প্রতিবেশী অথবা সমবয়সী হিসেবে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে কোনো প্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে। অন্য বন্ধুদের চেয়ে ওই বন্ধু একটু অন্য রকম। এ জন্য খাতিরও হওয়া চাই বিশেষ রকমের। বন্ধুত্বের সাধারণ চাওয়া বা দাবিগুলোর সঙ্গে কিছু বিশেষ চাহিদা যোগ করতে হবে। নিতে হবে বিশেষ যত্ন। একটু বাড়তি আন্তরিকতারও দরকার আছে। তাহলেই গড়ে উঠবে এমন একটা সম্পর্ক যেটা আত্মাকে প্রশান্তি দেবে। প্রতিবন্ধী বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য সবার আগে দরকার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। ৩ ডিসেম্বর ছিল বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। কীভাবে প্রতিবন্ধী বন্ধুর পাশে থাকা যায়, জানাচ্ছেন শান্ত শাহরিয়ার।
প্রতিবন্ধী শব্দটি এড়িয়ে চলো: নিজের বন্ধুটিকে যদি আঙুল দিয়ে বার বার দেখিয়ে দাও সে ‘প্রতিবন্ধী’ তাহলে সম্পর্কে ভাটা পড়তে পারে। যদিও প্রতিবন্ধী শব্দটি কোনো নেতিবাচক আপত্তিকর শব্দ নয়। আমরা সবাই একই রকম মানুষ নয়। কেউ ফর্সা, কেউ কালো, কেউ লম্বা, কেউ বেঁটে; কেউ ধূর্ত আর ভীষণ চালাক, কেউ সাদাসিদে সরল মানুষ। প্রতিবন্ধী বলতে আমরা যাদের বুঝি তারা এক ধরনের মানুষ, কোনো অস্বাভাবিক গোত্রের কেউ নয়, আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ।
সীমিত ক্ষমতামানে সম্পর্কের সীমাবন্ধতা নয়: আমরা অনেকেই বলি অন্ধ মানুষ কানে শোনে বেশি। তোমার বন্ধুটির শারীরিক বা মানসিক যে ধরনের ক্ষমতাই কম থাকুক না কেন, বুঝতে হবে অন্য কোনো দিকে ওর প্রতিভা আছে। সেটি আবিস্কার করতে পারলে ওর চেয়ে ভালো বন্ধু আর কোথাও পাবে না। অধিকাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই মানসিকভাবে একটু স্পর্শকাতর, ইংরেজিতে যাকে বলে সেনসিটিভ। একটু যত্ন নিয়ে খেয়াল করলে বন্ধুটির মনের নাগাল পেতে পারো।
সে অন্য বন্ধুদের মতোই: অন্য বন্ধুদের চেয়ে বিশেষ বন্ধুটির সঙ্গে ভিন্নরকম আচরণ করলে ওর ভেতর হীনম্মন্যতা কাজ করতে পারে। আড্ডায় প্রতিবন্ধী বন্ধুটিকেও রাখতে হবে সবার মাঝে। তার সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যেন ও সবার থেকে নিজেকে অন্যরকম ভাবা শুরু করে। আমরা সবাই বন্ধু, বন্ধুত্বের কোনো রকমফের নেই- এমন মনোভাব ওর ভেতর গড়ে তুলতে পারলে ব্যাপারটা অসাধারণ হবে।
বন্ধুটির সীমাবন্ধতা মেনে চলা: বন্ধুরা সবাই জড়ো হলো একসঙ্গে, সঙ্গে ভালোভাবে হাঁটতে না পারা বন্ধুটিও আছে। সবাই মিলে ফুটবল খেলতে নেমে পড়লে। দর্শক হওয়া ছাড়া প্রতিবন্ধী বন্ধুটির কিছু করার নাই এখন; এ রকম না হয়ে এমন কোনো খেলায় মাতো যেন ওই বন্ধুটিও খেলতে পারে।
ভ্রমণ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার: বন্ধুরা সবাই মিলে ঘুরতে যাবে। অথবা কোথাও হয়তো নিমন্ত্রণ আছে। এ রকম সময়ে প্রতিবন্ধী বন্ধুটি কীভাবে যাবে, তার সুবিধা অসুবিধা মনে রাখটা জরুরি। বন্ধুরা মিলে কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনায়ও তার সুবিধা অসুবিধাটা মাথায় রাখা দরকার।
বন্ধুর পছন্দের মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখা: প্রতিবন্ধী বন্ধুটির পছন্দ অপছন্দের দিকে একটু নজর রাখা ভালো। জন্মদিন ছাড়াও হয়তো অন্য কোনো দিনকে সে খুব পছন্দ করে। হতে পারে পহেলা বৈশাখ বা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলা দেখা। এই মুহূর্তগুলোতে তাকে একটু বাড়তি ভালোবাসা দিলে সে অনুপ্রেরণা পাবে। কোনো কাজে প্রতিবন্ধী বন্ধুটি ভালো করলে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুললে চলবে না।
ভুল বোঝাবুঝি চলবে না: বন্ধুদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু মনে রেখো বিশেষ বন্ধুটি হয়তো একটু বেশি ‘সেনসিটিভ’। কোনো একটি বিষয়ে সে ভুল বুঝলে সেটা তার মাথা থেকে বের করা হয়তো কঠিন হতে পারে। তুমি কোনো অনুষ্ঠানে তাকে নিমন্ত্রণ করলে, কিন্তু সুযোগ থাকার পরেও সে এলো না; তখন মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ রকম ঘটনায় মনে রাখতে হবে প্রতিবন্ধী বন্ধুটির নিজেরই হয়তো মন খারাপ ছিল। তুমি টেক্সট করেছ কিন্তু বন্ধুটি হয়তো সাড়া দেয়নি। এ রকম হলে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বসো না।
জাহ্নবী