মনোযোগ, অধ্যবসায় আর নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একজন শিক্ষার্থীকে বড় গবেষক হতে সাহায্য করে। এসব গুণ নিয়ে ইমাম হাসান আল আমিন এগিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাবনার দিকে। ইতোমধ্যেই অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। ইমাম হাসান আল আমিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) বিভাগের ফলাফল এবং গবেষণার দক্ষতা দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। আজকের দিনে যখন অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী, তখন আল আমিন দেশের মাটিতেই প্রমাণ করেছেন- উচ্চমানের গবেষণা এখানেও সম্ভব। আর এর জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও দৃঢ়প্রত্যয়।
শিক্ষাজীবনের শুরু
আল আমিন ২০১৮ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন। বিএসসিতে তিনি ভালো ফল করেন। তার সিজিপিএ ছিল ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৭২। এর পর মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে প্রথম টার্মেই সিজিপিএ ৩.৯৬ পেয়ে সবাইকে চমকে দেন। কিন্তু এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। আরও ভালো গবেষণার সুযোগ পেতে তিনি বুয়েটে ভর্তি হন।
বুয়েটে অসাধারণ সাফল্য
বুয়েটে মাস্টার্সে তিনি প্রথম টার্মে সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তার নম্বর ছিল ৯৮.৭৫%। দ্বিতীয় টার্মেও একই রেজাল্ট। এবার নম্বর ৯৯.৩৩%! দুই টার্ম মিলে গড় নম্বর ৯৮.৯৪%, যা ১৯৮৬ সাল থেকে দেশের শীর্ষ ১%-এর মধ্যে স্থান করে নেয়।
গবেষণায় অগ্রগতি
বর্তমানে তিনি বুয়েটের আরআইএসই (Research and Innovation Centre for Science and Engineering)-এ ‘পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ফেলো’ হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করেছিলেন। ইতোমধ্যে তার ৫টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের পথে। বিভিন্ন কনফারেন্সে আরও ১১টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়া ১৪টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন।
ইমাম হাসান আল আমিনের এই যাত্রা কেবল শুরু। তার ভবিষ্যৎ গবেষণা এবং একাডেমিক অর্জন যে বাংলাদেশের বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মতো শিক্ষার্থীর গল্প আমাদের বলে- সত্যিকারের স্বপ্ন আর প্রচেষ্টা থাকলে সফলতার পথ নিজেই তৈরি হয়ে যায়।
লেখক: শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
/রিয়াজ