ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

১৭ বছরে বিএনপির ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২২ পিএম
১৭ বছরে বিএনপির ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন
বিএনপি

‘মামলা, হামলা, হুলিয়া নিতে হবে তুলিয়া’–রাজনৈতিক অঙ্গনের বহুল শ্রুত এই স্লোগান গত দেড় যুগ দিয়ে যেতে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা।

বিএনপির কমবেশি সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকেই এমন হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তাদের কাউকে ঘর ছেড়ে, কাউকে গ্রাম ছেড়ে, আবার কাউকে দেশ ছেড়েও পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন, এ উপলক্ষে দলটির তিন স্তরের তিনজন নেতা গতকাল বুধবার দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে গত ১৭ বছরের স্মৃতিচারণা করেছেন। তারা হলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর আবু নাছের শেখ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক (শাকিল চৌধুরী) ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু হান্নান লাভলু।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কারামুক্ত জীবনযাপন করছেন খালেদা জিয়া। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোরও নিষ্পত্তি হয়ে গেছে এরই মধ্যে। সর্বশেষ খালাসের রায় ঘোষণার প্রায় চার মাস পর আজ দেশে ফিরছেন তিনি।

চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তারেক রহমানের খালাসের রায় বহাল রাখেন। এই রায়ে বহুল আলোচিত ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ আসামিদের খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই নিয়ে ৫০টির বেশি মামলা ছিল। তবে সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারায় উদ্ধৃত হতে চাননি তারা। ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে।

মামলাগুলোর মধ্যে ছয়টি মামলার বিচার শেষে সাজা ঘোষণা করা হয়। আর কিছু মামলা স্থগিত অবস্থায় ছিল। তবে কোনো মামলাতেই তিনি সাজা ভোগ করেননি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান সব মামলা থেকে একে একে খালাস পান।

দলীয় আইনজীবীরা জানান, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, অর্থ পাচার, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি ও ইতিহাস বিকৃতি এবং মানহানির মামলা।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো একে একে খারিজ হয়েছে। এরই মধ্যে রয়েছে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি, নাইকো দুর্নীতি, গ্যাটকো দুর্নীতি, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি, মানহানি ও নাশকতার মামলা। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাভোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খলেদা জিয়া।

এ ছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও ছিল কয়েক শ করে মামলা। সব মিলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মামলা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার আসার আগে। মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা ৪০ লাখের ওপরে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খানের (সোহেল) বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল কমবেশি ৪৫০টি। সবচেয়ে বেশি মামলায় হওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন (আলাল), বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমানের (শিমুল বিশ্বাস)। তাদের মধ্যে রিজভীর বিরুদ্ধে ১৮০টি, আলালের বিরুদ্ধে আড়াই শ আর শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দেড় শর বেশি মামলার কথা জানা গেছে।

এত এত মামলার ভিড়ে কেউ ঘরছাড়া হয়েছেন। কেউ হয়েছেন গ্রামছাড়া। আবার কেউ দেশ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে। তাদের একজন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর আবু নাছের শেখ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ২০০৯ সালে আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা অফিসে হামলার অভিযোগে মিথ্যা মামলা দেয়। পরের বছর ২০১০ সালে আমি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাই।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই। আমার পরিবারের ওপরও ছিল মামলা, ভোগান্তি। ২০১৪-১৫ সালে আমার ছোট ভাইকে পুলিশ ধানমন্ডি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমার বাবা বয়স্ক মানুষ। ওনার নামেও তিনটি মিথ্যা মামলা ঠুকেছে। ২০১৭ সালে লন্ডন হাইকমিশন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের পর রাষ্ট্রদোহ মামলা হয় আমার বিরুদ্ধে। সব মিলে মোট ৭-৮টি মিথ্যা মামলা আমার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সহিংস হামলা চালিয়ে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় আমার পরিবারের সদস্য ও নেতা-কর্মীরা আহত হন। 
২০২৪ সালে লন্ডনে ছাত্রলীগের হামলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হই। তখন আমার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। গত ১৭ বছরে আমার ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক (শাকিল চৌধুরী) বলেন, ‘আওয়ামী দুঃশাসনের সময় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১২টি। এই এক ডজন মামলায় জেল খেটেছি দুবার, রিমান্ডে যেতে হয়েছে অসংখ্যবার। আমাকে সাত দিন গুম করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী দুঃশাসন ও স্বৈরশাসনামলে ইতিহাসের বর্বরোচিত নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা, গুম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার-কারাবন্দির শিকার হয়েছি আমি। অবর্ণনীয় এসব নির্যাতনের শিকার হয়েও দীর্ঘ এই সময় ধরেই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে মাঠে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শরিক থেকেছি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলাম। দলের প্রতি আনুগত্য ও আদর্শের প্রতি ছিলাম অবিচল।’

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু হান্নান লাভলু বলেন, ‘গত ৩৬ বছর ধরে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই তিন যুগের মধ্যে চাটখিল সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে এবং কলেজ ছাত্রদলের সম্পাদক এবং ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরে যুবদলের সভাপতি ছিলাম। রামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলাম। আওয়ামী লীগের সময় ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে হামলা মামলার শিকার হই। ১৯৯৬ আমল থেকেই হামলা-মামলার শিকার হয়ে এসেছি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের আমলে ২০০৯ সাল থেকে ১৫টি মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে আছে হত্যা মামলা, মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা। ফেরারি হতে হয়েছে আমাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই। আমার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। আমার পরিবার-পরিজনের ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। আমার মা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। তারা আমার গ্রামের বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ করেছে শতাধিকবার। আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিজের, নেতা-কর্মীর ও পরিবার-পরিজনের এসব মামলা মোকাবিলা করতে আমার আর্থিক ক্ষতিই হয়েছে কোটি টাকা। নিজের জমি, পুকুরের মাছ, গাছ বিক্রি করে এসব সামাল দিতে হয়েছে। এতে আমি অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। এর মধ্যেও কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ছিল আমার এবং আমার নেতা-কর্মীদের।’

নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা
ভোগ্যপণ্যে ঠাসা মুদি দোকানে দেখা যায়নি কোনো মূল্যতালিকা। ছবিটি চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে তোলা/ মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অধিকাংশ দোকানেই মূল্যতালিকা দেখা যায় না। ফলে একই পণ্য সব দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হতে না পেরে প্রতিদিনই বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন জরুরি বলে মনে করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর, রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং রাস্তার পাশের খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে মূল্যতালিকা নেই। কিছু কিছু দোকানে থাকলেও তারিখ ও পণ্যের দাম পরিবর্তনের দিকে বিক্রেতার খেয়াল নেই। আবার বিভিন্ন দোকানে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তার পাশে ব্যাটারি গলিতে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন অলিগলির খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ (হালি জাত) বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অথচ রিয়াউদ্দিন বাজার থেকে বের হয়ে দেখা যায়, একই পেঁয়াজ ভ্যানগাড়িতে ৩ কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩৩ টাকা। বাজারভেদে মাছ, মাংস, সবজির দামেও এ রকম হেরফের দেখা গেছে। 

এদিকে মূল্যতালিকা না থাকার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। ব্যবসায়ীদের একেক জনের রয়েছে একেক রকম যুক্তি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের কাছে একাধিক মূল্যতালিকা রয়েছে, কিন্তু বাজারে মূল্যতালিকা কেউ টাঙায় না। তাই তিনিও রাখেননি। আবার কেউ জানিয়েছেন, মূল্যতালিকা রাখলে বা কম দামে পণ্য বিক্রি করলে, যারা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। তাই ঝগড়া এড়াতে এবং যে যার মতো করে ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করতে মূল্যতালিকা রাখেন না। 

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. শওকত বলেন, ‘আপনি পুরো বাজার ঘুরে দেখেন কোনো মূল্যতালিকা নেই। সবাই যেহেতু মানছে না, আমি আর একা মূল্যতালিকা রেখে লাভ কী!’

হালিশহর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, ‘আমার কাছে ৩টা মূল্যতালিকা আছে। কিন্তু রাখা হয়নি। কারণ একটি পণ্য একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি হয়। আমি একটি পণ্যের দাম পাশের দোকানদারের তুলনায় কম লিখলাম। তখন আমাদের ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।’ 

নগরীর ফইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘এক লিটার গরুর দুধ কিনতে গেলাম। এক দোকানে ৮০ টাকা, পাশের আরেক দোকানে ৯০ টাকা। অন্য ভোগ্যপণ্যের দামেও একই অবস্থা। অর্থাৎ দামে কোনো স্বচ্ছতা নেই। তাই এখন বাজার করতে গেলে আগে পুরো বাজার ঘুরি। যেখানে কম দাম বলে সেখান থেকেই কিনি। কিন্তু এটা তো আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। সব জায়গায় একই দাম থাকলে যে যেখান থেকে ইচ্ছা কিনতে পারেন। ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হন না।’ 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, যখনই কোনো বাজারে অভিযান চালানো হয়, সেখানে কেউ বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছে কি না, মূল্যতালিকা ও কেনা-বেচার পাকা রসিদ আছে কি না- ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। 

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘মূল্যতালিকা রাখা বা বেশি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার করেও কোনো লাভ তো হচ্ছে না। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী দুজনই নানা কায়দায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। বাজারকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ফলোআপ করতে হবে। তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’

পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। এই বাজেটের কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বাজেটে মসলাসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সাত দিন চলে গেলেও এক টাকা কমেনি এসব পণ্যের দাম। আগের মতোই বেশি দামে চাল, ডাল, মসলা বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাঙাশসহ অন্য মাছের দামও কমেনি। কোরবানি ঈদের পর চাহিদা কমলেও আগের মতো চড়া দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। বাজার সবজিতে ভরা থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, সরকার মুখে বললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই তো কোনো জিনিসের দাম কমে না। ভরা মৌসুমেও এক কেজি পোলাওয়ের চাল  বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করে সরকার। তাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায়ে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্য ও সেবায় দাম কমার প্রস্তাব করেছেন সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি পণ্যের দাম কমাতে উৎসে কর এবং খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার মতো মসলার দাম কমাতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এসব জিনিসের দাম এক টাকাও কমেনি।

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মো. বাবু মিয়াসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যাই বলুক বাজার চলছে বাজারের মতো । মিল থেকে দাম না কমালে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব। কাজেই মিলে যাতে দ্রুত দাম কমে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব। ভোক্তারাও কম দামে কিনতে পারবেন। বর্তমানে সব পণ্যের দাম ঝিম ধরে আছে।’

বেশি দামেই চাল বিক্রি

গতকালও আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।  

টাউন হল বাজারের মায়ের দোয়া রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘বোরো ধান ওঠা শেষ। তার পরও চালের দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা গোডাউনে ধান ভরে নিয়েছেন। মিল থেকে এখনো বেশি দামে পুরোনো চাল বিক্রি করছে। মিলমালিকদের না ধরলে চালের দাম কমবে না। প্রাণ, চাষি গ্রুপসহ অন্যরাও ইচ্ছামতো পোলাও চালের দাম বাড়িয়েছে, যা ১৯০ টাকা কেজি। আজব এ দেশ।’

কোরবানির ঈদের আগে আদার দাম বাড়লেও গতকাল তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। শুল্ক কমানো হলেও মসলার দাম কমেনি। আগের মতো গতকালও  লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা ও এলাচ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’ খেজুর বিক্রেতারাও জানান দাম কমেনি। নিউ মার্কেটের মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আগের দামেই সব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বাজেটের পণ্য দেশে এলে কমতে পারে।’

অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ঘরে

বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিও ভরে আছে। তার পরও বেগুনসহ অধিকাংশ সবজি যেন ১০০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাজারে টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১০০, বরবটি ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনেডাঁটা ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৬০, পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। গ্রীষ্মকালের ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গাও ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৬০ থেকে ৭০ টাকার কমে মেলে না। নিউ মার্কেট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সবুজসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আড়তে সব সবজিই বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

কমেনি মাছের দাম

কোরবানির ঈদের পরও মাছের দাম কমেনি। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও আগের মতো ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে চাষ করা এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহের মতোই গতকালও সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও  খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়।

পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের
রাজশাহীর কসাই রিপন আলীর সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার শিং ও মাথার খুলি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

পেশায় তিনি কসাই। প্রতিদিন পশু জবাই ও মাংস বিক্রিই তার কাজ। কিন্তু এই পেশার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক ভিন্ন জগতের সন্ধান। অন্যরা যেখানে পশুর মাথা ও শিংকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেন, সেখানে রাজশাহীর রিপন আলী সেগুলোকে রূপ দিচ্ছেন দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি করছেন ব্যতিক্রমী শোপিস, যা এখন দর্শনার্থীদের কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

৪০ বছর বয়সী রিপন আলী রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা। গত এক দশক ধরে তিনি এই ব্যতিক্রমী শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক নান্দনিক শোপিস জমা হয়েছে। বাড়ির একটি কক্ষজুড়ে সাজিয়ে রেখেছেন এসব শিল্পকর্ম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ তার এই সংগ্রহ দেখতে ভিড় করছেন।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রথমে কৌতূহল থেকে দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সাধারণত যেসব জিনিস আমরা বর্জ্য হিসেবে দেখি, সেগুলোকে এত সুন্দর ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা কল্পনাও করিনি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগ্রহের ছবি দেখে এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখে আরও ভালো লাগছে। প্রতিটি শোপিসের পেছনে যে শ্রম, ধৈর্য ও মেধা রয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। একজন কসাইয়ের হাতে এমন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

জানা গেছে, রিপনের এই শিল্পযাত্রার শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণ একটি ঘটনা থেকে। কসাইপট্টিতে কাজ করার সময় একটি বড় মহিষের শিং তার নজর কাড়ে। শিংটির সৌন্দর্য দেখে তিনি ভাবেন- এটি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান।

প্রথমদিকে কাজটি সহজ ছিল না। পশুর মাথা সংরক্ষণ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কোনো কার্যকর পদ্ধতি তার জানা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে তিনি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এরপর নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। বছরের পর বছর চেষ্টা, ব্যর্থতার পর তিনি একটি কৌশল বের করেন। এই কৌশলের ফলে পশুর মাথা ও শিং দীর্ঘদিন পচনমুক্ত রেখে শৈল্পিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়।

রিপন জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই কাজ শুরু করেন। তবে সব ধরনের পশুর মাথা তিনি সংগ্রহ করেন না। যেসব পশুর শিং বা মাথার গঠন দেখতে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক, সেগুলোই বেছে নেন। পরে সেগুলো পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও শৈল্পিক উপস্থাপনের মাধ্যমে শোপিসে রূপ দেন।

এই কাজে তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। পশুর হাড় ও মাথা সংগ্রহ করে বাড়িতে রাখার কারণে একসময় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সমালোচনা শুনতে হয়। দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকে তাকে নিরুৎসাহিতও করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি  বদলে গেছে। একসময় যারা তার এই কাজকে অদ্ভুত ভাবতেন, তারাই এখন প্রশংসা করছেন। এই শিল্পকর্মের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রিপন আলী বলেন, আমি শুধু বাজার থেকে সংগ্রহ করা গৃহপালিত পশুর মাথা ও শিং ব্যবহার করি। কোনো সংরক্ষিত বা বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করি না। আমার বিশ্বাস, গৃহপালিত পশুর হাড় ও শিং দিয়ে তৈরি নান্দনিক শোপিস জনপ্রিয় হলে বন্যপ্রাণীর অঙ্গ দিয়ে ঘর সাজানোর প্রবণতা কমবে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদ্যোগ একদিন ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হবে।

ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইডস রোগী, বাড়ছে মৃত্যু। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একসময়ে এইচআইভি সংক্রমণ নগর ও শহরকেন্দ্রিক ছিল। এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে জেলা পর্যায়েও। এইডসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই এখন নতুন করে এইচআইভি সংক্রমণ কমছে, এইডসে মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চলতি বছর জেলা পর্যায়ে সমকামী তরুণদের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্টদের। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ১ হাজার ৪৩৮ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯১ জনে, যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২৫ সালে এইডসে ২৫৪ জন মারা যান। অন্যদিকে চলতি বছরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময়েই আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সংক্রমিতদের বড় অংশের বসবাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা ও সিলেট অঞ্চলে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতদের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই শ্রেণিতে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এই হার চলতি বছরে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্ক, পর্যাপ্ত পরীক্ষা সুবিধার সংকট এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অনেক মানুষ এখনো স্বেচ্ছায় এইচআইভি পরীক্ষা করাতে চান না। অন্যদিকে বিদেশগামী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, যা সংক্রমণ শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তুলছে। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও দেখা গেছে এইডস সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র। 

প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইডস সংক্রমণ। চলতি বছরের সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি (এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং)/ এআরটি (অ্যান্ট্রি রিট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টার। আর গত মে মাসে এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গত মাসের শেষ দিকে জেলার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। 

এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর জসিম উদ্দিন জানান, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই এইচএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী। বয়স ১৭ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বরিশালে এসে তারা পড়াশোনা বা বসবাস করছেন।

সিলেট ব্যুরোপ্রধান জানান, জেলায় চলতি বছর ২২ জন এইডস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, সিলেটে ২০২৪ সালে ৩১ জন, ২০২৫ সালে ৬৬ জন এবং ২০২৬ সালের মে মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত ২২ জন এইডস আক্রান্ত হয়েছেন। এটা সেনসেটিভ বিষয় তাই কারণ বলা যাবে না। সিলেটে রোগীদের অ্যান্টিভাইরাল ট্রিটমেট দেওয়া হয়। এইডস আক্রান্ত কেউ হাসপাতালে ভর্তি নেই।

যশোরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ জন এইচআইভি সংক্রমিত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। এর মধ্যে ৯ জন তরুণ শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে সংক্রমিত ও আক্রান্ত হওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো–আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জনই শিক্ষার্থী। যেখানে ২০২৪ সালে মোট আক্রান্ত ২৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন ১২ জন।

রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (সিএস) ডা. বায়েজীদ-উল ইসলাম বলেন, জেলায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১ হাজার ২১৯ জনের স্ক্রিনিং করে ৩৪ জন এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এর মধ্যে পুরুষ ৩১ জনের মধ্যে ৬ জন বিবাহিত ও বাকি ২৫ জন অবিবাহিত। বয়সের হিসাবে ৯ জন ২৫ বছরের নিচে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং সার্ভিস (এইচটিসি) সেন্টার থেকে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ২৪৮ জন এইচআইভি সংক্রমিতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৩৮ জন ও ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে এইচআইভি ধরা পড়েছে। ময়মনসিংহ জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিরা নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দা। 

ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. আবদুল আল মামুন বলেন, এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সমকামী পুরুষ। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, যাদের বেশির ভাগই মেসে থেকে পড়াশোনা করেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এইচআইভি সংক্রমণের বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটে অরক্ষিত যৌন মিলনের কারণে। এইচআইভিতে আক্রান্ত পুরুষের মাধ্যমে স্ত্রীও আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমিত বাচ্চারও জন্ম হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। এইডসে প্রথম মারা যান ২০০০ সালে। বর্তমানে দেশে অনুমিত এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৩১৩ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৫ জন চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছেন, তবে এখনো ২৬ শতাংশ রোগী চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের চিত্রও উদ্বেগজনক। শনাক্ত সংক্রমিতদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ পুরুষ সমকামী, ১৪ শতাংশ পুরুষ যৌনকর্মী, ১২ শতাংশ প্রবাসী, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং ৬ শতাংশ শিরায় মাদক গ্রহণকারী। নারী যৌনকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার ১ শতাংশ করে। বাকি ২২ শতাংশ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের সবচেয়ে বড় অংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। মোট আক্রান্তের ৬২ দশমিক ৬১ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের হার ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণের উপস্থিতি রয়েছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) জানিয়েছে, দেশের ৪১টি জেলায় এখনো এইচআইভি পরীক্ষা চালানো যাচ্ছে না। ফলে দেশের বড় একটি অংশ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট সংক্রমিতদের প্রায় ১৮ শতাংশ এখনো শনাক্ত হয়নি। আবার শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসা গ্রহণ করছেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস) দেখা দেয়। বর্তমানে এই রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর তাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের বিস্তৃতি দেখা গেছে। তারা যেহেতু আমাদের দেশে রয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমাদের সামাজিক ও অসামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ বিস্তারের ঘটনা ঘটে।’

তিনি বলেন, আগে দেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তবে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার সামাজিক লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্যের ভয়ে অনেকেই পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিতে অনাগ্রহী থাকেন। ফলে সংক্রমণ অজান্তেই আরও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

একসময়ে এইচআইভি সংক্রমণ প্রধানত বড় শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা জেলা ও প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেবল চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায়

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায়
নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি কেটে জলাশয়ে পরিণত করেছেন ঠিকাদারের লোকজন। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা সেতুর রেললাইনের সংযোগ উড়াল সেতুর পিলারের নিচে থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন ঠিকাদার। পিলারের নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লক তুলে ফেলা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে মাটি কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাটি কাটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পদ্মা রেলসেতুর সংযোগ রেললাইনের উড়াল সেতুটি রেলওয়ের হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোর। প্রকল্পটির প্রধান নির্মাতা চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। তবে বাংলাদেশের সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে রিংটেক লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান আলীগঞ্জ ভায়াডাক্ট (উড়াল সেতু) নির্মাণে যুক্ত ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এখনো তারা প্রকল্পের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে যাচ্ছে। এমনকি বিক্রি থেকে বাদ যায়নি মাটিও।

গতকাল মঙ্গলবার আলীগঞ্জ উড়াল সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটার কারণে রেললাইনের সংযোগ সেতুর পাঁচটি পিলারের নিচের দুই পাশে মাটি নেই। রেললাইনের ৮৫ নম্বর পিলার থেকে শুরু করে ৮৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত পিলারের প্রায় ১৭৫ মিটার এলাকাজুড়ে গভীর করে মাটি কাটায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লকগুলো তুলে ওপরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর সংযোগ রেললাইনের উড়াল সেতুর পিলারের অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিক পরিচয়ে পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে ট্রাকভর্তি করে দাপা এলাকায় নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে ইটভাটার মালিক কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এবং ফতুল্লা শ্রমিক লীগ নেতা আবু বক্কর তা মানেননি, বরং রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা সিমেন্টের ব্লকও তুলে ফেলা হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তাও। মেম্বার এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে তার ভাটার জন্য তিনি মাটি কিনেছেন। পরে মাটি কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের লোকজন মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। তবে মাটি ফেরত এনে খনন করা গর্ত ভরাট করা না হলে রেল চলাচলের অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। 

ভিডিও দেখে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওইখানে রেলওয়ের লোকজনসহ ঠিকাদারদের মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। রেললাইনের সংযোগ উড়াল সেতুর পিলার রক্ষার পরবর্তী কাজ করবে রেল কর্তৃপক্ষ।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাটি কাটার কোন বৈধ অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির। তিনি খবরের কাগজে বলেন, মাটি কাটার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নথিপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তাদের মাটি কাটার বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন তাই মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি গর্ত ভরাটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

মুঠোফোনে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, রেলওয়ে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মাটি কাটার অনুমতি দেয় না। যারা মাটি কেটেছে তাদের মাটি নেওয়ার চুক্তিও নেই। তাদেরকে মাটি অপসারণের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদনহীন মাটি কাটার বিষয়ে ইতোমধ্যে রেলওয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটিই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।