত্রিম অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানকে একটি সাশ্রয়ী ও টেকসই বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে খরা
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ খরা এখন কেবল স্থানীয় সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা কর্মসূচি-ক্লেয়ার প্রোগ্রামের অধীনে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণা ও অভিযোজনমূলক কার্যক্রম নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আজ ১৭ জুন ‘বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এশিয়া ও আফ্রিকার খরাপ্রবণ অঞ্চলের পরিবর্তনের এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্ব এমন সব খরার মুখোমুখি হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ভারত, নেপাল, উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া ও কেনিয়াসহ আফ্রিকার ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে প্রকট। এই খরা কেবল ফসলের ক্ষতিই করছে না, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, সুপেয় পানির সংকট, জনবসতির স্থানচ্যুতি এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক সংঘাত খরা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।

এই প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, খরা মোকাবিলায় কেবল প্রযুক্তি বা অবকাঠামোই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পানির ন্যায্য বণ্টন। খরাপ্রবণ দেশগুলোকে জলবায়ু বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ সংকুলান রাখার পরামর্শও দিয়েছে ক্লেয়ার

শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

খেলার মাঠের হইহুল্লোড় কিংবা বইয়ের পাতার ঘ্রাণ–শৈশবের এই চিরচেনা অনুষঙ্গগুলো এখন অনেকটাই ইতিহাস। বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের শৈশব এখন বন্দি হয়ে পড়েছে স্মার্টফোনের নীল আলোর স্ক্রিনে। ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইনস্টাগ্রামের ভার্চুয়াল জৌলুশে বুঁদ হয়ে থাকা এই প্রজন্ম কেবল শারীরিক সক্ষমতাই হারাচ্ছে না, বরং জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং কালচারসহ নানা ভয়াবহ অপরাধ ও মানসিক অস্থিরতায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই লাগামহীন ব্যবহার কোমলমতি শিশুদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে ডেকে আনছে এক মারাত্মক বিপর্যয়। 

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এখন নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলোও নিয়েছে একই পথ। বিশ্বের প্রায় ৭৯টি দেশে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। 

স্ক্রিনে বন্দি শৈশব ও মানসিক অবক্ষয়
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম শিশুদের মধ্যে ‘ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন’ বা তাৎক্ষণিক তৃপ্তিবোধের এমন এক আসক্তি তৈরি করছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি মনোযোগের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাস্তব জগতের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়া এই শিশুরা ক্রমেই সৃজনশীলতা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত, স্থূলতা এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এখন ঘরে ঘরে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩২ শতাংশ শিশু সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার। অথচ প্রযুক্তির এই অপব্যবহার কেবল ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা রূপ নিচ্ছে সামাজিক ব্যাধিতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানান সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা অধিশাখার পরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের সাইকোলজিক্যাল ও সাইকো-সোশ্যাল সমস্যা হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে।’

নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে শিশুদের বিপথগামী হওয়ার বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অল্প বয়সে বিয়ের মতো ঘটনা বাড়ছে, যা পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার সূত্র ধরেই এমন পরিণতির দিকে এগোচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।

কিশোর গ্যাং: স্মার্টফোনের অন্ধকার অধ্যায়
প্রযুক্তির আশীর্বাদের আড়ালে ডালপালা মেলছে ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতি। অপরাধের নীল নকশা তৈরি, সদস্য সংগ্রহ, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া–সবকিছুর মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। র‌্যাবের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় বছরে দেশে প্রায় ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও টিকটক ব্যবহার করেই তারা অপরাধের যাবতীয় সমন্বয় করত। টিকটক বা ফেসবুকে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতা অনেক মেধাবী কিশোরকে ঠেলে দিচ্ছে চরম অপরাধের পথে।

বিশ্বজুড়ে কড়াকড়ি, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাইবার নিরাপত্তা আইন, বিপিডিএ বা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আলোকে আমরা সাইবার বুলিং মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছি। যদি সরকার ভবিষ্যতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা মনে করে, তবে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুন নীতিমালা তৈরির সুযোগ রয়েছে। আইসিটি বিভাগ এবং ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএ) তখন সে অনুযায়ী কাজ করবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে (আইসিটি বিভাগ) এখনো এ বিষয়ে কোনো কিছুই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। হয়তো এই বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে।’

ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিং ও আইনি সুরক্ষা
অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ব্ল্যাকমেইলিং ও যৌন হয়রানির ঘটনা এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি সরকার ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি ও রিভেঞ্জ পর্নো ছড়ানোর মতো অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করেছে।

তবে আইনি প্রতিকারের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা অধিশাখার পরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম মনে করেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় রেস্ট্রিকশন আরোপ করা এখন সময়ের দাবি।

একক নয়, সমন্বিত উদ্যোগের পরামর্শ
ইউনিসেফ এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে অনলাইন সুরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের আওতায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে সনদ প্রদান করা হয়েছে। তবে পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ইউনিটে গত ৬ বছরে ৬০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সাইবার সহিংসতা কতটা গভীরে পৌঁছেছে। শিশুদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক কাঠামো ও পারিবারিক বন্ধনের যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার সময় এমন মতামত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিশুদের অপরাধ প্রবণতার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। কোনো একটি কারণকে কেন্দ্র করে এর সমাধান সম্ভব নয়। এটি অনেক উপাদানের একটি অংশ মাত্র।’

অধ্যাপক মাহবুবা সুলতানা মনে করেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা অন্য দেশ থেকে ভিন্ন। এ দেশের সমাজব্যবস্থায় এখনো অনেক ক্ষেত্রেই যৌথ পরিবারব্যবস্থা বিদ্যমান এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বেশ সক্রিয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো পিয়ার গ্রুপ এবং আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী। এই সামাজিক কাঠামো ও সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে যেকোনো প্রযুক্তি বা মাধ্যমকে পজিটিভলি কাজে লাগানো সম্ভব। এসব কারণেই অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট অনেকটাই মিনিমাইজ করা সম্ভব হয়।’

তবে এ বিষয়ে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট হুবহু মিলবে না। এ জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে সময় সাপেক্ষে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কনটেক্সট ভিন্ন হওয়ায় শিশুদের এই সংকট মোকাবিলায় কোনো একমুখী চিন্তার সুযোগ নেই বলেও মত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট 
শিশু ও কিশোরদের ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ফেসবুক, টিকটকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এসব প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করতে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী। আগামী রবিবার লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষে তিনি এই রিট আবেদন করবেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)। 

কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: খবরের কাগজ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া শিল্প-বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশ কিছু খাতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমন হিসাবের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রণোদনা ও রাজস্ব ছাড় দিলেই কর্মসংস্থান বাড়বে, এমন না। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির টানাপোড়েনের নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হবে। এ ছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগ না বাড়ার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বাজেটে এসব সংকট দূর করতে দিকনির্দেশনা নেই। আর তাই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপে কর্মসংস্থান বাড়বে এমন নিশ্চয়তা নেই।      

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেওয়া পদক্ষেপের সঠিক বাস্তবায়ন হতে হবে। কর্মসংস্থান তিনভাবে বাড়তে পারে: সরকারি, বেসরকারি এবং বিদেশে। 

তিনি বলেন, সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিতে চেয়েছে। এটা সরকারি খাতে কর্মসংস্থান। এভাবে কিছু কর্মসংস্থান সরকারের হাতে আছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। ভূরাজনীতির ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির টানাপোড়েন কত দিন চলবে, তা আমরা জানি না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে। শুধু প্রণোদনা, রাজস্ব ছাড় ও নীতি সহায়তায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ে না। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ আরও অনেক কিছুর সমাধান দরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংকটের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আর তা কতটা বাস্তবায়ন হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।     

প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ-তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের যুবসমাজকে উৎপাদনশীল কর্মে যুক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের এসআইসিআইপি কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে উচ্চ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৭০ হাজার গ্রামীণ শ্রমিককে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে ৪৫ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। 

বাজেটে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশগামী ও প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নতুন করে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ব্যবস্থা চালুর কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণ, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং স্টার্ট-আপ ও সিএসএমই প্রণোদনার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা যদি সত্যিকার অর্থে মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে শিল্পায়ন গতিশীল হবে, যা দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্যচাপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির ফলে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪.৭২ শতাংশে নেমেছে, যা বিনিয়োগ সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। 

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সহসভাপতি এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী খবরের কাগজকে বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্য আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব মিলিয়ে আগামীতে শিল্প-বিনিয়োগ বাড়বে আর সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—তার সম্ভাবনা কম। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ণ ও বন্ধ কলকারখানাগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল। বাজেটে এই তহবিলের আওতায় বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।  

প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে আমাদের সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।’

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, দেশে কর্মসংস্থান হোক আমরাও চাই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে? সরকার এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিয়েছে–এটা আশার কথা। এর জন্য কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন–যা ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছি। কিন্তু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে তো! কারণ দেশের অর্থনীতির সংকট কাটিয়ে শিল্প-বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসন না হলে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানো কঠিন হবে। 

গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জের অংশ মিশছে ঢাকায়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জের অংশ মিশছে ঢাকায়
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উপকণ্ঠে সবচেয়ে বড় ও পরিকল্পিত ‘পূর্বাচল’ নতুন শহরকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য পূর্বাচলের গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অংশবিশেষ ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তুত সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে প্রাক-নিকার সচিব কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সভায় অনুমোদন পেলেই প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে নিকার সভার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দুটি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ১৪টি মৌজা (মোট ১৬টি মৌজা) ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে পূর্বাচল প্রকল্পের পুরো এলাকা কার্যত ঢাকা জেলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ–এই তিন জেলার মধ্যে বিভক্ত। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা প্রদানে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় গত ২ মার্চ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পূর্বাচলকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা ওয়াসার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং ২৩ এপ্রিলের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে মে মাসে প্রাক-নিকার সচিব কমিটিও সারসংক্ষেপটি অনুমোদন করে।

তবে প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতাধীন ২১টি মৌজাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় ছিল। পরে চূড়ান্ত প্রস্তাবে তা কমিয়ে ১৬টি মৌজায় আনা হয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার পাড়াবার্থা ও বড়কাউ মৌজার আংশিক অংশ এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাইঝগাঁও, হারারবাড়ী, ভোলানাথপুর, সুলপিনা ও পিতলগঞ্জ সম্পূর্ণভাবে এবং ইউসুফগঞ্জ, পশি, টেকনোয়াদ্দা, গুতিয়াব, বাঘবের, ব্রাহ্মণখালী, কামতা, হিরনাল ও রঘুরামপুরের আংশিক অংশ ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক তালিকায় থাকা কয়েকটি মৌজা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মৌজার পরিবর্তে আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল জারি হওয়া ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এ রাজউকের কার্যপরিধি নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনের ১(২) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাজউকের আওতা ঢাকা মহানগরী ছাড়াও ঢাকা জেলার সাভার ও কেরানীগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার নির্ধারিত এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকবে। নতুন আইনে রাজউকের ভৌগোলিক কার্যপরিধি বহাল থাকলেও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পূর্বাচল প্রকল্পের অংশবিশেষকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্বাচল বর্তমানে ৬ হাজার ২৬১ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প। এতে ৩০টি সেক্টরে ২৬ হাজার ২১৩টি আবাসিক প্লট, ৩ হাজার ৫৬৩টি বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লট রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ৩১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫২টি সেতুর মধ্যে ৪৯টির কাজ শেষ হয়েছে এবং ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক ও খাল খননের মাধ্যমে নৌ-নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে প্রকল্পটি ২০১৯ সালে ‘এশিয়ান টাউনস্কেপ জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।
তবে প্রশাসনিক বিভাজনের কারণে এখনো নাগরিক সেবা, ভূমি রেকর্ড, পুলিশি সেবা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতা রয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, একক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা গেলে পূর্বাচলকে একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সহজ হবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার সভায় জেলার সীমানা পরিবর্তনের পরিবর্তে শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির গেজেট সংশোধনের বিকল্প প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্মতি দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এখন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় নিকার সভায় অনুমোদন পেলেই পূর্বাচলের প্রশাসনিক পরিচয়ে বড় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ডিএমপি ও ঢাকা ওয়াসার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে যাবে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পূর্বাচলকে রাজধানীর সম্প্রসারিত আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে।