ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

চীনের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? জানুন বিস্তারিত

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৫, ১১:২২ এএম
আপডেট: ০৪ মে ২০২৫, ১১:৫২ এএম
চীনের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? জানুন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় নজর দিলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় তা হলো, প্রায় প্রত্যেকটি দেশেরই সামরিক শক্তি অভাবনীয়। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অথবা কথিত সেই দুঃস্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখতে পাওয়া যায়, বিশ্ব মোড়লরা কীভাবে তাদের সামরিক শক্তির ঝুলি দিন দিন আরও ভারী করছে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় অদৃশ্য এক কোণে বসে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে কিছুটা অর্থপূর্ণ দৃষ্টি রাখার প্রচেষ্টাই ‘সামরিক শক্তির আদ্যোপান্ত’ সিরিজ। এই লেখা সামরিক খাতে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনকে নিয়ে।

ব্যাপক বিবর্তনের পর চীনের সামরিক শক্তির বর্তমান অবস্থান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমীহ অর্জন করে নিয়েছে। আধুনিকায়নের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার কারণে দেশটির সামরিক বাহিনী এখন বেশ শক্তিশালী।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
চীনের সেনাবাহিনীর গোড়াপত্তন হয় ১৯২৭ সালে সংঘটিত চীনা গৃহযুদ্ধের সময় পিপলস্ লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) গঠনের মাধ্যমে। এই দল শুরুতে গেরিলা যুদ্ধ করলেও পরে ১৯৪৯ সালে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে গতানুগতিক সামরিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠিত হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত কোরীয় যুদ্ধে এই সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে সমর্থ হয়। এর পর কয়েক দশক দেশটির পারমাণবিক বোমা তৈরিতে মনোনিবেশ করে। ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমা ও ১৯৬৭ সালে হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ১৯৭৮ সালের পর থেকে প্রযুক্তির অভাবনীয় আধুনিকায়নের কারণে দেশটির সামরিক খাতে ব্যাপক রদবদল ঘটে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে চীনের বর্তমান সামরিক বাহিনী বিশ্বের যেকোনো দেশকে টেক্কা দিতে সক্ষম।

আধুনিক সামরিক সক্ষমতা
চীনের সামরিক খাতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রেই লেগেছে। সেনার সংখ্যা বাড়ানো থেকে শুরু করে, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, বিমান খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক খাতে চীনের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়।

দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ সামরিক সদস্য সরাসরি কর্মরত। সংকটাপন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাখা হয়েছে আরও ৫ লাখ সদস্য। এ ছাড়া আধাসামরিক বাহিনীগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ সদস্য রয়েছেন।

সেনাবাহিনী
চীনের সেনাবাহিনী অতীতে জনবলনির্ভর হলেও, বর্তমানে তারা সামরিক খাতে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনের বিষয়ে বেশি নজর দিয়েছে। সেনাবাহিনীর রয়েছে প্রায় সাত হাজার ট্যাঙ্ক। এর মধ্যে আধুনিক টাইপ ৯৯-এ ও টাইপ ৯৬ ট্যাঙ্ক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিশ্চিতে জেবিডি-০৪এ’র মতো শক্তশালী সাজোয়াঁ যান রয়েছে তাদের। এমনকি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা কমাতে চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তির সফল ব্যবহার করছে চীনের সেনাবাহিনী। এ ছাড়া আক্রমণ মোকাবিলায় অস্ত্রের আধুনিকায়ন ও যুদ্ধে দ্রুত অবতরণের উদ্দশে আরও আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টায় রয়েছে চীনা সেনাবাহিনী।

নৌবাহিনী
জাহাজের সংখ্যা বিবেচনায় চীনের নৌবাহিনী বিশ্বে সর্ববৃহৎ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকেও হার মানিয়েছে চীন। লিয়াওনিং, শানডং ও ফুজিয়ানের মতো এয়ারক্রাফটের পাশাপাশি তাদের রয়েছে বেশকিছু শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ।

চীনের টাইপ-০৫৫ জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের এইজিস যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে তুলনা করেন অনেকে। এ ছাড়া টাইপ-০৫৪এ জাহাজের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস উঠাতে প্রস্তুত চীনের নৌবাহিনী।

এদিকে চীনের নৌবহরে ৭০টি শক্তিশালী সাবমেরিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আবার পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন। এই জাহাজগুলো ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ জাহাজকে নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়া টাইপ-০৯৪ সংস্করণের জাহাজটিও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে বেশ কার্যকর।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রভাব বাড়াতে নির্দিষ্ট সমুদ্রাঞ্চলের বাইরেও ক্ষমতার প্রতিফলন দেখাতে চায় প্রায় সব দেশ। এই বাস্তবতা হজম করে নিলে চীনের নৌ-খাতকে বেশ সফলই বলতে হয়।

বিমানবাহিনী
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমানবহরের অধিকারী চীনের বিমানবাহিনী। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে দেশটি তাদের বিমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার আক্রমণের সক্ষমতা সংস্থাপনের বেশি নজর দিচ্ছে। বর্তমানে চীনের বিমানবহরে রয়েছে জে-২০ মাইটি ড্রাগনের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় এফ-২২ ও এফ-৩৫ বিমানের সঙ্গে টেক্কা দিতে সক্ষম চীনা প্রযুক্তির এই আকাশযান। এ ছাড়া জে-১৬ ও যে-৩৫ সংস্করণের বিমানগুলোও যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। 

বোমা নিক্ষেপের জন্য চীনের রয়েছে বিশেষায়িত বিমান। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত এইচ-৬কে সংস্করণের বিমানটি রুশ টু-১৬ বিমানের মডেল থেকে অনুপ্রাণিত।

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে সামরিক সদস্যদের উদ্ধারের জন্য বেশকিছু বিমানের পাশাপাশি আধিনিক এআই যুদ্ধেও এগিয়ে আছে চীন। এর মধ্যে উইং লুং ও সিএইচ সিরিজের বিমানগুলো উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, নজরদারির মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে থাকতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সোয়ার্ম ড্রোন ব্যবহার করছে চীনা বিমানবাহিনী। এমনকি বিমান মাটিতে অবতরণ না করিয়েই জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটি।

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা
চীনের ক্ষেপণাস্ত্রের বহর বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। ডিএফ-৪১’র মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল থাকায় ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রেও আঘাত হানতে সক্ষম চীন। এ ছাড়া ডিএফ-৩১এ’র মতো মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করতে পারে চীন।

এ ছাড়া ডিএফ-১৭ সংস্করণের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সক্ষম চীন।
দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের বহরে সংঘটিত সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নজরে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের স্থাপন করেছে চীন।  

পারমাণবিক সক্ষমতা
চীনের পারমাণবিক খাত খুব দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৬০০ পারমাণবিক বোমা রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা হাজারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বোমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘কঠোর ধৈর্যের’ বিষয়টি মেনে চলে চীন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ব্যতীত স্বপ্রণোদিত হয়ে বোমা নিক্ষেপের বিপক্ষে বেইজিংয়ের পারমাণবিক নীতি। তবে পারমাণবিক খাতে চীনের অত্যধিক নির্ভরতা বিশ্বের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত ভূরাজনোইতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে প্রতিপন্ন করতে মরিয়া চীন। যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে বিশ্বজুড়ে বেইজিংয়ের আধিপত্য আদৌ কখনো বাস্তবায়ন হবে কি না, হলেও তা নব্য সাম্রাজ্যবাদের পথ এড়িয়ে শান্তির দিকে আগাতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মনে।

সূত্র: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইন্ডেক্স, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সিএনএন, হাডসন অর্গানাইজেশন, রয়টার্স, আর্মি ইউ প্রেস

অমিয়/

ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসার। তবে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ডারাক্সোনরাসিব নামের একটি ওষুধ।

গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম এই ওষুধ।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যান্সারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের পর একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশা জাগিয়েছে ডারাক্সোনরাসিব।

৫০০ রোগীর ওপর এ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীরা সবাই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন, যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডারাক্সোনরাসিব নামের ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম ছিল।

ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি বিশেষভাবে ক্রাস নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ প্রোটিন প্রায় সব ধরনের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওষুধটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার মধ্য দিয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড বলেছেন, এটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় তার দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর একটি।

হ্যানফোর্ড বলেন, অনেক দিন ধরেই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল এবং বেঁচে থাকার হারও উদ্বেগজনকভাবে কম ছিল। কার্যকারিতা পরীক্ষায় ওষুধটি গুরুতর পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করার যে সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওষুধের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমান/

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কির উদ্যোগে ২০১৮ সালে ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

তারপর থেকে প্রতিবছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় দিবসটি। মঙ্গলবার (৩ জুন) বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সাইকেল দিবস। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সাইকেল রাইড সংগঠনগুলো নিয়েছে নানা কর্মসূচি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি, তিনি বাইসাইকেল নিয়ে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ বিশ্বে সাইকেলের সমর্থনে একটি দিন নির্ধারণ করা।

২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবে তুর্কমেনিস্তান ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল এবং প্রায় ৫৬টি দেশ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।

সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য মূলত এই দিবস উদযাপন করা হয়। সাইকেল এমন একটি যানবাহন যা ধনী থেকে গরিব সবাই বহন করতে পারে। এটি বায়ু দুষণ কমায় এবং যানজট কমায়।

গবেষণা বলছে, যদি শহরের ১০% যাত্রা সাইকেলে হয়, তাহলে একটি মাঝারি শহরের কার্বন নির্গমন বছরে প্রায় ১১% কমতে পারে।

সাইকেলে চড়ে কেউ জীবিকার তাগিদে বের হন। কেউবা আবার বের হন মনের ক্ষুধা মেটাতে, রোমাঞ্চের খোঁজে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। কারও কারও কাছে সাইকেল মানে স্বাধীনতা। আপন ভুবনে নিজের মতো করে চলা এবং সব বাধা ঠেলে সামনে এগিয়ে চলা।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

তামান্না রুপা/আমান

গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, আর তীব্র গরমে দিশেহারা মানুষ এবং প্রাণীকুল। এছাড়া নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। তবে এমন গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম ‘হিট স্ট্রোক’। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়। শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় তখন জরুরি অবস্থাকে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন—

(১) শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগী, স্ট্রোক বা ক্যান্সারজনিত রোগে যারা ভোগেন, এমনকি যেকোনো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

(২) যারা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

(৩) শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

(৪) কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়।

এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো—

(১) শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।

(২) ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।

(৩) ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।

(৪) নিশ্বাস দ্রুত হয়।

(৫) নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

(৬) রক্তচাপ কমে যায়।

(৭) খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।

(৮) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।

(৯) রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—

(১) হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।

(২) যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।

(৩) বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।

(৪) বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

(৫) প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

(৬) তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।

(৭) রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর রোদ থেকে সরে গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর লবণযুক্ত পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—

(১) দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।

(২) ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।

(৩) প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাদের করণীয় হলো—

(৪) রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।

(৫) তার কাপড় খুলে দিন।

(৬) শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।

(৭) সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।

(৮) রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন।

(৯) দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

(১০) সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। হিট স্ট্রোকে জীবন বিপন্ন হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারেন। গরমের এই সময়টায় সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

(১১) গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারা যেন রোদের মধ্যে অনেক বেশি দৌড়ঝাঁপ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

আরো পড়ুন>>

দিনাজপুরে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আমান/

 

হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তরুণ পাইলট ডেভ ফিজি। ২৬ বছর বয়সী ডেভ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে হানিমুনে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভ ফিজি ও তার স্ত্রী জেসনির বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জর্জিয়ার ডসনভিলে। প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে বিশেষভাবে বিদায় জানাতে তারা রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে করে ডিক্যালব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তাদের আটলান্টার একটি হোটেলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ডসন কাউন্টির একটি দুর্গম বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ডেভ ফিজি ও হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান নববধূ জেসনি।

ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, দুর্ঘটনার আগে তার ছেলে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একজন পাইলট হওয়ায় তিনি হেলিকপ্টার চালককে বলেছিলেন, দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উড্ডয়ন করা হয় না। তবে পাইলট নাকি জানিয়েছিলেন, উঁচু উচ্চতায় উড়ে গেলে সমস্যা হবে না।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ সময় নেয়। 

ডেভের বাবা জানান, আহত জেসনি প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, ডেভ তার বুকের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। একজন নার্স হওয়ায় জেসনি বুঝতে পারেন, তার স্বামী তখন আর বেঁচে নেই।

বর্তমানে জেসনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও এখনো চূড়ান্ত কারণ জানা যায়নি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন ডেভ ফিজি। তাদের আদি নিবাস কেরালায়। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ
ছবি: সংগৃহীত

চীনের এক নারী ভুলভাবে করা কসমেটিক অস্ত্রোপচারের কারণে গত কয়েক বছর ধরে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছেন না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও তার চোখ খোলা থাকে। পাশাপাশি সারাক্ষণ চোখ দিয়ে পানি পড়া, মানসিক চাপ এবং অনিদ্রার মতো জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের সুজৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং নামের ওই নারী ২০২০ সালে একটি বিউটি ক্লিনিকে ‘ডাবল আইলিড’ বা দ্বৈত চোখের পাতার অস্ত্রোপচার করান। এ জন্য তিনি প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান খরচ করেন। 

অস্ত্রোপচারের পরপরই তার চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা অস্বাভাবিকভাবে উল্টে যায় এবং চোখে তরল জমতে থাকে। পরে জরুরি তাকে বড় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, অস্ত্রোপচারের সময় তার অশ্রুগ্রন্থি (ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো অপারেশনই ভুল পদ্ধতিতে করা হয়।

পরে আবার অস্ত্রোপচার করা হলেও তার চোখের পাতা আর স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়নি। ফলে ঘুমের সময়ও চোখ খোলা থাকে এবং নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, যিনি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তার কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছিল না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটিরও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ওয়াং জানান, এই ঘটনার পর তার স্বাভাবিক জীবন প্রায় ভেঙে পড়েছে। চেহারার পরিবর্তনের কারণে তিনি মানুষের সামনে যেতে সংকোচ বোধ করতেন। কর্মজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হতাশা ও অনিদ্রায় ভুগেছেন। ২০২২ সালে স্থানীয় ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থাকে স্থায়ী অক্ষমতার একটি স্তর হিসেবে মূল্যায়ন করে।

পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ক্ষতিপূরণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা নতুন করে শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের এক রায় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এখনও আলোচনায় রয়েছে।

এই ঘটনা আবারও চীনের কসমেটিক সার্জারি খাতের নিরাপত্তা, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/